kalerkantho


পুঁজিবাজারে সুবাতাসের আশা

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে করপোরেট কর কমবে

রফিকুল ইসলাম    

৮ জুন, ২০১৮ ১০:৪১



পুঁজিবাজারে সুবাতাসের আশা

সার্বিক ছাড় না থাকলেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কম্পানিতে ২.৫ শতাংশ করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কম্পানিতে করের পার্থক্য ২.৫ শতাংশই রাখা হয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রে (তালিকা ও অ-তালিকাভুক্ত) এবার করের হার কমানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী তালিকাভুক্ত বা পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর ৪০ শতাংশের বিপরীতে ৩৭.৫ শতাংশ আর অ-তালিকাভুক্ত কম্পানির ক্ষেত্রে ৪২.৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে রপ্তানি পোশাক প্রস্তুতকারী গার্মেন্ট খাতের কম্পানিতে করের হার বৃদ্ধি করা হলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কম্পানিতে কর ব্যবধান রাখা হয়েছে ২.৫ শতাংশ। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্ভাবনাময় খাতের কম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহী হবে—যার পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগের বছর রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে করপোরেট কর ছিল ১২ শতাংশ, যা এবার প্রস্তাব করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। আর পুঁজিবাজারে আসলে কর দিতে হতো ১২ শতাংশ, এবার করা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ। সার্বিক কর বৃদ্ধি পেলেও পুঁজিবাজারে নতুন কম্পানি তালিকাভুক্তিতে এই ব্যবধান সহায়ক ভূমিকা পালন করবে মনে করছে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাবলিকলি ট্রেডেড’ (পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত) কম্পানির করপোরেট কর ২৫ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে করহার বেশি হওয়ায় ২.৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্বিকভাবে করপোরেট কর না কমলেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর হার হ্রাস পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক দিক। করপোরেট করে সার্বিক ছাড় থাকলে আরো বেশি কম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হতো। আর পুঁজিবাজারে আসলে কর ব্যবধান আরো বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু সেই বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বাজেটে নেই।

তাঁদের মতে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়লে পরোক্ষভাবে বিনিয়োগকারীই উপকৃত হবে। বর্তমানে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আয়ের ৪০ শতাংশ বা ১০০ টাকা আয়ে ৪০ টাকা কর দেয়। এই করহার শতকরা ২.৫ টাকা কমিয়ে ৩৭.৫ টাকা করা হয়েছে।

জানা যায়, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কম্পানির কর ব্যবধান ১০ শতাংশ। অর্থাৎ কোনো কম্পানি পুঁজিবাজারে এলে সরকারকে কর দেয় ২৫ শতাংশ। আর অ-তালিকাভুক্ত বা পুঁজিবাজারের বাইরে থাকলে কর দিতে হয় ৩৫ শতাংশ। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে ও একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গড়তে আরো বেশি কর ব্যবধান চেয়েছিলেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা। সার্বিকভাবে করপোরেট করে কোনো ছাড় না দিয়ে আগামী অর্থবছরের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২.৫ শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘এতে রাজস্ব কিছুটা কমলেও বিনিয়োগকারীর প্রতি ইতিবাচক বার্তা যাবে।’

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানির করহার ২৫ শতাংশ ও অ-তালিকাভুক্ত ৩৫ শতাংশ। পাবলিকলি ট্রেডেড ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ২০১৩ সালে সরকার অনুমোদিত ব্যাংক, বীমা ও প্রতিষ্ঠানের কর ৩৭.৫ শতাংশ, যা আগে ছিল ৪০ শতাংশ। আর অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪০ শতাংশ, যা আগে ছিল ৪২.৫ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কম্পানির ৪৫ শতাংশ, মোবাইল ফোন অপারেটর পাবলিকলি ট্রেডেড ৪০ শতাংশ আর অ-তালিকাভুক্ত ৪৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের বছরও একই ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পথে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কাজেই একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গড়তে নতুন নতুন কম্পানির তালিকাভুক্তি প্রয়োজন। কিন্তু সুশাসন ও স্বচ্ছতার অভাবে অনেক কম্পানি বাজারে আসতে ইচ্ছুক না। যার জন্যই করহারে ছাড় দিয়ে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে হয়। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কম্পানির করহার ১০ শতাংশ ব্যবধান হলেও বাড়িয়ে ২০ শতাংশ ব্যবধানের দাবি ছিল সংশ্লিষ্টদের।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজেটে এই প্রস্তাবে ব্যাংক ও আর্থিক খাত চাঙ্গা হবে। সরাসরি উপকৃত না হলেও পরোক্ষভাবেই উপকৃত হবে বিনিয়োগকারী। পুঁজিবাজারে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কম্পানিতে কর ব্যবধান নতুন কম্পানিকে বাজারে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।’ 



মন্তব্য