kalerkantho


বর্তমান সরকারকে আরো এক টার্ম ক্ষমতায় থাকা দরকার : মুহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:০৭



বর্তমান সরকারকে আরো এক টার্ম ক্ষমতায় থাকা দরকার : মুহিত

২০২৪ সালের মধ্যে দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে মাত্র চার শতাংশে এসে দাড়াবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, বতমান সরকার গত নয় বছরে  দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১০ ভাগ কমিয়েছে। আরো এক টার্ম বর্তমান সরকার দেশ চালানোর সুযোগ পেলে দেশে আরো দশ ভাগ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমবে। আর রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল মানুষ সব সময় সব  দেশে থাকে। তাই অনেকটা রাজনৈতিক হলেও আমি বলতে চাই, বর্তমান সরকারকে আরো এক টার্ম ক্ষমতায় থাকা দরকার। 

আজ বুধবার তৈরি পোশাক শিল্প সংযোগ পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী গার্মেন্টেক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীতে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৯ম বারের মত বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) গ্যাপেক্সপো-২০১৮ নামক আন্তর্জাতিক শিল্প মেলার আয়োজন করেছে। 

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এখনো  দেশের তিন কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বর্তমান সরকার সর্বান্তকরণে এ বিষয়ে কাজ করছে। বলতে গেলে সর্বশক্তি নিয়োগ করে গুরুত্ব দিয়েছে।  

গ্যাপেক্সপো-২০১৮ উদ্বোধন করতে গিয়ে মুহিত বলেন, গার্মেন্টস শিল্পকে আমরা দেশের মেইনস্ট্রিম শিল্প বলে থাকি। কিন্তু তারা একা কিছুই না। এর সঙ্গে আরো অনেক খাত জড়িত। দেশের রপ্তানির বড় খাত হিসেবে সরকার সব সময়ই এই খাতকে গুরম্নত্ব দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতেও এই খাতের পাশে থাকবে সরকার।

অনুষ্ঠানে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাককাত সকল প্রতিকুলতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কর নীতিমালা সব সময়ই এই শিল্পকে ভুগিয়ে থাকে। এই অবস্থা কাটানোর জন্য সরকারের ৫ বছরের জন্য কর পলিসি নির্ধারণ করা দরকার। এতে ব্যবসায়ীরা  সে অনুযায়ী ব্যবসার পরিকল্পনা করতে পারবেন। 

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মোশের্দী বলেন, এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং খাতে নগদ সুবিধা এবং ইউটিলিটি পারমিশন (ইউপি) সুবিধা দেওয়ার দাবি যৌক্তিক।  অনুষ্ঠানে তিনি এসব দাবি মেনে নেওয়ার জন্যে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

বিজিএপিএমএ সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্যের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ দেশীয়ভাবে পূরণ করতে সক্ষম। গত আর্থিক বছরে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে রপ্তানির মাধ্যমে। সময়ের পরিবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্বের পোশাক ক্রেতাদের জন্য পোশাক পণ্য ক্রয়ের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য প্রস্তুতকারীরা বিশ্বের অন্যান্য দেশে সরাসরি রপ্তানি করছে। সরকার যদি আমাদের যথাযথ সহায়তা প্রদান করেন তাহলে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারব। এছাড়াও সরকার রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কর্পোরেট ট্যাক্স ৩৫ শতাংশ হতে ১ ২শতাংশ হ্রাস করেছে। কিন্তু এক্সেসরিজ খাতের জন্য এ সুবিধা দেয়া হয় নি। এ বিষয়ে তিনি অর্থ মন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

মেলার আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিজিএপিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, চারদিন ব্যাপি এ প্রদর্শণীগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় টেক্সটাইল এবং তৈরি পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের অসাধারণ এক সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রদর্শণীগুলোতে পোশাক তৈরির সর্বাধুনিক আন্ত্মর্জাতিক প্রযুক্তিসমূহ তুলে ধরা হবে। এসব প্রযুক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান চ্যালঞ্জ উত্পাদন, মান, কমপ্লায়েন্স এবং মূল্য সংযোজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। এছাড়াও ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে এক সেতু বন্ধনের সৃষ্টি হবে। আমি মনে করি এ শিল্প মেলা ক্রেতা এবং বিক্রেতার জন্য কার্যকর একটি মিলন কেন্দ্রে পরিনত হবে।


মন্তব্য