kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজারে ৫/৬ কোটি টাকার কেনা-বেচা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৭



যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজারে ৫/৬ কোটি টাকার কেনা-বেচা

 দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজারে গত শনিবার ৫/৬ কোটি টাকার চামড়া কেনা-বেচা হয়েছে।
যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ বাজারে সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে।

শনিবার ছিল ঈদ-পরবর্তী চামড়ার বড় হাট। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, চামড়ার খুচরা দাম কম হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী হাটে চামড়া আনেননি। তারা অপেক্ষায় রয়েছেন আগামী হাটে দাম বাড়ে কি-না। তবে হঠাৎ করে লবণের দাম বৃদ্ধি ও সংকট, ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত দর এবারে হতাশায় ফেলেছে ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে এখন বাজারে এনে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজারহাটে প্রতি হাটেই প্রায় যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বরিশাল, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, পাবনা, ঈশ্বরদী এবং নাটোরসহ বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করে থাকেন। তবে প্রতি কোরবানিতে এসব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের আগমন বেড়ে যায়।
এবার ট্যানারী মালিকরা ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে ৫০ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা। ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ হয় প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত দামের বাইরেও বেশি দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী লিটন হোসেন বলেছেন, এ বছর লবণের দাম প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক চামড়ায় পচন ধরেছে। যার ফলে কম দরেই অনেক চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া থেকে খুচরা ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কুমার দাস বলেন, গ্রাম অঞ্চল থেকে চামড়া সংগ্রহ করে তিনি রাজারহাটে চামড়া নিয়ে এসেছেন। কিন্তু প্রতি পিস গরুর চামড়া ১৭শ’ টাকা কিনে ১২শ’ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, চামড়া বিক্রিতে এবার তার মোটা অংকের টাকা টাকা লোকসান হয়েছে। যা বিগত কয়েক বছরে হয়নি। একই এলাকার ৫৫টি ছাগলের চামড়া এনেছিলেন শামছুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি চামড়াগুলো বিক্রি করেছেন পানির দরে। তবে তিনি ঝিকরগাছার কিছু ব্যবসায়ীদের কাছে এর চেয়ে আরও বেশি দর পেয়েছিলেন। কিন্তু বেশি লাভের আশায় রাজারহাটে এসে লসের পাল্লা ভারি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, গরুর চামড়া এক হাজার ৮শ’ থেকে এক হাজার ৯শ’ এবং ছাগলের চামড়া সর্বোচ্চ ১শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের চামড়ার দাম ছিলো সব চেয়ে কম। প্রতি বছর ট্যানারি মালিকদের কোরবানির পশুর চামড়ার দর কমিয়ে ফেলছে। যা খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর। তারা দাবি করেন, ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে দিন দিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। অথচ মূল লাভের অংশ যাচ্ছে ধনী ব্যবসায়ী আর ট্যানারি মালিকদের পকেটে। এসব ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা ইচ্ছা করেই দাম কমিয়ে রাখেন। কারণ চামড়া তাদের কাছেই নিয়ে যেতে হবে। ফলে অধিক মুনাফা জন্য তারা চামড়ার দর কমিয়ে দেন।
সোহবার হোসেন নামে স্থানীয় এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, সারা বছর ট্যানারী মালিকদের সাথে ব্যবসা করে কোরবানি ঈদের সময় সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দেন। কিন্তু এবারের ঈদে তার বাকি খাতার প্রায় ৩০ ভাগ টাকা দেয়নি। যার কারণে তিনি পুঁজি সংকটে পড়েছেন। যার প্রভাব চামড়ার বাজারে পড়েছে বলে অনেক ব্যবসায়ীই তার সাথে সুর মিলিয়ে বলেছেন।
এ বিষয়ে রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকায় বসে চামড়ার দাম নির্ধারণ না করে তৃণমূলের ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে চামড়ার দাম নির্ধারণ করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাঁচবে। তিনি বলেন গত বারের তুলনায় এবার প্রথম হাটে চামড়া উঠেছে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ। অনেক ব্যবসায়ী চামড়া এখন হাটে তোলেনি।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে শনিবারের চামড়ার হাটে। তবে অনেকে পুঁজি সংকটের কারণে চামড়া চাহিদা মত কিনতে পারেননি। তাছাড়া ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেয়া দর ও লবণের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক বিপাকে পড়েছেন। ফলে তাদের উপস্থিতি ছিল কম।


মন্তব্য