kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্যাংক সুদহার কমাতে মালিকদের প্রতি আহবান পরিকল্পনামন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৪১



ব্যাংক সুদহার কমাতে মালিকদের প্রতি আহবান পরিকল্পনামন্ত্রীর

দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশের স্বার্থে ব্যাংক সুদহার আরো কমাতে ব্যাংক মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।  
তিনি বলেন,‘বাংলাদেশে ব্যাংকের সুদহার অনেক বেশি।

পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে এতো বেশি সুদ নেই। এই অতিরিক্ত সুদের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ করতে পারে না। অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে এই সুদহার আরো কমাতে হবে। ’
বৃহস্পতিবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ই-জিপি সিস্টেমে ব্যাংকের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।  
অনুষ্ঠানে সরকারি ক্রয়ে দরপত্র সংক্রান্ত তথ্যের জন্য “সিপিটিইউ” শীর্ষক একটি মোবাইল অ্যাপসের উদ্ভোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, আইএমইডি সচিব ফরিদউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান বক্তব্য রাখেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সুদের হার কমানোর আহবান জানিয়ে বলেন,যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়না উল্টো মামলা করে তাদেরকে ঋণ দেয়া যাবে না। ব্যাংকগুলো যথেষ্ট যাচাই-বাচাই না করে ঋণ দেয়। পরে এসব ঋণ খেলাপী হয়ে যাচ্ছে।  
তিনি বলেন,দেশের ব্যাংকাররা নিজেদেরকে ব্যাংকের মালিক মনে করেন। এটা ঠিক না। ব্যাংকের প্রকৃত মালিক জনগণ। পরিবারতন্ত্র থেকে ব্যাংকগুলোকে বের করে আনতে হবে।
সেবার মনোভাব নিয়ে ই-জিপিতে ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ই-জিপি সিস্টেমে দরদাতাদের পেমেন্ট সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংকের সার্ভিসচার্জ যৌক্তিক করার দাবী জানান।  
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।  
ক্রয়কারী সংস্থার কর্মকর্তা, ঠিকাদার, সিপিটিইউ এর সাথে চুক্তিবদ্ধ ৪২টি ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেসব ব্যাংকের শাখা রয়েছে সেগুলোকে ই-জিপিসিস্টেম সেবা দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। ব্যাংকের ফি জাতীয় ভাবে নির্ধারণ করা দরকার। ’
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফ্যান বলেন, যেসব ব্যাংক ই-জিপিতে কাজ করছে তাদের গোপন তথ্য অবশ্যই গোপন রাখতে হবে।  
আইএমইডির সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান,বর্তমানে ৪৫০টি সংস্থা ই-জিপিতে যুক্ত রয়েছে। প্রায় ২৩ হাজার ঠিকাদার তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৭৩৭টি দরপত্র পড়েছে এবং এক হাজার ২৩৩টি প্রকিউরমেন্ট এজেন্সী রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ই-জিপিতে যুক্ত করা হবে।


মন্তব্য