kalerkantho


জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাড়তি বরাদ্দের দাবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ মে, ২০১৮ ১৪:০৪



জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাড়তি বরাদ্দের দাবি

ছবি অনলাইন

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু তহবিলে (বিসিসিটি) বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্র (আইসিসিসিএডি) নামের দুটি বেসরকারি সংস্থা। গতকাল রবিবার রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রতি অর্থবছরে জলবায়ু বাজেটে ৫ শতাংশ হারে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে দুটি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি নিরসনে এই টাকা বড় ভূমিকা রাখবে। তবে তাঁরা এ-ও বলেছেন, শুধু টাকা দিলেই হবে না, এই টাকা মানুষের কল্যাণে খরচ হচ্ছে কি না তাও নিশ্চিত করতে হবে। টাকা খরচে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে ‘জাতীয় বাজেটে জলবায়ু অর্থায়ন : আমরা কোন অবস্থানে আছি?’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ তুলে ধরেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও ন্যায্যতা বিভাগের প্রধান তানজির হোসেন। সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আবাসিক প্রধান ফারাহ কবির। আর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আইসিসিসিএডির পরিচালক ড. সালিমুল হক।

সালিমুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উন্নত বিশ্ব। কিন্তু তারা সে প্রতিশ্রুতি রাখছে না। তাই বলে আমরা তাদের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তবে শুধু ব্যয় করলেই হবে না; এই টাকা মানুষের কল্যাণে খরচ হয় কি না তা দেখতে হবে। নজরদারি বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষ সুফল পাচ্ছে কি না তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, দেখা যায় অনেক সময় জলবায়ু তহিবলের টাকা সঠিক জায়গায় যায় না। এটা বন্ধ করতে হবে। যারা সত্যিকারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে, দরিদ্র শ্রেণি তাদের কাছে বরাদ্দ পৌঁছাতে হবে। সালিমুল হক আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা শুধু উন্নয়ন চাই না, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন চাই।

ফারাহ কবির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে; তেমনি খরচও বাড়ছে। প্রকৃতি যেভাবে এলোমেলো আচরণ করছে, তাতে স্পষ্টতই বোঝা যায়, এসব জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এর প্রভাব প্রকট থেকে আরো প্রকট হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা, আগাম বৃষ্টি ও নানা প্রাকৃতিক পরিবর্তন তার প্রমাণ। ফলে বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এসব প্রভাব মোকাবেলায় দুই তিন বস্তা চাল আর গম দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। জলবায়ু ঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে তাই সরকারকে বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শুধু ত্রাণ দিয়ে তো আর দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মিজান আর খান বলেন, ‘জলবায়ুবিষয়ক সরকারি প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত শুধু বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু টাকাটা কোথায় এবং কিভাবে খরচ হয়েছে তা প্রতিবেদনের কোথাও উল্লেখ করা নেই। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৫২ শতাংশ বাজেট দক্ষতা বাড়ানোর জন্য খরচ করা হয়েছে। কিন্তু কী ধরনের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য খরচ করা হয়েছে তা কিন্তু পরিষ্কার নয়। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কিভাবে অর্থায়ন বাড়ানো যায় সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের এই বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। শুধু ঢাকা ও মন্ত্রণালয়ে বসে বাজেট করলে হবে না। এই বাজেট যাতে বিকেন্দ্রীকরণ হয় সেটা দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন আয়োজকরা। যেখানে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন খুবই জরুরি এবং এই খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি অর্জিত উন্নয়ন রক্ষার জন্য তথা দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে আরো বেশি বরাদ্দ রাখতে হবে।

মূল প্রবন্ধে তানজির হোসেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দেশীয় প্রবৃদ্ধির হার স্থিতাবস্থায় রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এই প্রবৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ বছর আগাম  মৌসুম ও প্রবল বর্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কারণে কৃষি উৎপাদনে আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রবন্ধে আরো বলা হয়, এই শতাব্দীর শেষে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং হবে।



মন্তব্য