kalerkantho


কামারপাড়ায় দম ফেলার সময় নেই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৩৩



কামারপাড়ায় দম ফেলার সময় নেই

ছবি অনলাইন

দুদিন পরেই ঈদুল আজহা। উৎসবে মেতে উঠবে দেশবাসী। এরই মধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানির উদ্দেশ্যে কিনে ফেলেছে নিজের পছন্দের পশু। ফলে তারা এখন ভিড় করছে স্থানীয় কামারের দোকানগুলোতে। কোরবানির ঈদ এলেই তাদের কাজ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সেখান থেকে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি কিনে নিচ্ছে। সারা দেশেই প্রায় একই চিত্র।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, দম ফেলার সময় নেই কামারদের। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের ব্যস্ততাও ততই বাড়ছে। টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারের কামার সত্য রঞ্জন দাশ বলেন, ‘সারা বছর কাজ কম থাকে। কোরবানি ঈদ এলে আমাদের কাজ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ছুরি শান দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে প্রকারভেদে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।’

অন্য কামার প্রভাত চন্দ্র দাশ বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে রাত-দিন কাজ করতে হয়। তখন আমাদের খাওয়ার সময়ও থাকে না।’

টাঙ্গাইল শহরের কলেজ গেট, গোডাউন ব্রিজ, সন্তোষ বাজার ও পার্ক বাজার এলাকার কামাররা জানান, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০, দা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বঁটি ২৫০ থেকে ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে দেড়-দুই হাজার টাকা, চাপাতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রত্যেক দোকানে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কয়লার মূল্য। ফলে দা-বঁটির দামও বেড়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের কামারপাড়াগুলো টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে। জেলার সবকয়টি কামারপাড়ায় চলছে কোরবানির পশু জবাই, মাংস কাটা এবং চামড়া ছিলানোর কাজে ব্যবহৃত চাপাতি, দা, ছুরি আর বঁটি তৈরির ও ধার দেওয়ার কাজ।

সিরাজদিখান বাজারের কামারশিল্পী সাধন দাস বলেন, ‘সারা বছর তৈরি করা পশু জবাইয়ের এসব সামগ্রী ঈদ মৌসুম ছাড়া বিক্রি হয় না। তাই ব্যস্ততা বেড়েই চলছে। তাই এখন সময়মতো নাওয়া-খাওয়া হয় না। কয়টা দিন একটু কষ্ট করে হলেও রুজিটা বেশ ভালোই হচ্ছে। এ সুযোগ আবার এক বছর পরে আসবে।’



মন্তব্য