kalerkantho


বালিয়ামারী সীমান্ত হাট

বৈধ বিক্রেতা না হয়েও তারা পণ্য বিক্রি করে

ছয়জন মিলে ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তাঁরা কেউই হাটে বৈধ বিক্রেতা নন

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম    

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:২৭



বৈধ বিক্রেতা না হয়েও তারা পণ্য বিক্রি করে

কুড়িগ্রামের বালিয়ামারী বর্ডার হাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। বাবু মিয়া, ফরিজল হক, সফিয়াল হক, আশরাফুল মুন্সি, ওমর আলী ও জাবেদ আলী নামের ছয়জন মিলে এই ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তাঁরা কেউই হাটে বৈধ বিক্রেতা নন। এই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা পণ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে না।

এই সিন্ডিকেট প্রতি হাটে অবৈধভাবে অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে। এ জন্য তারা হাটে দায়িত্ব পালনকারী কাস্টমস কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা বিজিবি জোয়ানদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে। সম্প্রতি হাটে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা ও হাটসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সীমান্ত হাটে ভারতীয়দের প্রথম পছন্দ শুকনো সুপারি। বাংলাদেশ থেকে শুকনো সুপারি বিক্রির অনুমতি দেয় হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি। তবে প্রতি হাটে একজন বিক্রেতা সর্বোচ্চ আট বস্তা (৮০ কেজি ওজন) বিক্রি করতে পারে। হাটে নির্ধারিত ২৫ জন বিক্রেতা রয়েছে, যারা প্রতি হাটে জনপ্রতি আট বস্তা করে সুপারি বিক্রি করতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বিক্রেতারা হাটে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে থাকে। গত বুধবার তারা অবৈধভাবে প্রায় ২০০ বস্তা সুপারি বর্ডার হাটে বিক্রি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিক্রেতা বলেন, ‘আমগর আট বস্তার ওপর হাটে নিবার দেয় না। অথচ ওই ছয়জন অবাধে অবৈধভাবে হাটে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করছে। তারা ‘চা খরচ’ নামে বস্তাপ্রতি ৪০০ টাকা করে উঠিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা, পুলিশ ও বিজিবি জোয়ানদের ম্যানেজ করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটের এক ক্রেতা জানান, সিন্ডিকেটের সদস্য ওই ছয় ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ কোনো বিক্রেতা নিয়মের বাইরে কিছুই করতে পারে না। বর্তমানে শুকনো এই সুপারিতে প্রচুর লাভ হয়। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা যায় ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে। হাটে চাহিদা এত বেশি যে এক দিনে ১০ হাজার বস্তা সুপারি তুললেও তা বিক্রি হয়ে যাবে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, হাটে কাস্টমস কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বেশির ভাগ সময়েই তিনি অনুপস্থিত থাকেন। কাস্টমস অফিসের দুই সিপাহি আব্দুল মান্নান ও রুবেল মিয়াকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হয়। জানা গেছে, দেশে শুকনো সুপারির চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আমদানি করা ওই সব সুপারি শুল্ক, কর ও ভ্যাট ছাড়াই সীমান্ত হাটে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সীমান্ত হাটে আমদানি করে আনা ওই সব শুকনো সুপারি বিক্রির কোনো অনুমতি নেই। হাটে মূলত স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ের কথা।

এ প্রসঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি এটা ঠিক। কিন্তু বর্ডার হাটে যেসব শুকনো সুপারি বিক্রি করা হয় তা দেশে খাওয়ার অযোগ্য। এ কারণে ওই সব নষ্ট-পচা সুপারি হাটে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছে হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি।’ তবে ওই কর্মকর্তা বস্তাপ্রতি ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না যে আমরা ঘুষ গ্রহণ করেছি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে সীমান্ত হাটে নিরাপত্তা প্রদানকারী বাঘারচর কম্পানি সদরের কম্পানি কমান্ডার সুবেদার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত আমরা হাটে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখি। একই সঙ্গে অবৈধ কোনো পণ্যসামগ্রী আদান-প্রদান হয় কি না সেদিকে নজর রাখতে হয়। বিজিবি জোয়ানাকে চা খরচ দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা।’

সিন্ডিকেটের নায়ক বাবু মিয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা হাটের বৈধ বিক্রেতা নই এটা সত্য। আমরা হাটে যেসব পণ্যসামগ্রী বিক্রি করি তা বৈধ বিক্রেতার নামে দেখানো হয়। অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করি কাস্টমস কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই।’

হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘বৈধ বিক্রেতা নয়, এমন কেউ হাটে পণ্য বিক্রি করছে, এমন তথ্য আমার জানা নেই। এর পরও আমি খোঁজ নেব।’



মন্তব্য