kalerkantho


শুমারি করছে বিবিএস

তাঁতের সংখ্যা কমছেই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৮ ১৭:২৩



তাঁতের সংখ্যা কমছেই

ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁতশিল্প বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কুটির শিল্প। কর্মসংস্থানের দিক থেকে কৃষি ও পোশাকশিল্পের পরেই তৃতীয় বৃহত্তম অবস্থান তাঁতশিল্পের। কিন্তু দেশে এখন তাঁত ইউনিটের সংখ্যা কেমন কিংবা এই শিল্পের সঙ্গে কত মানুষ নিয়োজিত, তার হালনাগাদ তথ্য নেই। তাঁত খাতে হালনাগাদ পরিসংখ্যান না থাকায় প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় দেশের ৬০টি জেলায় তাঁতশুমারি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বাগেরহাট, ভোলা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায় তাঁতশিল্প না থাকায় ওই চারটি জেলায় শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে না। জেলা পর্যায়ে এখন চলছে তথ্য সংগ্রহের কাজ।

প্রকল্প পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, শুমারির মাধ্যমে দেশে তাঁতসংখ্যা, তাঁতশিল্পে নিয়োজিত লোকসংখ্যার প্রকার, মোট তাঁতপণ্য উৎপাদন, কাউন্টভিত্তিক সুতার চাহিদা কেমন তা জানা যাবে। একই সঙ্গে তাঁতিদের বিদ্যমান সমস্যা, মূলধন, বিপণন ব্যবস্থা, তাঁতশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও জানা যাবে।

তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁতশিল্পের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ এবং দেশের তাঁত খাত সম্পর্কে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ তথ্য ভাণ্ডার তৈরির জন্য তাঁতশুমারি পরিচালনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বছরের মধ্যেই তাঁতশুমারির ফল প্রকাশ করা যাবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

বিবিএসের দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৯০ সালে প্রথম দেশে তাঁতশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৩ সালে তাঁতশুমারি পরিচালনা করে বিবিএস। তাঁতশুমারির প্রধান অংশীজন হচ্ছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছর পর তথ্য হালনাগাদ করার বিধান থাকলেও ২০০৩ সালের পর আর কোনো তাঁতশুমারি হয়নি। বিবিএসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তাঁত ও তাঁতিদের সংখ্যা অনেক কমেছে। প্রকল্প পরিচালক জানালেন,  ১৯৯০ সালের প্রথম শুমারিতে দেশে মোট দুই লাখ ১২ হাজার ৪২১টি তাঁত ইউনিট ছিল। ২০০৩ সালে সেটি কমে এক লাখ ৮৩ হাজার ৫১২টি নেমে এসেছে। তিনি বলেন, বিবিএস এ বছর তাঁতশুমারি পরিচালনা করে ফলাফল প্রকাশ করলে এ শিল্পের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে, যা সুষ্ঠু ও সঠিক পরিকল্পনা প্রহণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন বিবিএসের এই কর্মকর্তা।



মন্তব্য