kalerkantho


সুরভীর রঙ্গ অনলাইন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মে, ২০১৮ ১৮:৪৯



সুরভীর রঙ্গ অনলাইন

ঐতিহ্য ও আধুনিকতা এ স্লোগান নিয়েই শামীমা সুলতানা সুরভীর ই কর্মাস বিজনেস সাইট রঙ্গ অনলাইনে‘র যাত্রা শুরু বছর দুই আগে। কিন্তু সংসারের হাল ধরতে গিয়ে নানা ঝক্কি ঝামেলায় আর নিয়মিত হয়ে ওঠেনি। মধ্যবিত্ত সংসারের টানাপড়েন নিজের ভেতরটা কুড়েঁকুড়েঁ খাচ্ছিল প্রতিনিয়তই। তাই উপায়ন্ত না দেখে নিজের একটু আয় বাড়াতে ঘর-সংসারের পাশাপাশি শুরু করেছিলেন রঙ্গ অনলাইনের। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প শুনেছেন ফরহাদ হোসেন

মেয়ে পড়ে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে। মেয়েকে নিয়ে প্রতি দিনই স্কুলে যেতে হয়। সেখানেই বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। স্কুলে অন্য ভাবিদের সঙ্গে গল্প আর আড্ডা দিয়েই সময় কাটতো। কিন্তু এভাবে আর ভালো লাগতো না। বসে না থেকে কিছু করার ই্চ্ছে হতো প্রায়ই। কিন্তু কোনো উপায় আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এমনি করে গেল বেশ কিছু দিন। এর মধ্যে হাতে এলো স্মার্ট ফোন। হলো নিজের ফেসবুক আইডি। ফেসবুক চালু করলে মাঝে মধ্যেই আসত বেশ কিছু অনলাইন শপের লিংক। বাহারি নামের অনলাইন পেজগুলোতে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতাম নিয়মিতই। দেখতে দেখতে নিজের ভেতরে এক সময় জন্ম নিল কিছু ভাবনা। ভাবলাম সামান্য টাকা পুজিঁ নিয়ে আমিও একটা অনলাইন বিজনেস চালু করতে পারি। সেই থেকেই ভাবনার ডালপালা গজালো। একদিন স্বামীকে সব খুলে বললাম। তিনিও বললেন বসে না থেকে সময়টাকে কাজে লাগাতে। সমর্থনে সাথে সহায়তাও করলেন অনেক। নিজের জমানো সামান্য কিছু টাকা এবং স্বামীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা নিয়েই শুরু করা রঙ্গ অনলাইন বিজনেসের কার্যক্রম বললেন শামীমা সুলতানা সুরভী। 

জানালেন স্বামী কাজ করেন একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে। স্বামীর একার আয়ের টাকা দিয়ে মেয়ের লেখাপড়া, সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অনেক সময় পরিস্থিতি বুঝে স্বাদ আহ্লাদের জন্য বাড়তি কিছু চাইতে সাহস পেতাম না। কিন্তু এখন অন্তত নিজের জন্য স্বামীর কাছে দুচার টাকা চাইতে হয় না। নিজের আয় দিয়েই এখন চলতে পারি। সংসারের জন্যও কিছু করতে পারি। 

শুরুটা কেমন হয়েছিল জানতে চাইলে সুরভী বলেন, প্রতিটা কাজের শুরুতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এর উপরে আবার অনলাইন বিজনেস। প্রথমে তেমন কিছুই বুঝতাম না। অন্যেরটা দেখে শিখেছি। স্বামীও অনেক সহযোগিতা করেছে। প্রথমে কোনো সাড়া না পেলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে পরিধি। এবারের ঈদকে ঘিরে আনা হয়েছে পোষাকের নতুনত্ব। নিজেদের অর্ডারে তৈরি পাঞ্জাবির বিশাল সমাহার রয়েছে। রয়েছে বুটিকের থ্রিপিছ। আমার এ অনলাইন সপে এখন মূলত পাঞ্জাবি আর থ্রিপিসই বিক্রি করছি। অনলাইন ছাড়াও পরিচিতজনরা বাসায় এসে পছন্দ করে পণ্য নিয়ে যায়। 

ঝিনাইদহের মেয়ে সুরভী থাকেন মিরপুরের কালশীতে। নিজে বাসা থেকেই এখন তার অনলাইন ব্যবসার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। www.facebook.com/RongoOnlineOfficial 

এই পেজেই পাওয়া যাবে সব রঙ্গ‘র সব পণ্য। এছাড়াও এই www.RongoOnline.com ওয়েব ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে সব পণ্যের তথ্য। 

কেমন চলছে এখন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বেশ ভালোই অর্ডার আসছে। অর্ডার বাড়ার কারণে মোবাইলে কথা বলা, পণ্যের সাইজ ঠিক করা, ক্রেতার পছন্দ অনুসারে সঠিক পণ্যটি নিশ্চিত করা এসব কাজে কম দকল যাচ্ছে না। এরপর সঠিক সময়ে সঠিক পণ্যটি নিজস্ব লোকের মাধ্যমে ও কুরিয়ারে পণ্য পৌঁছে দিতে পারলেই শত কষ্টের মাঝেও মনে এক ধরণের ভালোলাগা কাজ করে। অনলাইন বিজনেজটা হলো ক্রেতার আস্থার জায়গা তৈরি করা। সেজন্য কোয়ালিটিতে কোন ছাড় দেই না। আমি চাই বিশ্বাসের একটা জায়গা তৈরি করতে। সেজন্য আমার কাছে কোয়ালিটিটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোয়ালিটি অনুসারে শোরুমের তুলনায় দামটা কম রাখি। কারণ আমাকে এর পেছনে দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য কোন খরচা করতে হয় না। 

নিজের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানকে কোথায় দেখতে চান এ বিষয়ে বলেন সবারই কিছু স্বপ্ন থাকে। আমার শুরুটা ছোট্ট হলেও একে দেখতে চাই মহীরুহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে। ই কর্মাস জগতে ভবিষ্যত যেটাকে সবাই এক নামে চিনবে। নিজের প্রতিষ্ঠানে নিজে খাটার পাশাপাশি আরো বেশ কজন কাজ করছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। এতে তাদেরও কিছুটা হলেও আয়ের সুযোগ করে দিতে পেরেছে। এতে এক ধরণের ভালো লাগা কাজ করে। আমি চাই আমার মাধ্যমে আরো অনেকের কাজের সুযোগ হোক।



মন্তব্য