kalerkantho


পুঁজিবাজারে নতুন মাইলফলক

ডিএসইর মালিকানা বুঝে পেল চীনা জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:৩২



ডিএসইর মালিকানা বুঝে পেল চীনা জোট

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেমসহ অন্য পরিচালকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কৌশলগত অংশীদার হতে দুই দেশের আইনগত জটিলতা ও প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫ শতাংশ মালিকানা বুঝে পেয়েছে চীনের প্রথম সারির শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ কনসোর্টিয়াম। এই মালিকানা পেতে চীনা জোট ৯৬২ কোটি টাকা মূল্য পরিশোধ করেছে। এই টাকার মালিক ডিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউস।

গতকাল মঙ্গলবার চীনা জোটের বিও হিসাবে শেয়ার জমার পরই শেয়ারের টাকা বুঝে পেয়েছে ডিএসই। এর পরই ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদে শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি ম্যানেজমেন্ট কমিটির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জি ওয়েন হাই নতুন পরিচালক হিসেবে প্রতিনিধি যুক্ত হয়েছেন। প্রাযুক্তিক উন্নয়নসহ দেশের পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলছেন, চীনা জোটের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন হলে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী কৌশলগত অংশীদারের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ করে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। এতে কৌশলগত অংশীদার প্রক্রিয়া বিষয়ে তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান। এ সময় ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, রকিবুর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন, শরীফ আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

জানা যায়, ডিএসইর ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার ক্রয় করে চীনা জোট। যার দাম দাঁড়ায় প্রায় ৯৪৭ কোটি টাকা। এরসঙ্গে ১৫ কোটি স্টক ডিউটি ধরে মোট টাকার পরিমাণ ৯৬২ কোটি টাকা। শেয়ার কেনার পাশাপাশি ৩৭ মিলিয়ন বা ৩৭০ কোটি টাকার তথ্য-প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা করবে জোটটি।

ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাশেম বলেন, ‘পুঁজিবাজারের জন্য আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। কারণ আজ কৌশলগত অংশীদারের কাছে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আন্তর্জাতিক শেয়ার মার্কেটে পরিণত হতে যাচ্ছে। নতুন একজন প্রতিনিধি আমাদের পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন। চীনা স্টক এক্সচেঞ্জের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের স্টক এক্সচেঞ্জকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে চাই। একটা শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে চাই, এতে চীনা জোটের অতীত অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, ‘সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদার খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আগ্রহীদের মধ্য থেকে যোগ্যদেরকেই অংশীদার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। আজকে এর আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আশা করছি, চীনা জোটের সহায়তার মাধ্যমে দেশের স্টক এক্সচেঞ্জ উজ্জ্বলতার দিকে এগিয়ে যাবে।’

চীনা জোটের পক্ষে ডিএসইর পরিচালক জি ওয়েন হাই বলেন, ‘দুই দেশের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত অংশীদারিত্বে প্রক্রিয়াসম্পন্ন হয়েছে। পুঁজিবাজারে করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত ও বাজার উন্নয়ন ও সুন্দর একটা পুঁজিবাজার গড়তে একত্রে কাজ করব। বৈশ্বিকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে তুলে ধরতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মূলধন তৈরি ও ক্রস বর্ডার বাজার গড়তে সহায়তা থাকেব।’

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জকে কেন বেছে নিল—এমন এক প্রশ্নের জবাবে চীনা জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়েও বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের মিল রয়েছে। দুই দেশের সম্পদও প্রায় একই ধরনের। জনসংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও চীন উন্নতি করেছে।



মন্তব্য