kalerkantho


এন্টারপ্রেনারশিপ সাপোর্ট ফান্ডের ঋণ আবেদন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:২২



এন্টারপ্রেনারশিপ সাপোর্ট ফান্ডের ঋণ আবেদন শুরু

সম্ভাবনাময় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে চালুও হওয়া তহবিলটির নাম এ নিয়ে তিন দফা পরিবর্তন করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তৃত্বে শুরু হলেও ২০০৯ সাল থেকে এই তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেল ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এখন আবার এই তহবিলের ঋণ আবেদন গ্রহণে দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিবি ভাগাভাগি করে নিল।

২০০০-০১ অর্থবছরে ইক্যুয়িটি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) নামে চালু হওয়া এই তহবিল পরবর্তীতে ইক্যুয়িটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ফান্ড (ইইএফ) বা সমমূলধন তহবিল নামে পরিচিতি লাভ করে। পুঁজির মডেলে পরিচালিত এই তহবিল কাঙ্ক্ষিত সুফল আনতে না পারায় সম্প্রতি এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে এন্টারপ্রেনারশিপ সাপোর্ট ফান্ড (ইসিএফ)। এবার এই তহবিল পরিচালিত হচ্ছে সরল সুদের ঋণ মডেলে। দুই থেকে আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে এই তহবিল থেকে অর্থ সহায়তা বন্ধ থাকার পর গত ১২ আগস্ট থেকে নতুন নামে শুরু হয়েছে  ফের আবেদন নেওয়া। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের ঋণের আবেদন নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইসিটিভিত্তিক শিল্পের ঋণ প্রকল্পের আবেদন নিচ্ছে আইসিবি।

তবে ভোটের আগে ইসিএফ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়ার আবেদন গ্রহণ শুরু করায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংক খাতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোটের আগে স্বল্প সুদের এই তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হওয়ায় এই ঋণ পাইয়ে দিতে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা দেনদরবার শুরু করেছেন। নির্বাচন কেন্দ্রিক ব্যয় পরিচালনার জন্য এ নিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্যেরও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালে ইইএফ নিয়ে কাজ করেছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এত তাড়াহুড়ো করে নতুন নামে এই তহবিলের ঋণ আবেদন গ্রহণ যুক্তিযুুক্ত নয়। এটা নিয়ে আরো বিচার-বিশ্লেষণ করার দরকার ছিল। প্রয়োজনে আরো পাঁচ-ছয় মাস পরে এটা চালু করা যেত। এর আগে স্টার্টআপ ফান্ড নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা যেত।’

ড. সালেহউদ্দিন আরো বলেন, ‘এই তহবিলটি নিয়ে অনেক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এখন আবার তড়িঘড়ি করতে গিয়ে এই তহবিলের অর্থ আটকে যেতে পারে। এটা তো জনগণের টাকা। এই টাকার অপচয় কাম্য হতে পারে না।’

জানা গেছে, তহবিল থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিভিত্তিক খাতের প্রকল্প ব্যয় সর্বনিম্ন আট লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা এবং যন্ত্রপাতি নির্ভর প্রকল্পর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রকল্প ব্যয় ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আইসিটি প্রকল্পের জন্য সর্বনিম্ন প্রকল্প ব্যয় ৫০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে।

আবেদন গ্রহণ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি আবেদন পড়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ ইউনিটে জমা পড়া এসব আবেদনও চলে যাচ্ছে আইসিবিতে। আর আইসিবির মূল্যায়ন কমিটি আবেদন মূল্যয়ান করে প্রকল্পগুলোর অনুকূলে অর্থ ছাড় করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু এই আবেদনগুলো গ্রহণ করার দায়িত্ব পালন করছে।

এই ঋণের সুদহার হবে ২ শতাংশ এবং তা হবে সরল সুদ। এই তহবিল থেকে নেওয়া ঋণের মেয়াদও হবে আট বছর। গত রবিবার ইএসএফ পরিচালনার জন্য নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ইএসএফ থেকেও উদ্যোক্তাদের মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪৯ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। বাস্তবতার নিরিখে ঋণের পরিমাণ ৪৯ শতাংশের কমও হতে পারে। তিন কিস্তিতে এই ঋণ দেওয়া হবে।



মন্তব্য