kalerkantho


মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়ন

৪২৩৩ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০১৮ ১১:২১



৪২৩৩ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৫১ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ চার হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পেছনে এই টাকা খরচ করা হবে। ‘ট্রান্সফরমিং সেকেন্ডারি এডুকেশন ফর রেজাল্ট অপারেশন’ (টিএসইআরও) শিরোনামের প্রকল্পের আওতায় এই ঋণ দেবে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এসংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তিতে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম সই করেন। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থাটির ঢাকা অফিসের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান রাজশ্রী পালাকার চুক্তিতে সই করেন। এ সময় দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা এসএসসি শেষ করতে পারে না। তার আগেই ঝরে পড়ে। মেয়েদের বেলায় এই সংখ্যা অনেক বেশি। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ঝরে পড়া রোধে বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের টয়লেটের অবস্থা খুবই নাজুক। অনেক স্কুল ও কলেজে মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই। এতে নানা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় মেয়েদের। এই প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হবে। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। গতকাল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গ্লোবাল ফিন্যান্সিং ফ্যাসিলিটির (জিএফএফ) আওতায় এক কোটি ডলারের আলাদা একটি অনুদান চুক্তি সই হয়েছে সরকারের। অনুদানের এই টাকা দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট নির্মাণে খরচ হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ লাখ শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া ঝরে পড়া রোধে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে। নতুন নতুন অনেক বিষয় সম্পৃক্ত করা হবে। বিশেষ করে মেয়েদের স্বাস্থ্যগত বিষয়ও যুক্ত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

কাজী শফিকুল আযম বলেন, প্রকল্পটি সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের দক্ষ করে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দক্ষ জনশক্তি হয়ে গড়ে উঠবে।

বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান রাজশ্রী পালাকার বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। তবে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে তাতে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো খুবই জরুরি। কারণ এখানে শিক্ষার গুণগত মান এখনো ততটা উন্নত নয়। আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এই প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষার কারিকুলাম আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’ 



মন্তব্য