kalerkantho


হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজন বিশ্বমানের সনদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ১২:১৭



হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজন বিশ্বমানের সনদ

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তারা

সরকার ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। হালাল পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। কাজী এম আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বিডা

হালাল পণ্য বিক্রিতে মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি অমুসলিম দেশগুলো এগিয়ে এলেও পিছিয়ে পড়েছে ৮০ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। এ খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও হালাল মান সনদের অভাবেই পিছিয়ে পড়ছে। এমনকি স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের মান সনদ নিয়ে পণ্য রপ্তানি করা হলেও কোনো কোনো দেশ এই সনদ আমলে নেয় না। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় উদ্যোক্তাদের। তাই উদ্যোক্তারা বিশ্ব স্বীকৃত মান সনদের জন্য স্থানীয় কার্যালয়সহ সরকারি নীতি সহায়তা দাবি করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ‘হালাল সার্টিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড চ্যালেঞ্জস : অপরচুনিটিজ ফর বাংলাদেশ মার্কেট’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এদেশীয় রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ সাইদ।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খানের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুবাইভিত্তিক হালাল মান সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আরএসিএস কোয়ালিটি সার্টিফিকেটস ইস্যুয়িং সার্ভিস এলএলসির হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ওসামা ইমাম।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্য ও সেবার বাজার নিয়মিত বাড়ছে। খাদ্য, ওষুধ পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রসাধনী, আর্থিক লেনদেন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর হালাল পণ্য ও সেবা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর বাজার বাড়ছে। তাঁরা বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ইসলামিক বাজার মূল্য প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের মোট খরচের প্রায় ১১.৯ শতাংশ। থমসন রয়টার্সের দ্য স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্টে (২০১৭-১৮) বলা হয় ২০২২ সালে এর বাজার হবে তিন ট্রিলিয়ন ডলার।

বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হালাল পণ্যের সনদ দেয়। এ ধরনের সনদ নিয়ে বিভিন্ন দেশে ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসির মতো প্রতিষ্ঠান হালাল খাবার বিক্রি করে। এ ছাড়া অমুসলিম দেশ থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর হালাল পণ্যের ব্যবসার দিক থেকে এগিয়ে আছে। এমনকি প্যালেস্টাইনে হালাল আর্থিক সেবা প্রধান করে অমুসলিম দেশ ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠান। তাই বাংলাদেশেও এ পণ্যের উৎপাদন, রপ্তানি ও পসার বাড়াতে হালাল সনদ প্রধানকারী কর্তৃপক্ষ ও প্রশিক্ষিত পরিদর্শক দরকার বলে তাঁরা মনে করেন।

বক্তারা আরো বলেন, দেশেও পণ্যের হালাল সনদ দিচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ২০১১ সালে ফাউন্ডেশন এ কার্যক্রম শুরু করেছে। ইসলামিক বিধিবিধানে যে ধরনের পণ্য ও সেবা মানবজীবনে গ্রহণ করার অনুমোদন আছে, সেগুলোকে হালাল বলা হয়ে থাকে। হালাল নির্ধারণ করা হয় ব্যবহৃত কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রভৃতি ইসলামিক বিধিবিধান অনুযায়ী কি না তা বিবেচনা করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ মুসলিমপ্রধান দেশ হওয়ায় হালাল পণ্যের বিপুল চাহিদা আছে। এ ছাড়া রপ্তানি আয়ের পণ্য বহুমুখী করণেও হালাল পণ্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

হালাল পণ্য নিরাপদ উল্লেখ করে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, হালাল পণ্য মানুষের জীবন ধারণের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ, যা মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিমরাও গ্রহণ করে থাকে। ফলে বিশ্বের সব দেশেই এর চাহিদা আছে। তাই রপ্তানি বৃদ্ধিসহ হালাল পণ্য সম্প্রসারণে সব ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং হালাল পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি দেশে শুধু মাংস রপ্তানি করছে এবং বিশেষ করে গোখাদ্যে যেন কোনোভাবেই ক্ষতিকারক রাসায়নিক অথবা ওষুধ ব্যবহার করা না হয় সেদিকে আরো যত্নবান হতে হবে। সাইদ মোহাম্মদ সাইদ বলেন, বাংলাদেশের হালাল পণ্যের বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়াতে হলে হালাল সনদ প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই।

ডিসিসিআইর সভাপতি বলেন, বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং থাইল্যান্ড এগিয়ে রয়েছে। মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে আমরাও ভালো করতে পারি। বাংলাদেশে হালাল পণ্যের উৎপাদন আরো জনপ্রিয় ও এ খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সহযোগিতা প্রদান জরুরি। সেই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন, হালাল সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে স্বল্প সুদে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে সরকারকে। মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই পরিচালক ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সাবেক সহসভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী ও আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী বক্তব্য দেন। 



মন্তব্য