kalerkantho


সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মে, ২০১৮ ১৫:৩৯



সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক

আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমতে পারে। সেই সঙ্গে কমতে পারে এর মুনাফার হার। এমন আশঙ্কায় শেষ সময়ে এসে সঞ্চয়পত্র কেনায় হিড়িক পড়েছে।

সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এক বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে প্রত্যেকের। গতকাল সোমবারও ভিড় ছিল একই রকম।

এদিন দীর্ঘ সারিতে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা লায়লা আক্তার। মধ্যবয়সী ওই গৃহিণী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু টাকা ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রাখা ছিল। সুদ পেতাম ৬ শতাংশ। কর পরিশোধসহ নানা খরচ বাদ দিয়ে ৫ শতাংশের মতো পেতাম। এর চেয়ে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা অনেক বেশি।’

বাংলাদেশে ব্যাংকের মতিঝিল শাখার মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটোয়ারী ব?লেন, কয়েক দিন পরেই ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বা?জেট ঘোষণা করা হবে। বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমতে পারে—অনেকে এমন আশঙ্কা করছে। এ ছাড়া ব্যাংকে আমানতের সুদের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বেশি হওয়ায় মানুষ সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে।

তিনি জানান, সকাল থেকেই সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য গ্রাহকরা ভিড় করেছে। এত ভিড় যে ব্যাংকের কর্মকর্তারাও হিমশিম খাচ্ছেন। গত ২০ মের পর থেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের চাপ বেড়েছে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১.৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১.৭৬ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১.২৮ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১.০৪ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১.২৮ শতাংশ।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য সঞ্চয়পত্র থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের। কিন্তু অর্থবছরের ৯ মাসেই (জুলাই-মার্চ) সব ধরনের সঞ্চয়পত্রসহ জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে নিট ঋণ এসেছে ৩৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। যা গোটা অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১২১.৭৫ শতাংশ।



মন্তব্য