kalerkantho


দক্ষতা উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ হচ্ছে

আজ মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া

আবুল কাশেমআবুল কাশেম   

২৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:১১



দক্ষতা উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ হচ্ছে

ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশে কর্ম খালি আছে অনেক। আছে পর্যাপ্ত চাকরিপ্রার্থীও। তবুও একদিকে যেমন বেকারত্ব কমছে না। তেমনি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মীও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে মোটা টাকা বেতনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ দক্ষ কর্মী এনে নিয়োগ দিতে হচ্ছে শিল্পে। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, তেমনি দেশীয় বেকারত্বও কমছে না। অন্যদিকে দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা একই মানের অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় কম।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের দক্ষতা উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। খসড়াটি আজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেতে পারে। প্রস্তাবিত ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত মন্ত্রিসভায় পাঠানো সার-সংক্ষেপে এই খসড়া আইন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘বিলটি আইনে পরিণত হলে দেশ ও বিদেশের চাহিদা মেটাতে পারে, এমন দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির চলমান প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে, ফলে বেকার সমস্যা নিরসন হবে এবং দেশের জনগণের কর্মক্ষম অংশ প্রশিক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বেকার ও আংশিক বেকারের সংখ্যা ৭১ লাখ। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান আটটি শিল্প খাতে বর্তমানে ১৭ লাখ ২৭ হাজার শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের বিভিন্ন খাতে আট কোটি ৮৭ লাখ শ্রমিকের দরকার হবে। আগামী সাত বছরের মধ্যে ৯টি খাতে নিয়োগ দিতে হবে আরো দেড় কোটিরও বেশি লোক। এর মধ্যে দক্ষ শ্রমিক লাগবে ৮০ লাখ, আধাদক্ষ ৫৬ লাখ ও অদক্ষ লাগবে ৩১ লাখ। অতীতে দক্ষতা তৈরির জন্য সরকার নানা রকম উদ্যোগ নিলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ার প্রেক্ষাপটে এবার কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মন্ত্রিসভায় পাঠানো সার-সংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৩৭ সদস্যের ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ’ গঠন করা হয়। দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ২২টি মন্ত্রণালয়, ৩৬টি অধিদপ্তর ও সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের কাজ তখন থেকেই শ্রম মন্ত্রণালয় করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি কর্তৃপক্ষ গঠনে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। তার পরই খসড়া প্রণয়ন করে বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনা শেষে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে একজন সচিব এই কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও নীতি নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি গভর্নিং বডি গঠনের কথা বলা আছে খসড়া আইনে। একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্যের সমন্বয়ে এই কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে, যার কার্যাবলি সম্পর্কেও খসড়ার ৫ ও ৬ ধারায় বলা আছে। খসড়া অনুযায়ী আন্ত মন্ত্রণালয় এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের আন্ত সংস্থা কার্যক্রমগুলো সমন্বয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সভাপতি করে একটি কার্যনির্বাহী কমিটি থাকবে।


মন্তব্য