kalerkantho


রেমিটেন্স কমে যাওয়ার কারণ খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক : গভর্নর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রেমিটেন্স কমে যাওয়ার কারণ খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক : গভর্নর

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগের কথা জানিয়ে গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, রেমিটেন্স কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধাণে আমরা কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, কেন্দ্রিয় ব্যাংকের দুটি গবেষক দল শিগগিরই মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো সফর করবে।

তারা রেমিটেন্স হ্রাস পাওয়ার কারণ উদঘাটনসহ বৈধ চ্যানেলে এর প্রবাহ বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করবেন। রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে চেম্বার ভবনে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এর মধ্যাহ্ন ভোজসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর ও সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি আনিস এ খান বক্তব্য রাখেন। গভর্নর বলেন, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ইনফরমাল চ্যানেল এখনও বেশ শক্তিশালী । এজন্য বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর খরচ কমানোর বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ কমলেও দু:চিন্তার কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৮ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আমাদের রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।  

খেলাপী ঋণের কারণে সুদহার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কমছে না উল্লেখ করে ফজলে কবির বলেন, সুদের হার এখন সিঙ্গেল ডিজিটে কমে এসেছে। তবে খেলাপী ঋণ কম থাকলে সুদহার আরো হ্রাস পেতো।

তিনি বলেন, মোট ঋণ স্থিতির মধ্যে ১০ দশমিক ৩ শতাংশই হলো খেলাপী ঋণ। আর মোট খেলাপী ঋণের ২৫ শতাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাকগুলোর। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে (এসএমই) বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন এসএমই ঋণ প্রাপ্তির মূল সমস্যা হলো হস্তান্তর যোগ্য নয় এমন জামানত দাখিল করা। এসএমই ঋণ সহজ করতে হস্তান্তর যোগ্য সম্পদকে জামানত হিসেবে দাখিল করার বিধানের বিষয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, এসএমই ঋণকে কৃষিঋণের মত করে বিতরণ করা য়ায় কি না তা নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আগামীতে এসএমই ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ম্যানুফেকচারিং খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বেসরকারিখাতকে আরো বেশি সম্পৃক্তকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে বৈদেশিক মুদ্রানীতি উদারীকরণের আহবান জানান। একই সাথে তিনি আরএমজি ও নন আরএমজি খাতের জন্য রফতানি উন্নয়ন তহবিলে (ইডিএফ) সম পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া অনুরোধ করেন।  

তিনি বলেন, রফতানি বাণিজ্য বহুমূখীকরণে এটি বিশেষ সহায়ক হবে। বর্তমানে ইডিএফ তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার প্রনোদনা দেওয়া হয় আরএমজি খাতে এবং ১৫ মিলিয়ন নন আরএমজি খাতে দেওয়া হয়। আনিস এ খান তার বক্তব্যে ব্যাকিং খাতে ব্যাংক ইন্স্যুারেন্স চালুর আহবান জানিয়ে বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে বিমাখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আবহেলিত এই খাতটি দ্রুত চাঙ্গা হয়ে উঠবে।


মন্তব্য