kalerkantho


ডলারের বিপরীতে রুপি টাকা দুই-ই দুর্বল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:০৯



ডলারের বিপরীতে রুপি টাকা দুই-ই দুর্বল

শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতের মুদ্রাবাজারেও সবল হচ্ছে ডলার। তিন মাস পর সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরো কিছুটা পড়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে আন্ত ব্যাংক ডলারের দর ৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত আমদানি দায় শোধ করতে এ হার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে ডলারের দর নিচ্ছে ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ডলারের দর ছিল ৮০ টাকা ৮০ পয়সা। সেই হিসেবে এক বছরে ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা মান হারিয়েছে তিন টাকা।

জানা গেছে, কিছু ব্যাংকের আমদানি দায় বেশি হওয়ায় ডলারের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস  অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যাংক যাতে উদ্ধৃত দরের থেকে বেশি দরে ডলার বিক্রি করতে না পারে সে জন্য নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাফেদা সভাপতি বলেন, ‘কয়েকটি ব্যাংকের রপ্তানি আয়ের থেকে আমদানি দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে অনেক বেশি। ওই ব্যাংকগুলো যখন ডলারের জন্য অন্যান্য ব্যাংকের কাছে যাচ্ছে তখন ব্যাংকগুলো ডলারের দর বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অভিযোগও করেছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার আমদানি পর্যায়ের ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৮৩ দশমিক ৮৫ টাকা। তবে সাধারণ মানুষ, যারা ভ্রমণ বা অন্যান্য প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের এক ডলার কিনতে হচ্ছে ৮৬ টাকা বা এর কিছু বেশি দরে। দেশের ব্যাংকগুলোতে গতকাল নগদ ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা।

সম্প্রতি ভারতে ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতনের কারণে বাংলাদেশও ডলারের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় ধরে রাখতে টাকার মানে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আরো কয়েক দিন এমন প্রবণতা চলবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম নির্দিষ্ট করে দেয়। ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়, ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সার বেশি দামে আমদানি দায় শোধ করা যাবে না। এ জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ডলার বিক্রি করে, তার দামও ছিল ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

গত ২৮ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডলারের দাম এভাবেই আটকে রেখেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। একই সময়ে বাজারের সংকট সামলাতে ব্যাংকগুলোর কাছে ২০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে তারা। গত বুধবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ১৯৭ কোটি ডলার।

জানা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে ডলারের সংকট শুরু হয়। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের তুলনায় আমদানি দায় বেশি হওয়ায় এ সংকটের সূত্রপাত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে দেশে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ১২.১৪ শতাংশ। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি রয়েছে ২৭ কোটি ডলার।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সোমবার এক ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দর দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক শূন্য ৬ রুপি। চলতি বছরের শুরুতে যা ছিল ৬৩ দশমিক ৮৮ রুপি। ভারতীয় পত্রিকা বিজনেস টুডের হিসাবে এ হিসাবে এ বছর রুপির মান কমেছে ১৩ শতাংশ। রুপির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ দরপতন।

এদিকে ডলারের মতো বাংলাদেশি মুদ্রা বিপরীতেও রুপি দুর্বল হয়ে পড়েছে। গতকাল দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি রুপির দর ছিল এক টাকা ১৪ পয়সা। গত বছরের এই সময়ে এক রুপি কিনতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হতো এক টাকা ২৩ পয়সা।



মন্তব্য