kalerkantho


রাজবাড়ীতে সরকারি বিদ্যালয় উচ্ছেদের নির্দেশ

১০৩ বছর পর প্রশাসন বলছে অবৈধ!

জমিটিতে বসানো হবে হাট-বাজার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



১০৩ বছর বয়স রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এত দিন পরে এসে উপজেলা প্রশাসন বলছে, বিদ্যালয়টির বেশির ভাগ জমিই সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত; খাস জমিতে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ওই জমি থেকে বিদ্যালয়টি (ভবন) উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে হাট-বাজার স্থাপনের কথা বলছে প্রশাসন। নোটিশটি দিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরো জমিই বিদ্যালয়ের।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বালিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তায়েব-উর রহমান আশিক স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ নটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ‘১৩৯ নম্বর গুপ্তলক্ষ্মণদিয়া মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২৩১/২৬৫ নম্বর দাগের ০.৩৫০০ একর (৩৫ শতাংশ) জমি নটাপাড়া হাট-বাজারের সরকারি অকৃষি খাসজমিতে অবৈধভাবে স্কুল ভবন নির্মাণ করেছেন, এই মর্মে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। ৬ মার্চের (গত) মধ্যে সরকারি জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বলা হলো। অন্যথায় বিধি মোতাবেক উচ্ছেদ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

তায়েব-উর রহমান আশিক বলেন, সরকারি অকৃষি খাসজমিতে নটাপাড়া হাট-বাজার থাকলেও জমিটি অবৈধভাবে নটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে আছে। তাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জমিটি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। সেখানে হাট-বাজার স্থাপন করা হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমি না ছাড়লে তা জেলা প্রশাসককে জানানো হবে। জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

গত মঙ্গলবার নটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তানিয়া পারভীন নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিদ্যালয়টি ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। তখন থেকেই জমিতে দুটি ঘর স্থাপিত ছিল। আরএস খতিয়ানভুক্ত জমির মালিকরা বিদ্যালয়ের নামে সম্পূর্ণ জমি ৪৪ শতাংশ দান করে দেন। পরে এসএ খতিয়ানে জমিটির আংশিক ১৫৭ নম্বর দাগভুক্ত ৩৯ শতাংশ ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত হয়।

যার মালিক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের পক্ষে ফরিদপুরের ডেপুটি কমিশনার। গত বিএস রেকর্ডেও জমিটি ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত হয়। এর দাগ নম্বর ২৩১/২৬৫, জমির পরিমাণ ৩৫ শতাংশ (০.৩৫০০ একর)। পরে ৪ শতাংশ জমি (দাগ নম্বর ২৩১/২৬৪) বিদ্যালয়ের নামে বিএস রেকর্ড হয়। আগের প্রধান শিক্ষকরা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ-ম্যানেজিং কমিটি ধারাবাহিকভাবে বিদ্যালয়ের নামে জমি ব্যবহার ও ভোগদখল করে আসছে। বিদ্যালয়ের একটি আধাপাকা ভবন ১৯৯২ সালে ও একটি দোতলা ভবন ২০১২ সালে নির্মিত হয়।

তানিয়া পারভীন জানান, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টির শত ছর পূর্তি অনুষ্ঠান হয়েছে। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই বিদ্যালয়টি সরকারি। এর আগে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো রেকর্ড সংশোধন হয়নি। আগে বিদ্যালয়ের মাঠে শনি ও মঙ্গলবার হাট-বাজার বসত। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সেখানে বাজার বসতে দেওয়া হয় না। তাঁরা বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের পাশে জমি রয়েছে, সেটিও খাস। ওই সব জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট রয়েছে। সেগুলো উচ্ছেদ না করে, শত বছরের পুরনো বিদ্যালয় উচ্ছেদের জন্য বলা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম রেজা জানান, তিনি বালিয়াকান্দিতে যোগ দেওয়ার পর দেখতে পান নটাপাড়া হাট-বাজারটি ক্যালেন্ডারভুক্ত হলেও এর ইজারা হয় না। তাই তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভূমি কর্মকর্তাকে (এসিল্যান্ড) নির্দেশ দেন। তদন্তে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির বেশির ভাগ জমিই সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত এবং তা হাট-বাজারের। বিদ্যালয়ের পক্ষে কোনো বরাদ্দও নেওয়া হয়নি। তাই তিনি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্যই জমিটি উদ্ধার এবং সেখানে হাট-বাজার সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।


মন্তব্য