kalerkantho


স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ : মানবসম্পদকে দক্ষ করে তোলার তাগিদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৯:৪৫



স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ : মানবসম্পদকে দক্ষ করে তোলার তাগিদ

ছবি অনলাইন

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার আগেই দেশের মানবসম্পদকে দক্ষ করে তোলার তাগিদ দিয়েছেন সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর ইউরোপের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা, কম সুদে ঋণসহ বিশ্ব বাণিজ্যে বেশ কিছু সুবিধা হারাবে। সেসব সুবিধা হারানোর পর দেশের অর্থনীতির ওপর যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সে জন্য এখন থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ও টেকসই উন্নয়ন : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শিরোনামের সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ইক্যুইটিবিডি এবং এলডিসি ওয়াচ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের উপপরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে বাংলাদেশকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে। সেসব চ্যালেঞ্জ যাতে মোকাবেলা করা যায়, সে জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে সরকারকে। তাই সরকারের নিজস্ব বিনিয়োগ সামর্থ্য বাড়াতে কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া উপকূলীয় মানুষ ও সম্পদ বাঁচাতে জলবায়ু মোকাবেলায় সক্ষম অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়ন কার্যকারিতা বাড়াতে কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

আরো পড়ুন : দেশে ঋণ খেলাপির হার কমেছে

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, ডাব্লিউটিও সেলের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব হাফিজুর রহমান, এলডিসি ওয়াচের আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী নেপালের গৌরি প্রধান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপসচিব আনোয়ার হোসেন। সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ইক্যুইটিবিডির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতে জাতিসংঘের যে তিনটি শর্ত রয়েছে, বাংলাদেশ এরই মধ্যে তিনটি শর্তই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী মাসে জাতিসংঘ থেকে আসবে উন্নয়নশীল দেশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের ঘোষণা। আগামী ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছবে। ২০২৭ সাল নাগাদ সব সুবিধা বহাল থাকবে। পরের বছর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। তাই হাতে এখনো যতটুকু সময় আছে, সে সময়ের মধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ বক্তাদের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আমাদের জাতীয় মর্যাদা। আমাদের যোগ্যতা দিয়ে এই মর্যাদা পেতে যাচ্ছি। এই মর্যাদা আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জন করেছি, এটি কারো দয়া-দাক্ষিণ্যে নয়। স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় আমরা এখন যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করি, এই উত্তরণের ফলে তার কিছু কিছু হয়তো আমরা হারাব। কিন্তু আমাদের এখন সামনে তাকাতে হবে, যাতে সাহায্যের বদলে আমরা নিজেরাই কিছু করতে পারি।’

আরো পড়ুন : ঋণ বরাদ্দের আগে প্রকল্পের যথাযথ মূল্যায়নের পরামর্শ অর্থমন্ত্রীর

ড. শামসুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের উন্নয়ন চাহিদা শতভাগ পূরণ করতে পারছে না। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশকে যে সংকট মোকাবেলা করতে হতে পারে তার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থাই হওয়া উচিত আমাদের মূল মনোযোগ।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০২৭ সালের পর বাংলাদেশ নিজেই একটি বিনিয়োগকারী দেশে পরিণত হবে। ফলে আমাদের আর বৈদেশিক সাহায্য প্রয়োজন হবে না।’

ইক্যুইটিবিডির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে স্থায়িত্বশীলতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ুভিত্তিক দুর্যোগ ও বিদ্যমান বৈষম্য। জলবায়ু সহনীয় অবকাঠামো তৈরিতে আমাদের জোর দিতে হবে।’

ইআরডির উপসচিব আনোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে আমরা কিছু সুযোগ-সুবিধা হয়তো হারাব। কিন্তু আমাদের পাওয়ারও অনেক কিছু রয়েছে। মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা বাড়াতে হবে।’


মন্তব্য