kalerkantho


চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:০০



চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ

ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। সেখানে বন্দর ২৪ ঘণ্টা কার্যকরভাবে সচল রাখার পাশাপাশি মোট ২৪টি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে—অতিসত্বর পতেঙ্গা টার্মিনাল ও লালদিয়া টার্মিনাল চালু করা, কনটেইনার পরিবহনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ডাবল রেলওয়ে ট্র্যাক স্থাপন, প্রয়োজনীয়তার তুলনায় ২০ শতাংশ অতিরিক্ত আধুনিক ও দ্রুততর স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া এবং লেস দেন কনটেইনার লোড (এলসিএল) কার্গো তিন দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া। এসব সিদ্ধান্তের কোনো কোনোটি বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে সরকারের নেওয়া কর্মপরিকল্পনায়।

দেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার জন্য আগেই আদেশ জারি করে রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু ব্যাংকসহ আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা না করায় তা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এ পরিস্থিতি আর বেশিদিন থাকছে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে—সপ্তাহে সাত দিন, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা করে অফিস খোলা রেখে কাজ করতে হবে। এটি হলে সত্যিকার অর্থেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যাবে। এতে ব্যবসায় খরচ ও সময় কমবে।

গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা হয়েছে। সেখানেও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। বন্দরের উন্নয়ন ও সেবা সম্প্রসারণের কাজ আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে দৃশ্যমান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই বৈঠকে।

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা, পণ্য খালাস ও বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সময়ের দাবি। দেশের উন্নয়নের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্দরের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও বিশ্বমানের সেবা দেওয়ার বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মদক্ষতার সঙ্গে আমাদের জাতীয় আয় অনেকটা নির্ভরশীল। তাই এ বন্দরের গতিশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।’

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। এটিকে ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার পাশাপাশি পণ্য আমদানি-রপ্তানিকাজ গতিশীল করতে হবে। কর্মপরিকল্পনায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

কর্মপরিকল্পনায় প্রথম কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার বিষয়টি। এ জন্য বন্দর ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা—বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন, কোয়ারেন্টাইন, বিএসটিআই, সিঅ্যান্ডএফ, খাদ্য বিভাগ, চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা, বিজিএমইএ, শিপিং এজেন্ট ও আগ্রাবাদ এলাকার সব ব্যাংক সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনাও জারি করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের যেসব সরঞ্জাম দরকার, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ আধুনিক ও দ্রুততর স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহের জন্য সাত দিনের মধ্যে শুল্ক বিভাগ দরপত্র আহ্বান করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বন্দরে আসার ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামযোগ্য মালপত্র শুল্ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শুল্ক বিভাগ দ্রুত তা নিলাম করবে। ২০১৯ সালের মধ্যে পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনালের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। বে টার্মিনাল নির্মাণ একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের অনুকূলে দ্রুত ভূমি বরাদ্দ দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আর কনটেইনার পরিবহনের জন্য ডাবল রেলওয়ে ট্র্যাক স্থাপনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বহির্নোঙরে জাহাজের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য লাইটারেজ জাহাজের সংখ্যা বাড়াতে এক মাসের মধ্যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করবে নৌ মন্ত্রণালয়। লাইটারেজকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার বন্ধে শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয় চার সপ্তাহের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা দাখিল করবে। আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত সব লেনদেন ইলেকট্রনিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবে।


মন্তব্য