kalerkantho

বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে আফসান চৌধুরীর ‘গ্রামের একাত্তর’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৯ ১৬:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে আফসান চৌধুরীর ‘গ্রামের একাত্তর’

আফসান চৌধুরী সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাগ্রন্থ ‘গ্রামের একাত্তর’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হবে আজ শনিবার। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

মেলার শেষ দিনে আজ সন্ধ্যা ৬টায় মেলা প্রাঙ্গণে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সেখানে গ্রন্থটি তৈরির পেছনে মাঠ পর্যায়ের গবেষণা ও অন্যান্য দিক সম্পর্কে আলোকপাত করবেন লেখক ও সম্পাদক আফসান চৌধুরী। এ ছাড়া আলোচনা করবেন প্রকাশক ইমেরিটাস মহিউদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ জামাল।

আফসান চৌধুরীর সম্পাদনায় ‘বাংলাদেশ ১৯৭১’ শীর্ষক একটি গ্রন্থমালার প্রথম গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হলো এই ‘গ্রামের একাত্তর’। এই প্রকল্পে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সহকারী গবেষক হিসেবে গবেষণা ও সম্পাদনার কাজ করেছেন সাংবাদিক জাকির হোসেন তমাল। এ ছাড়া ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এই প্রকল্পে সহকারী গবেষক হিসেবে ছিলেন এনামুল হক, এ টি এম যায়েদ হোসেন, ফৌজিয়া আফরোজ, হোসনেয়ারা ইসলাম মৌ, মাসুমা বিল্লাহ, রিফাত আফরোজ, মনিরুল ইসলাম ও শরীফ খুরশিদ আলম । 

১২টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে গ্রন্থটি। এসবের মধ্যে রয়েছে, এক নজরে একাত্তরের গ্রাম; প্রতিদিনের জীবনযাপন; গ্রামের অর্থনীতি; জাতীয় রাজনীতি ও গ্রামের রাজনীতি; রাজাকার; মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা; নির্যাতন; বিপদ-ঝুঁকি, পালিয়ে যাওয়া, হত্যা ও বেঁচে যাওয়া; নারী নির্যাতন ও মোকাবিলা; সম্পদ লুটপাট ও ডাকাত; শরণার্থী জীবন। গ্রন্থটির ১২তম অধ্যায়ে রয়েছে অঞ্চলভিত্তিক তিনটি এলাকার একাধিক কেস স্ট্যাডি।  
 
গ্রন্থটির ভূমিকার একটি অংশে সম্পাদক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসের একটি অংশে থাকে সরকার, প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত যোদ্ধা, নির্বাচিত ও প্রতিধিত্বমূলক রাজনীতিবিদের ভূমিকা ইত্যাদি। অন্য অংশটি হচ্ছে বিভিন্ন জনপদ ও জনগোষ্ঠীর বিবিধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৈরি সমাজের ভূমিকা। এই দুই ধারা ও বাস্তবতা একত্র হয়ে রাষ্ট্র গঠনের সামগ্রিক ইতিহাস নির্মিত হয়।’

আফসান চৌধুরী আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পের ইতিহাসচর্চার প্রচেষ্টা সেই বৃহৎ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতার একটি অংশ। এখানে জীবনযাপনের সামগ্রিক বিষয়টিকে বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় পরিসরে একটি গ্রামের ইতিহাসের গুরুত্ব সীমিত। কিন্তু গোটা বাংলাদেশের সব গ্রাম মিলে একটি ঐতিহাসিক বা বাস্তবতা। তাই জাতীয় পরিসরে গ্রামীণ ইতিহাস বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে।’

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউপিএল-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞিপ্তিতে বলা হয়, ‘গ্রামের একাত্তর’ ইতিহাসকে স্মৃতিবদ্ধ করার নতুন ধরনের একটি প্রকল্প। মূলধারার ইতিহাস চর্চা অনেক বেশি দলিলপত্র নির্ভর, গ্রাম সেখানে নিতান্তই প্রান্তিক। অথচ সিংহভাগ মানুষ ছিলেন গ্রামেরই বাসিন্দা, শহর থেকেও বিপুল মানুষ আশ্রয় নিয়ে ছিলেন গ্রামে। আফসান চৌধুরী সম্পাদিত ‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থে গ্রামজীবনের আলেখ্যগুলোকেই কেন্দ্রীয় পটভূমি হিসেবে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আর এই ইতিহাস চর্চার মূল উপাদান মানুষের স্মৃতি।’

গ্রন্থটি সংগ্রহ করা যাচ্ছে গ্রন্থমেলায় ইউপিএল-এর স্টল (৩৯৪-৯৭) থেকে। গ্রন্থটির মূল্য ধরা হয়েছে ৪৪০ টাকা। 

মন্তব্য