kalerkantho


আইএমএফের পূর্বাভাস

বাংলাদেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০২:৩৯



বাংলাদেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নির্দিষ্ট করে বলেনি সংস্থাটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের প্রধান দায়সাকু কিহারা এ পূর্বাভাস দেন। ২০১১ সালে বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ কর্মসূচির শর্ত যাচাইয়ে ওই দল সফরে এসেছে।

কিহারা বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। মূল্যস্ফীতির চাপও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ যে হারে বাড়ছে তা উদ্বেগজনক। সম্প্রতি ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে অর্থনীতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলো হলো স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, অবকাঠামোর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা।

উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে আইএমএফ। সরকারি খাতের বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ব্যাবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ের আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দুই বছর পিছিয়ে যাওয়াকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে দায়সাকু কিহারা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় এখানকার কর জিডিপি অনুপাত অনেক কম। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হলে এই পার্থক্য কমবে।

কিহারা বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বাংলাদেশের বাজেটের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এ চাপ প্রশমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে কিহারা বলেন, বাংলাদেশে আমদানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল। এর প্রভাবে সামনের দিনে রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।



মন্তব্য