kalerkantho


সেতু আছে সড়ক নেই

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



টাঙ্গাইল শহরের দিঘুলিয়া ও কালিপুর এলাকায় দুটি খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। অথচ সেতুসংলগ্ন সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতু দুটি কোনো কাজেই আসছে না। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনকে। এ সেতু দুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতু দুটি চালু করা হলে শহরের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জেলা সদর এলাকায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, আদালত চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সহজে যাতায়াত করতে পারবে।

এলাকাবাসী জানায়, তিন বছর আগে লৌহজং নদীর পার ঘেঁষে শহরের দিঘুলিয়া লাল সেতুর পাশ থেকে দিঘুলিয়া শহীদ মিজানুর রহমান স্কুল পর্যন্ত রাস্তার কাজ করে টাঙ্গাইল পৌরসভা। এরপর ওই এলাকার দুটি খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়। এক বছর আগে দুটি সেতুরই নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে সেতুর উভয় পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতু ব্যবহার করতে পারছে না এলাকাবাসী।

টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড থেকে সন্তোষ এলাকার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কাগমারী সেতু পার হলেই ডান দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুরের লৌহজং নদী। সেই নদীঘেঁষা গাইজাবাড়ী খালের ওপর প্রথম সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ সেতু থেকে ৫০০ মিটার উত্তর দিকে এগিয়ে গেলেই দ্বিতীয় সেতু। কালিপুর থেকে সাকরাইল যাওয়ার পথে একটি খালের ওপর এটি নির্মিত। সেতুর পাশে খালে মাছ শিকার করতে করতে স্থানীয় মো. সুরুজ মিয়া বলেন, ‘এ খালটি লৌহজং নদী থেকে শুরু করে কালিপুর হয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছন দিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। এখানে ব্রিজ হয়েছে অনেক দিন। কিন্তু রাস্তা নেই। রাস্তা হলে আমাগো চলাচল করতে অনেক সুবিধা হবে। এখান দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ডিস্ট্রিক্ট (জেলায়) যাওয়া যাবে।’ আবু সাইদ নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘ব্রিজের কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বলেও কোনো কাজ হয়নি। সংযোগ সড়কের পরিবর্তে ব্রিজের সঙ্গে বাঁশের সাঁকো দিয়ে দিলেও খালের এপার থেকে ওপার যাতায়াত করা যেত।’ একই এলাকার মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রায়ই তীব্র যানজট হয়। সেতু দুটি চালু করা হলে এদিকের জনগণ বিকল্প পথে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ জেলা সদর এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে। রোগী নিয়ে সহজে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালেও যাওয়া যাবে।’

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সেতু দুটি চালু করা গেলে বেবিস্ট্যান্ডের যানজট এড়িয়ে এলাকার মানুষ সহজইে দিঘুলিয়া হয়ে বেড়াডোমা দিয়ে পার্ক বাজারসহ জেলা সদর এলাকায় যেতে পারবে। দুটি সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। বরাদ্দ এলে সংযোগ সড়ক করে সেতু দুটি চালু করা হবে।’


মন্তব্য