kalerkantho


ঈদের ছুটিতে হাতছানি পাহাড়-সমুদ্রের

কুয়াকাটা ও বান্দরবানের হোটেল-মোটেল খালি নেই

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ও মনু ইসলাম, বান্দরবান    

২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:১৬



ঈদের ছুটিতে হাতছানি পাহাড়-সমুদ্রের

বান্দরবানে ঝরনাস্নান করছে ঊচ্ছ্বসিত পর্যটকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক আগমনের আশা করা হচ্ছে। কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলের আগাম সিট বুকিং রেকর্ডসংখ্যক হওয়ায় এমন প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। এমনটাই জানালেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শারীফ।

কুয়াকাটার বিলাসবহুল ‘সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলায়’ গিয়ে দেখা যায় পরিচ্ছন্ন সুইমিংপুল, দৃষ্টিনন্দন লেক এবং রিসোর্টের রুমগুলোতে সাজ সাজ দৃশ্য। বিশাল এলাকায় ফুল এবং সবুজ বনানীতে সুসজ্জিত করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হেলিপ্যাডও প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন ম্যানেজার মো. গোলাম মোর্শেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিলাসবহুল এই রিসোর্টের ৬৮টি কক্ষ এবং ভিলা রয়েছে ১২টি। এবারের ঈদে রবিবার পর্যন্ত ৫০ ভাগ কক্ষ এবং ভিলা বুকিং হয়ে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে সবকয়টা কক্ষ এবং ভিলা বুকিং হয়ে যাবে বলে আশা করছি। রিসোর্টের সিঙ্গেল, ডাবল রুমের ভাড়া ১০ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং ভিলার ভাড়া ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন ‘সি বিচ ইন’ হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের দক্ষিণা কক্ষে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আচড়ে পড়ছে। হোটেল ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা মো. জামাল হেসেন জানান, আগস্টের ২২ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত সব কক্ষ এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। সমুদ্র তীরবর্তী আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক মো. জিয়া উদ্দিন জানান, তাঁর হোটেলের ৩৫টি কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। বাকিগুলো দু-এক দিনের মধ্যে বুকিং হয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, বুকিংয়ের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কোরবানির ছুটিতে কুয়াকাটায় প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে।

কুয়াকাটার খাবার হোটেল ‘আপ্যায়ন’-এর মালিক মো. দুলাল আকন জানান, এবারের ঈদে বিপুল পর্যটকের আগমন ঘটবে। কারণ বহু পর্যটক দম্পতি আগাম থেকেই খাবারের অর্ডার দিয়ে রেখেছেন। খাবার হোটেল রুচিতার মালিক আবুবক্কর জানান, পর্যটকদের আগমনের কথা বিবেচনা করে হোটেল পরিচ্ছন্ন এবং সাজগোজের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন ঝিনুক ও শোপিস এবং রাখাইন তাঁত কাপড়ের দোকানের মালিক মো. কাউয়ুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনের কথা বিবেচনা করে দোকানে আকর্ষণীয় পণ্য এবং শোপিসসহ বিভিন্ন উপকরণ আমদানি করেছি। যদি কোনো দুর্যোগ দেখা না দেয়, আশা করছি এ বছর লাভের মুখ দেখতে পাব।

সৈকতে পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য স্থাপন করা ছাতা ও বেঞ্চের মালিক মো. আব্বাস কাজী কালের কণ্ঠকে জানান, কোরবানির ছুটিতে পর্যটকের আগমনের কথা বিবেচনা করে শতাধিক নতুন বেঞ্চ ও ছাতা নির্মাণ করেছি। পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য ঘণ্টাপ্রতি প্রতিটি বেঞ্চ ভাড়া দেওয়া হয় ১০ থেকে ১৫ টাকায়। সৈকতকে আকর্ষণীয় করতে নতুন ছাতা ও বেঞ্চ পেইটিং করার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার বলেন, কুয়াকাটায় ১০০টির বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে আধুনিক ও বিলাসবহুল হোটেল রয়েছে ১০ থেকে ১২টি। প্রতিটি হোটেলের রুম আগাম বুকিং হয়ে যাচ্ছে। বুকিংয়ের হার যেভাবে হচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে। আমাদের হোটেল-মোটেল মালিকরা এরই মধ্যে পর্যটকদের যথাযথ এবং উন্নত সেবা নিশ্চিতের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সৈকতের ১৮ কিলোমিটারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং র‌্যাবের একাধিক টিম সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের বিচ বাইক এবং ওয়াটার বাইক দিয়ে সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত থাকবে।

বান্দরবান : দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা বান্দরবান দিনে দিনে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে। এবারের ঈদের ছুটিতেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক আগমনের আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। এখানে পর্যটকদের আকর্ষণের তালিকার শুরুতেই রয়েছে শৈলপ্রপাত, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, বগালেক, তিন্দু এবং রেমাক্রি ঝরনা। আগে শহরে নেমে অনেকেই ছুটে যেতেন থানচি বা রুমার দিকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রথাগত এসব পর্যটন এলাকাগুলোর চেয়ে ঝিরি-ঝরনা, জলপ্রপাত এবং নদীপথ দেখার দিকেই পর্যটকদের ঝোঁক লক্ষ করা যাচ্ছে। তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় রূপালী ও রূপশ্রী জলপ্রপাত। অতি সম্প্রতি বেশ কিছু নতুন জলপ্রপাত পর্যটক টানছে। এর বাইরে আলীকদম উপজেলায় আলীর সুড়ঙ্গ, দামতুয়া ও তুক্ক নামের যুগল ঝরনা, আছে ওয়াংপা, রূপমুহুরী ও নুনার ঝিরি ঝরনা।

বান্দরবান শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে রেহচা সেনা-পুলিশের চেকপোস্ট। সেখান থেকে আধা কিলোমিটার হাঁটা দূরত্ব অতিক্রম করলেই জল পতনের শব্দ কানে বাজে। আরো আধা কিলোমিটার পথ হাঁটলেই রূপালী জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতের পানি নেমে যেতে যেতে তৈরি হয়েছে ঝরঝরি ঝিরি। স্থানীয়রা বলেছেন, ঝরঝরি জলপ্রপাতের নামেই ঝিরির নাম হয়েছে ঝরঝরি ঝিরি। কিন্তু এখন প্রায় সবাই বলছেন রূপালী জলপ্রপাত। প্রায় ১০০ ফুট উঁচু পাথুরে পাহাড়ের ওপর থেকে গড়িয়ে পড়ছে জলধারা। এখান থেকে ঝিরি ধরে ২০০ মিটার উজানে গেলেই রূপশ্রী জলপ্রপাত। কোনো কষ্ট না করেই যেকোনো বয়সের মানুষ দেখে আসতে পারেন রূপালী এবং রূপশ্রীকে।

বান্দরবান জেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সুয়ালক হেডম্যানপাড়া। সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ যেকোনো যান্ত্রিক বাহনে চড়ে সরাসরি যাওয়া যায় সুয়ালক মৌজার হেডম্যান মং থোয়াই চিং মারমার বাড়ি পর্যন্ত। সেখান থেকে হেঁটে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার গেলেই ভ্রংমং জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতের পানি গড়িয়ে গড়িয়েই সৃষ্টি করেছে চৈক্ষ্যং ঝিরি। 



মন্তব্য