kalerkantho


‘বাংলাদেশের এসডিজি অর্জন : ব্যাংক খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার

ব্যাংক খাতের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক বাড়াতে হবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:১৩



ব্যাংক খাতের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক বাড়াতে হবে

ছবি অনলাইন

ব্যাংক খাতের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। অনেক সূচকে পিছিয়ে থেকেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কার ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের যেখানে ব্যাংক হিসাব আছে, সেখানে বাংলাদেশের আছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশের একটু বেশি। বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের দেশ ভারতে এই হার ৫৩ শতাংশ। আবার মালয়েশিয়ার প্রায় ৩১ শতাংশের বেতন হয় ব্যাংকে, বাংলাদেশে ২ শতাংশের কম। শ্রীলঙ্কার ৭ শতাংশের বেশি সরকারি-বেসরকারি কর্মী বেতন পায় ব্যাংকের মাধ্যমে। একইভাবে ডেবিট কার্ড ব্যবহার, সঞ্চয়, আর্থিক অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কম বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সেমিনারে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশের এসডিজি অর্জন : ব্যাংক খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন সিদ্দিকী।

সেমিনারে এসডিজি অর্জনে ব্যাংক খাতের সঙ্গে আরো অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বক্তারা। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্মস অ্যাডভাইজার সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী বলেন, এসডিজি তথা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্কুল ব্যাংকিং, কৃষকের ১০ টাকার হিসাব এবং এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা ব্যাংক খাতের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। এ সম্পৃক্ততা এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যাতে পর্যাপ্ত ঋণ যায় সেদিকেও নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, অর্থনীতিতে দুর্নীতির কারণে জিডিপির ২ শতাংশ ক্ষতি হয়। আর যানজটের কারণে ক্ষতি আরো ২ শতাংশ। এ দুটি বন্ধ হলে জিডিপি ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ১১ শতাংশের বেশি। এদিক বিবেচনায় এসডিজি অর্জনে দুর্নীতি এবং যানজট দুটিকে কমিয়ে আনতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক চেয়ার প্রফেসর এস এ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলোর ঋণের ৮৫ শতাংশ ঢাকা এবং চট্টগ্রামে দেওয়া হয়। এটি এসডিজি অর্জনে বড় অন্তরায়। তিনি বলেন, বেনামি ঋণও এসডিজি অর্জনে একটি বাধা। একই সঙ্গে ব্যাংক অর্থায়নের লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট। এটি দূর করে ব্যাংক খাতে ৩০ শতাংশ নারীকর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, প্রকৃত কৃষকরা যাতে ঋণ পায় সেদিকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে। প্রকৃত কৃষকদের হাতে ঋণ দিতে পারলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অনেকাংশে বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, টেকসই উন্নয়নে ব্রাঞ্চ ব্যাংকিংয়ের চেয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওপর জোর দিতে হবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রতি পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে একটি করে ব্যাংকের শাখা খোলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তা লাভজনক না হওয়ায় বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন হলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ভর্তুকি দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরীর সভাপতিত্বে ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি এবং সিইও ফারুক মঈনুদ্দিন আহমেদ; এনআরবি ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মো. মেহমুদ হোসেন, বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী বক্তব্য দেন।



মন্তব্য