kalerkantho


এবার রমজানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট হয়নি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ জুন, ২০১৮ ১২:৩৩



এবার রমজানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট হয়নি

ছবি অনলাইন

রমজান ঘিরে ভোগ্য পণ্য আমদানিতে এবার জাহাজজটে পড়তে হয়নি আমদানিকারকদের। প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সময়ে জাহাজে পণ্য এনে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে না পেরে দিনের পর দিন অলস বসে থাকতে হতো ব্যবসায়ীদের, এবার ছিল ব্যতিক্রম। এবার সাধারণ পণ্যের জাহাজ ভিড়েছে জট ছাড়াই, আর কনটেইনার জাহাজের জটও ছিল সহনীয় পর্যায়ে। ফলে বন্দরে জাহাজ জট নিয়ে এবার বিপাকে পড়তে হয়নি আমদানিকারকদের।

দুটি কারণে এবার চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট হয়নি। একটি হচ্ছে, জাহাজজটের শঙ্কা মাথায় রেখে আগেভাগেই ভোগ্য পণ্য আমদানি এবং বন্দরে পণ্য ওঠানামায় কিছু বিশেষ কৌশল বাস্তবায়ন। এতে করে পণ্য পরিবহন ও ওঠানামা বাবদ প্রতি জাহাজেই বিপুল সাশ্রয় হয়েছে আমদানিকারকদের।

বিষয়টি স্বীকার করে ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্দরের প্রতিবছরের জাহাজজটের শঙ্কা মাথায় রেখে তিন মাস আগেই আমরা গুদামে তুলি রমজানের ভোগ্যপণ্য। এতে করে আমাদের এবার রমজানে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজজট নিয়ে ধকল সামাল দিতে হয়নি।

এর সুফলও মিলেছে রমজানের ভোগ্য পণ্যের বাজারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়েছে; দামও বিগত বছরের চেয়ে কম রয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ যোগদানের পর বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি জেটিতে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনটি উদ্যোগের ফলে পণ্য খালাসে এই সুফল মিলেছে। একটি হচ্ছে, সিমেন্ট ক্লিংকার, পাথর ও স্ক্র্যাপ জাহাজের জেটি ছেড়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া ও পণ্য নামানোর গতি বাড়ানো; দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রাম ড্রাইডক জেটিতে কাঠ ও পাথরের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ দেওয়া এবং তৃতীয়ত, নাইট নেভিগেশন বা রাতের বেলা জাহাজ ভেড়া-ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এনামুল করিম বলছেন, বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর হার দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে, একই সঙ্গে ডেলিভারিও দ্রুত করা হয়েছে। এতে করে দ্রুত জেটি খালি হয়েছে, কম সময়ে বেশি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজজট বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে আগেভাগেই ভোগ্য পণ্য আমদানি করে মজুদ করতেন আমদানিকারকরা। প্রতিবছর অন্তত দেড় মাস আগেই সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নিজেদের গুদামে মজুদ করতেন। নির্ধারিত সময়ে বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে না পেরে গত বছরও অনেক ব্যবসায়ী রমজান মৌসুম ধরতে পারেননি। এতে বিপুল গচ্চা দিতে হয়েছে তাঁদের। এই শঙ্কা মাথায় রেখে চট্টগ্রামসহ দেশের শীর্ষ আমদানিকারকরা তিন থেকে চার মাস আগেই রমজানের ভোগ্য পণ্য এনে মজুদ করে ফেলেন। জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকেই ছোলা ও ভোজ্য তেল ও খেজুর আমদানি শুরু হয়। চিনি ও মটর ডাল আসা শুরু হয় ফেব্রুয়ারি থেকে। ফলে রমজান ঘিরে জাহাজের যে বাড়তি চাপ থাকে সেটি এবার হয়নি।

জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক সাহেদ সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, রমজানের ভোগ্য পণ্য নিয়ে এবার ভুগতে হয়নি ব্যবসায়ীদের। বেশ ভালোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে বন্দর। কিন্তু রমজানের সময় শ্রমিকদের টাইমিংয়ের কারণে পণ্য ওঠানামায় সময় আবারও বাড়ছে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে পণ্য ওঠানামার প্রবৃদ্ধিতে দারুণ ব্যাঘাত ঘটবে। সামাল দিতে না পারলে সামনে বাজেটকে ঘিরে আবারও জাহাজজট তৈরি হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাহাজ ভাড়া করে আনা হয়। এর বেশি বসে থাকলে জাহাজের আকারভেদে আট থেকে ১০ হাজার ইউএস ডলার মাসুল গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। এই মাসুল পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হয়ে দাম বেড়ে যায়। প্রতিবছরই এই অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়।



মন্তব্য