kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন

বয়লার ৫৫০০, ইন্সপেক্টর মাত্র ৬

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:২৯



বয়লার ৫৫০০, ইন্সপেক্টর মাত্র ৬

টঙ্গীর শিল্প এলাকায় টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড নামের একটি প্যাকেজিং কারখানায় বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওদিকে বাংলাদেশের শিল্প কারখানায় বয়লার ব্যবহার ও তার তদারকি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

শুরুতে টাম্পাকোর বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস দাবি করলেও, পরে বয়লার ইন্সপেক্টর প্রকৌশলী শরাফাত আলী দাবি করেন যে, বয়লার দুটি অক্ষত আছে। তাই বিস্ফোরণ এবং আগুনের কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় বয়লারের ব্যবহার নিয়ে ভয়াবহ সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের শিল্পকারখানাগুলোতে প্রধানত শক্তি উৎপাদনের জন্য বয়লার ব্যবহার করা হয়। মূত এই শক্তি উৎপাদন করা হয় পানিকে বাষ্পে পরিণত করে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে এই বয়লারের অনুমতি দেয়া হয় এবং বাংলাদেশে বয়লারের আলাদা পরিদর্শন অধিদপ্তরও রয়েছে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে সাড়ে পাঁচ হাজার নিবন্ধিত বয়লারের জন্য পরিদর্শক আছেন মাত্র ছয়জন। জানা গেছে, এই বয়লারগুলো প্রায় তিন হাজার কারখানায় ব্যবহার করা হয়।

বয়লার ইন্সপেক্টর শরাফত আলী ডয়চে ভেলেকে জানান, "আমরা বছরে একবার করে বয়লারগুলো পরিদর্শন করি। পরিদর্শনের সময় বয়লারের সার্বিক অবস্থার সঙ্গে বয়লার অপারেটরসহ বয়লারের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করি আমরা। ''

উল্লেখ্য, আসলেই যদি বয়লারগুলো বছরে একবার পরীক্ষা করা হয় তাহলে একজন ইন্সপেক্টরকে বছরের ৩৬৫ দিনে মোট ৯১৬টি বয়লার পরীক্ষা করতে হবে। মাসে পরিদর্শন করতে হবে ৫৫৮টি বয়লার। এখানে বলা প্রয়োজন, বয়লার ব্যবহারকারী শিল্পকারখানাগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। তাই বাস্তবে এই পরীক্ষা সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতির কারণে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের অফিস থেকে আগেই ২০০ বয়লার ইন্সপেক্টরসহ মোট সাড়ে তিন শ জনবলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অবশ্য এখনো এর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

 ইন্সপেক্টর শরাফাত আলী বলেন, "ঠিকমতো বয়লারগুলো পরিদর্শন করতে হলে ২০০ জন ইন্সপেক্টর প্রয়োজন, কারণ এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। '' তবে সামনেই মানে নতুন চারজন বয়লার ইন্সপেক্টর যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে প্রধান কারখানা পরিদর্শক আব্দুল মান্নান ছুটিতে থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

একধিক সূত্র জানায় যে, এখনকার জনবল দিয়ে হিসেবের খাতায় মাসে ৭০টি বয়লার পরিদর্শন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা করেন না ইন্সপেক্টররা।

অন্যদিকে অভিযোগ যে, আইন অমান্য করেই ভবনের দোতলায় বয়লার স্থাপন করেছিলেন টাম্পাকোর মালিকপক্ষ। ১৯৪০ সালের বয়লার আইন অনুযায়ী, বয়লার মেশিন অবশ্যই ভূপৃষ্ঠের লাগোয়া করে স্থাপন করতে হবে। এরপরও কল-কারখানা পরিদর্শন পরিদপ্তর টাম্পাকোকে ছাড়পত্র দিয়েছে। জানা গেছে, এই দুটি বয়লার আগামী ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত নবায়ন করা আছে।

বয়লার ইন্সপেক্টর শরাফত আলী দুর্ঘটনার দিন শনিবার বিকেলেই দাবি করেন, "বয়লার বিস্ফোরণে নয়, গ্যাস লাইন লিকেজ হয়ে টাম্পাকো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। '' তবে বয়লার দুটি অক্ষত আছে বলে দাবি করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের কল-কারখানা পরিদপ্তরের বয়লার পরিদর্শক ইঞ্জিনিয়ার শরাফত আলী। শনিবার সন্ধ্যায় টাম্পাকো কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাম্পাকো কারখানায় দু'টি বয়লার রয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল মোশাররফ হোসেন জানিয়েছিলেন, "বয়লার বিস্ফোরণের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ''

বাংলাদেশে অনুমোদনের বাইরেও স্থানীয়ভাবে তৈরি করা বয়লার ব্যবহারের অভিযোগ আছে। বিশেষ করে রাইস মিলে প্রায়ই এ ধরনের অননুমোদিত বয়লার বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।


মন্তব্য