kalerkantho


'এটা বাংলাদেশের পাট দিয়ে তৈরি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৮ ১৪:৫৩



'এটা বাংলাদেশের পাট দিয়ে তৈরি'

ছবি অনলাইন

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পাট দিবস-২০১৮ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাটের সুতায় তৈরি পাটের শাড়ি এবং পাটের স্যান্ডেল পরে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের সময়ও পাটের হ্যান্ডব্যাগ দেখিয়ে বলেন, ‘এটা কিন্তু কোনো বিদেশি ব্র্যান্ড না, এটা বাংলাদেশের পাট দিয়ে তৈরি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বোনরা আছে, তাদের দেখাই। এখানে বোনরা আছে, তারা ব্যবহার করবে। আর ছেলেরা আছে, তারা কিনে বউকে একটা উপহার দেবে।’

বাজার বৃদ্ধিতে উন্নতমানের পাটপণ্য তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে পুরো পাট খাতের যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেশের সরকারি খাতের পাটকলগুলোকে লাভজনক করে তুলতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাটের বাজার এখন খুলে গেছে। আমরা রপ্তানি করতে পারছি। আমরা যতই উন্নতমানের পণ্য তৈরি করতে পারব, ততই আমাদের বাজার বৃদ্ধি পাবে।’ এ সময় দেশে পাটের বাজার সৃষ্টিতে তাঁর সরকারের করে দেওয়া ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’-এর উল্লেখ করেন তিনি।

পাট খাতের যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বড় সমস্যা রয়েছে যন্ত্রপাতিগুলো অত্যন্ত পুরনো, কাজেই এই মেশিনারিজগুলো সব বদলাতে হবে। নতুন মেশিনারিজের ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও এ ব্যাপারে আমরা সব রকম চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পাটকে আরো আধুনিকীকরণের মাধ্যমে পাট উৎপাদন, পাট সংগ্রহ ও পাট সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করেছি।’

সরকার বেসরকারি খাতকে সব থেকে বেশি সুবিধা দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল সরকারি খাতে প্রতিষ্ঠান থাকলে ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতদের মাঝে ঢিলেঢালা ভাব চলে আসতে পারে, পণ্য উৎপাদনে যার প্রভাব পড়তে পারে। তবে, প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের মানসিকতা পরিত্যাগ করার জন্যও সকলের প্রতি আরমযান জানিয়ে বলেন, ‘যে শিল্পটা আপনাদের জীবন-জীবিকার সব রকম উপকরণ দিচ্ছে সেই শিল্পটাকে বাঁচাতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ইতিমধ্যে তাঁর সরকার বন্ধ পাটকলগুলো চালু করেছে। পাঁচটি পাটকল চালু করা হয়েছে। খুলনায় চারটি এবং সিরাজগঞ্জে একটি। এই পাটকলগুলোর তিন হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ ছিল, যেটি সরকার মওকুফ করে সরকারই তা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল যে কৃপণতা করে তাও নয়, বরং পাটকলগুলোর দায়দেনা মুক্ত করে তাকে নতুনভাবে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এখন এগুলোকে সচল রাখার দায়িত্ব, যাঁরা পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন তাঁদের, সংশ্লিষ্ট শ্রমিক এবং কর্মচারী প্রত্যেকের।


মন্তব্য