kalerkantho


পিপিপি'র মাধ্যমে বিনিয়োগ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে হবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৬:০৭



পিপিপি'র মাধ্যমে বিনিয়োগ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে হবে

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করতে পিপিপি'র মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাত থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার (৪ মার্চ ২০১৭) রাজধানীর বসুন্ধরায় দৈনিক কালের কণ্ঠর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় এই মতামত তুলে ধরেন তারা।

বিগত কয়েকবছরে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, এর পারিপার্শ্বিক অবস্থান, বেসরকারি খাতের অবদান, সর্বোপরি বাংলাদেশের এই উন্নয়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এর ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে রাজধানীর বসুন্ধরায় দৈনিক কালের কণ্ঠর কার্যালয়ে ওই গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি বাংলাদেশ (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওয়াটারমার্ক এমসিএল। উক্ত বিষয়ে এটি ছিল দ্বিতীয় গোলটেবিল আলোচনা বৈঠক। অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্য, কৌশল, ভিশন ২১ বাস্তবায়নের পিপিপি এর সহায়তা ইত্যাদি ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

বৈঠকটি যৌথভাবে স্পন্সর করে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল, গ্রিন ডেলটা ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড।

আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন ড. শামসুল আলম (সিনিয়র সচিব), সদস্য, বাংলাদেশ পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এ ছাড়া পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এনবিএফআই এর সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইয়িদ নাসিম মঞ্জুর।

বক্তারা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধান অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বছরে ৩ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধির উচ্চমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দরকার ৯ বিলিয়ন ডলার।

শুধুমাত্র বাজেটের ওপর নির্ভর করে সরকারের পক্ষে এই বিশাল পরিমাণ অর্থের যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারকে অবশ্যই ব্যক্তিমালিকানাধীন খাত থেকেও বিনিয়োগ গ্রহণ করতে হবে। আর সেই উদ্দেশ্যেই সরকার পিপিপি আইন করেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিপিপির সাফল্যর নজির তুলে ধরতে গিয়ে প্রধান বক্তা ড. শামসুল আলম ইন্দোনেশিয়ার উদারহণ দেন। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে পিপিপি'র মাধ্যমে বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পিপিপি'র মাধ্যমে বাস্তবায়িত সফল অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অন্যতম জাকার্তার ওই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন জানান, পিপিপি'র মাধ্যমে সাফল্য লাভ বেশ কঠিন হলেও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে তা বেশ সহায়ক হবে। আর বাংলাদেশ সরকারও এ ব্যাপারে বেশ আশাবাদী বলে জানান তিনি।

অন্যান্য বক্তারাও পিপিপি'র সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচন করেন। দেশের উন্নয়নে পিপিপি'র মাধ্যমে বিনিয়োগ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সরকারকে আরো আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের যে স্বল্পতা আছে তা পূরণের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপকে মৌলিক উন্নয়ন মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা শুরু করে। একই সঙ্গে এটি সরকারের 'ভিশন ২০২১' লক্ষ্য পূরণের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে। সরকারের ইস্যুকৃত 'পিপিপি অ্যাক্ট' প্রয়োজনীয় উন্নয়ন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি উদ্যোগ করার উপলক্ষ ত্বরান্বিত করতে বিশেষ অবদান রাখছে।

বৈঠকে আরো যারা বক্তব্য রাখেন ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শামসুল হক, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাশেম খান, এটিএন বাংলার বিজনেস এডিটর ইসমাত জেরিন খান, গ্রিন ডেলটা ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মো. রফিকুল ইসলাম, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও এরশাদ হোসাইন, আইডিএলসি ফিনান্স লিমিটেডের করপোরেট বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ এর গ্লোবাল ব্যাংকিং বিভাগের এমডি এবং কান্ট্রি হেড নাসের এজাজ বিজয়, ডেইলি সান এর সম্পাদক শিয়াবুর রহমান, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এর ডিএমডি এবং প্রধান বাণিজ্য কর্মকর্তা সৈয়দ রফিকুল হক।


মন্তব্য