kalerkantho


অক্টোবর থেকে পুরোদমে পণ্য খালাস

আন্তর্জাতিক বন্দর হবে পায়রা

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)    

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:২৩



আন্তর্জাতিক বন্দর হবে পায়রা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা সমুদ্রবন্দর। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে তিন অর্থবছরে ৪২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করেছে পটুয়াখালী পায়রা কাস্টম হাউস। সড়ক, প্রশাসনিক ভবন এবং জেটি নির্মাণ কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যে চলছে এই বন্দর থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর জন্য চীন থেকে ৫৩ হাজার টন পাথর নিয়ে আসে ‘মাদার ভেসেল এমভি ফরচুন বার্ড।’ পায়রা বন্দরে আসা ওই জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে পুরোদমে পণ্য খালাস হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পটুয়াখালী সহকারী কমিশনার পায়রা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পায়রা বন্দর থেকে ২১টি মাদার ভেসেলের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে তিন অর্থবছরে কাস্টম হাউস ৪২ কোটি ৩৬ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৭ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১০টি জাহাজ থেকে ১৮ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ৬৩১ টাকা এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১০টি জাহাজ থেকে ২০ কোটি ৯৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮২ টাকা এবং চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে গত ১২ আগস্ট চীন থেকে একটি মাদার ভেসেলে আসা ২২ হাজার মেট্রিক টন পাথর খালাসের মাধ্যমে দুই কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৪ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

বর্তমানে পায়রা সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য পাথর এবং ভারী যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। সড়ক পথে পণ্য পরিবহন করার জন্য জেটি এবং সড়ক নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সে লক্ষ্যে মহাসড়কের রজপাড়া থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত পাঁচ দশমিক ৬০ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা ২৫৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি পায়রা বন্দরের টার্মিনাল থেকে খালাসকৃত মালপত্র পরিবহনের লক্ষ্যে নদীতে সংযোগ সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ আনুমানিক ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি জেটিসহ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য তিন হাজার ৯৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এম জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ১০টি প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের মধ্যে পায়রা বন্দর একটি। ২০২০ সালের মধ্যে পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে ২০২১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে পুরোপুরি চালু করা হবে।

পটুয়াখালী ও কলাপাড়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে সম্মেলনে তিনি আরো জানান, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর একনেক কর্তৃক অনুমোদন করা হয়। এ জন্য প্রথম পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) বরাদ্দ ছিল এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ওই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৪২৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের সংশোধিত মূল্য বাবদ এক হাজার ২২২ কোটি আট লাখ ৮৮ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া নির্মাণাধীন পায়রা বন্দর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য এক হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রশিক্ষিত এসব জনশক্তি বন্দরের নানা কাজে অংশগ্রহণ করে লাভবান হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ১৮ থেকে ৩৫ বছরের চার হাজার ২০০ জনকে এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ৩৫টি শ্রেণিতে কারিগরি ও কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের কর্মসংস্থান যেমন হবে তেমনি তাদের জীবন-জীবিকাও এগিয়ে যাবে। গত ২০ মার্চ বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন কাজের জন্য তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।

তিনি আরো জনান, ২০২০ সালের মধ্যে ক্যাপিটাল এবং মেনটেইন্যান্স ড্রেজিং এবং কয়লা টার্মিনাল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে ২০২১ সাল থেকে পায়রা বন্দর আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে পুরোপুরি চালু করা হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সমুদ্রবন্দর হিসেবে পায়রা বন্দর রূপান্তরিত হবে। বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, পায়রা বন্দরের মূল চ্যানেলে ক্যাপিটাল এবং মেনটেইন্যান্স খননকাজের জন্য গত ১৯ মার্চ মন্ত্রিসভা কর্তৃক জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প (এনপিপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ অগ্রাধিকার প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। ভারত সরকারের লাইন অফ ক্রেডিট-৩ এর আওতায় বাস্তবায়নের নিমিত্তে ৫৫২ মিলিয়ন ডলার প্রাক্কলিত ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে।



মন্তব্য