kalerkantho


ব্যাংকিং সেক্টরে সফল নারী সানজানা ফরিদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১১:৩২



ব্যাংকিং সেক্টরে সফল নারী সানজানা ফরিদ

সানজানা ফরিদ, কান্ট্রি হেড ব্র্যাক সাজানা এক্সচেঞ্জ

পড়ালেখার অন্যতম মূল একটি লক্ষ্য হচ্ছে ভালো একটি ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। আজকাল ব্যাংকিং পেশা হিসেবে অনেকটাই বিশেষায়িত হয়ে উঠেছে, অন্য যে কোনো ধরনের পেশা থেকে ব্যাংকিং পেশার সুযোগ-সুবিধা একটু বেশি। দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা এখন চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অথবা সবেমাত্র চাকরিতে ঢুকেছেন, তাদের কাছে ব্যাংকের চাকরি বর্তমানে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

আকর্ষণীয় বেতন, সামাজিক সম্মান, ক্যারিয়ারে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সব সুযোগ। এ সবকিছু যে গুটিকয় পেশায় মেলে, ব্যাংকিং তার মধ্যে একটি। সার্বিক মূল্যায়নে ব্যাংকিং পেশা একটি চমত্কার পেশা। এ পেশায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজেদের জীবনযাত্রার মান, সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

এসব কারণে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার এখন অনেক মেধাবীর স্বপ্ন। তেমনি এক স্বপ্নবাজ তরুণী সানজানা ফরিদ। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে। স্বপ্নের ক্যারিয়ার শুরু করেন আমেরিকার একটি ব্যাংক দিয়ে। তারপর আর পিছু ফেরা নয়। এগিয়ে চলেন স্বপ্নের পথে। বর্তমানে সানজানা ফরিদ কান্ট্রি হেড, বাংলাদেশ ব্র্যাক সাজন এক্সচেঞ্জ লিমিটেড।
সানজানা বলেন, আমার ক্যারিয়ার শুরু ২০০৯ সালে আমেরিকার একটি ব্যাংক দিয়ে। আমি মানুষের সাথে খুব সহজেই সম্পর্ক তৈরি করতে পারতাম। তাদের সাথে সহজেই ডিল করতে পারতাম। সেটা যে ভাষার লোক হোক না কেন। আর ব্যাংকের প্রতি আমার অনেক ঝোঁক ছিল। তখন আমি মনে করি আমার এমন কিছু পণ্য নিয়ে কাজ করা দরকার যাতে করে মানুষের কাছে আরো সহজে যেতে পারা যায়। এবং সেই প্রবণতা থেকেই কাজ করা।

আমি প্রথমে কাজ শুরু করি কাস্টমার ডিপার্টমেন্ট থেকে তারপর থেকে প্রতিটি স্তরে কাজ করার জায়গা তৈরি করে নেই। এবং একটা সময় আইটির দিকেও ঝুঁকে পড়ি। আস্তে আস্তে কাজের মাধ্যমে অনন্যা ব্যাংক গুলোর সাথে পরিচিতি হতে লাগলাম। সেই সূএ ধরেই যাএা পর্ব। এবং পরবর্তীতে সেখান থেকেই অন্য একটি ব্যাংক ডেকে নিয়ে যায় আমাকে তাদের রিলেশনশিপ পার্ট টাইম দেখাশোনার জন্য। এর মধ্যে ঐখানে বসেই বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যাংকের সাথে আমার একটি নেটওয়ার্ক হয়ে গেছে।
সেটাই ইউএস ব্যাংক ব্যবহার করতে চেয়েছিল সে ক্ষেত্রে তাদের কিছু কাজ করে দিয়ে ছিলাম। আমেরিকা থাকা অবস্হায়ই ডাক আসলো আর একটি ইনকাম ক্যাশ ব্যাংক থেকে। তারা বাংলাদেশে আসতে চাইলো এবং তারা জানতে পারলো অলরেডি আমি দুইটি ব্যাংক নিয়ে কাজ করি। সেই জন্য তারা আমাকে ডাকলো এবং আমাকে জানায় তারা বাংলাদেশে তাদের ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ওভাবেই ইনকাম ক্যাশের সাথে কাজ করা শুরু করলাম ২০১৬ থেকে।

আর ব্র্যাক সাজানে শুরু ২০১৭ সালের শুরুর দিক দিয়ে। আমি আসলে এতদিন কাজ করছিলাম বিশ্বজনীন পণ্যর সাথে। আমি একটা সময় চিন্তা করলাম এই সুযোগটি লোকাল কম্পানিকেও দিতে পারি। সেই সূত্র ধরেই ব্র্যাক সাজানের সাথে কাজ করা। ব্র্যাক থেকে যখন অফার পেলাম, না করিনি। অনেকেই প্রশ্ন করেছিল কোনো বিশ্বজনীন ব্যাংক ছেড়ে এসেছি। আমার ইচ্ছা ছিল লোকাল এরিয়াতোও আমাকে উপস্হাপন করব। তার জন্যই সাজানের সাথে কাজ করা।

এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা কি ভাবে পেলেন? এই সেক্টরে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করতেছি। এর সাথে যুক্ত হয়ে যখন কাজ করি তখন মনে হয় না কাজ করতেছি শুধু মনে হয়েছে মানুষের সেবা করি। মানুষের কাছে আসার একটি মাধ্যম। প্রতিদিনই এগুলো নিয়ে পড়াশুনা করতাম। তো সাজান আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। একেবারে ভিন্ন ধরার একটি ব্যাংক সাজান।

এখান থেকে কী ধরনের সার্ভিস দেয়া হয়ে থাকে? বা, কি ধরনের প্রজেক্ট আপনারা নিয়ে থাকেন? যেহেতু এটা একটি ব্যাংক তাই আমরা মূলত সেবাই দিয়ে থাকি। লোনের ক্ষেত্রেও আমরা সাহায্য করি। এবং ব্র্যাক ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট খেলার জন্য সুযোগ সুবিধা রয়েছে। অনন্য ব্যাংকের চেয়ে সাজান ডিফারেন্স।

তরুণদের জন্য কোনো সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন? আমরা চাকুরির ক্ষেত্রে তরুণদের অগ্রাতিকার বেশি দিচ্ছি। আমি যেমন একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তেমনি আমাদের অফিসের সবাই তরুণ-তরুণী কর্মরত আছেন।

তরুণরা যদি চাকরির আগ্রহ প্রকাশ করে। তাহলে তাদের কি ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে? প্রথমে আমি তাদের জন্য বলতে চাই ইতিবাচক চিন্তা ধারা নিয়ে আসতে হবে। প্রথমে যদি বলে একটা লোকাল ব্যাংক কি মাইনে দেবে। আমার কাছে মনে হয় ইতিবাচক চিন্তাধারা থাকতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনার্স-মাস্টার্স থাকতে হবে। পার্ট টাইমেরও সুযোগ আছে। অনেকেই পার্ট টাইম করতেছে।

তরুণ প্রজন্ম কিভাবে ক্যারিয়ার নির্বাচন করবে? ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে অনেকেই খুব চিন্তিত থাকেন। কেউ কেউ ভাবছে আমার ক্যারিয়ারটা কেমন হবে, আমি কোথা থেকে শুরু করবো? প্রায় সবাই এর সমাধান চান। অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও বুঝতে পারেন না ছেলে মেয়েকে কী নিয়ে লেখাপড়া করাতে হবে। সিদ্ধান্তহীনতার ফলাফল যেমন পিতামাতাকে নিতে হয়, তেমনি শিক্ষার্থীরাও এর বাইরে যেতে পারে না।



মন্তব্য