kalerkantho


বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে : এইচএসবিসি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪৪



বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে : এইচএসবিসি

যুক্তরাজ্যভিত্তিক হংকং শাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে পরবর্তী দশকে (২০২০-৩০) দেশটির রফতানি বহুমুখী হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫টি দেশের মধ্যে বাণিজ্য আস্থা স্কোরে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বোচ্চে রয়েছে।


প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির অনুকূল বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ক্ষুদ্র অর্থনীতি নীতির সমর্থনে কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে এই সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, ইউরোপে প্রতিযোগিতামূলক মুদ্রা এবং বাণিজ্য উদারিকরণে বাংলাদেশে ২০১৭-২০ সালে রফতানির গড় প্রবৃদ্ধি ১০.৬ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের রফতানির প্রায় তিন কোয়ার্টারের জন্য বস্ত্র ও তৈরি পোশাক দায়ী। তবে ২০১৬-২০ সালের মধ্যে আটটি বিভিন্ন পণ্য সেক্টরের মধ্যে সাতটি বেড়ে ডাবল ডিজিট হবে।
প্রতিবেদনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে ৬.৫ শতাংশের বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবহন এবং জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে। এতে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে এবং রফতানি বহুমুখীকরণে উৎসাহ যোগাবে। বস্ত্র এবং তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় হবার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ট্রেড কনফিডেন্স স্কোর বেড়ে ১৩১ হয়েছে। এই স্কোর ২০১৫ সালের স্কোরের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট বেশি। বাংলাদেশ ২৫টি নমুনায় এখন সর্বোচ্চ স্কোরে রয়েছে। পরবর্তী ছয় মাসের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রত্যাশিতের চেয়ে দু’তৃতীয়াংশের বেশি বৃদ্ধি করতে হবে।
ব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের চেয়ে ভাল। চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি ৭ শতাংশের কাছাকাছি যাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়। ব্যবসায়িক মনোভাবের উন্নতি, রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য উদারিকরণে আগামী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং পিপিপি’র মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণে জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যেই চরলেন বিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, পদ্মাসেতু ও ঢাকা মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণসহ একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হয়েছে। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণও ঘোষণা করেছে।
বস্ত্র ও পোশাক বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি খাত এবং আশা করা হচ্ছে ২০২১ থেকে ২০৩০ সালে রফতানি বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের রফতানি আয়ে তিন -চতুর্থাংশ দাঁড়াবে। টেক্সটাইল ও কাঠ উৎপাদন খাতের অবদান দাঁড়াবে ১৫ শতাংশ তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে, ২০২১ থেকে ৩০ সালে শিল্পের যন্ত্রপাতি রফতানি ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের সাক্ষরতার হার ২০০১ সালের ৬৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৩ সালে দাঁড়িয়েছে ৮১ শতাংশ এবং একই সময়ে মোবাইল ফোন গ্রাহক প্রতি ১০০ জনে ১ জন থেকে বেড়ে প্রায় ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ধীরে ধীরে খাতসমূহকে বাংলাদেশের উচ্চ রফতানি আয়ের দেশে পরিণত করবে।
আইসিটি সরজ্ঞাম রফতানি ২০২১-৩০ সালে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং একই সময়ে যানবাহন এবং পরিবহন সরঞ্জাম রফতানি ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
২০১৪ সালে (এইচএসবিসি’র হিসাবে ২৪টি অংশীদারের মধ্যে) চীন ও ভারত বাংলাদেশের দু’টি বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং ২০৩০ সালে শীর্ষ দু’টি বাণিজ্য অংশীদারে পৌঁছাবে।
এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য উদারিকরণের ফলে এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি করেছে, চীন বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য অবাধ-বাণিজ্য চুক্তির বিষয় আলোচনা শুরুর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। - বাসস।


মন্তব্য