kalerkantho


অগ্নিকন্যা আমার ২৬ বছরের সাধনার ফসল : মোস্তফা কামাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:২৯



অগ্নিকন্যা আমার ২৬ বছরের সাধনার ফসল : মোস্তফা কামাল

এবারের বইমেলায় আলোচিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম মোস্তফা কামালের 'অগ্নিকন্যা। '  এই বই নিয়ে বিস্তর সময় ব্যয় করেছেন।

  এবারের বইমেলায় তাঁর চারটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সবমিলিয়ে লেখক মোস্তফা কামালের এবারের বইমেলাটি লেখালেখির জগতে একটি মাইলফলক হয়ে রবে। লেখকের হয়তো না বলা অনেক কথাই ছিল। সেসব কথা পাঠকেরা নাও জানতে পারতেন। কিন্তু রবিবার ঢাকা এফএম-রকমারির লাইভে সেসব পেছনের কথা বলেছেন কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল।     

লেখালেখির শুরুটা ছিল বেশ আগে। মোস্তফা কামাল বলেন, ৯১ সাল থেকে আমি প্রতিদিন লিখি। লেখালেখিটা আমার কাছে প্রার্থনার মতো। সেই সময় থেকেই ভেবেছি বড় কিছু করবো।

ঐতিহাসিক একটি উপন্যাস লিখবো। কেননা  প্রবন্ধে, গবেষণা গ্রন্থে আমরা অনেক তথ্য পাই। কিন্তু গল্পের মতো করে উপন্যাসে ঐতিহাসিক চরিত্র গুলোকে কেউ ধারণ করেন নি। আমি বড় ধরনের কোনো সৃষ্টি করতে চেয়েছি। আর সেখান থেকেই আজকের 'অগ্নিকন্যা'র সৃষ্টি। আমার উপন্যাসের চরিত্রগুলো ঐতিহাসিক। আর এজন্য আমাকে চরিত্রগুলো,তথ্যগুলো ভেতরে ধারণ করেছি।

অগ্নিকন্যা সম্পর্কে মোস্তফা কামাল বলেন, এটা আমার ২৬ বছরের সাধনার ফসল। এটার জন্য আমাকে অনেক গবেষণা করতে হয়েছে। দেখেন এই উপন্যাসের চরিত্রে কারা? বঙ্গবন্ধু, জিন্নাহ, মতিয়া চৌধুরী। আমি তো অনর্থক এই চরিত্রের ভেতরে ঢুকতে পারবো না। ঢোকার জন্য আমাকে পড়তে হয়েছে, চিন্তা করতে হয়েছে।   আমি চেয়েছি সেই সময়টাকে ধরতে। আমি অনেক পড়াশোনা করে গল্পের মতো লিখতে চেয়েছি।   সাবলীলভাবে লিখেছি। ভাষা ঝরঝরে, এজন্যই পাঠক অগ্নিকন্যা পড়বেন।   বইটির আরো দুইটি খণ্ড আরো আসবে। পাঠকদের এখন সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ইতোমধ্যে লেখালেখির জগতে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছেন এই লেখক। ইতোমধ্যে ৯৬টা বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে লিখছেন নাটক। নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে সেসব নাটক। পেশায় সাংবাদিক এই কথাসাহিত্যিক  সাংবাদিকতার পাশপাশি বাকি সময়টা লেখালেখির পেছনেই ব্যয় করেন। এমনটাই জানালেন  ঢাকা এফএম-রকমারির ফেসবুক লাইভে।

ক্লাসএইটে পড়ার সময়ে বরিশালের স্থানীয় পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে লেখালেখির শুরু হয়। তখন থেকেই নিয়মিত সংবাদ পত্র পড়তেন। একই সাথে ক্যারিয়ারও গড়তে চেয়েছিলেন 'সংবাদ' পত্রিকাতে। স্বপ্নের মতো বিষয় ছিল লেখক হওয়াটা। মোস্তফা কামাল বলেন, লেখালেখিটা আসে ভেতর থেকে। তাগিদ না আসলে লেখা হয় না।

এবারের বইমেলায় নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে লেখক মোস্তফা কামালের। মোস্তফা কামাল বলেন, বইমেলায় গিয়ে অবাক হয়েছি, এক ছেলে আমার ৫টি বই কিনেছে। আমি বললাম ৫টি বই কেন? ছেলেটি জানালো, একটা বই বাবা'র জন্য, একটা বই মায়ের জন্য, একটা বই বোনের জন্য, একটা ভাইয়ের জন্য আরেকটা নিজের জন্য।   তারা পরিবারের ৫জনই আমার ভক্ত।   বিষয়টি আমাকে অভিভূত করেছে। এটা একজন লেখকের জন্য বড় প্রাপ্তি।

এবারের বইমেলা সম্পর্কে লেখক বলেন, এবারের বইমেলা অনেক প্রাণবন্ত। আমি শুক্রবারে মেলায় গিয়েছি। হাজার হাজার মানুষ আসছেন, বই কিনছেন। এটা লেখকের জন্য অনেক ভালোলাগার একটি বিষয়। বাচ্চারা এসে যখন বলছে আমি ওই বইটা নেবো, আমি বইটা নেবো এসব শুনতেঈও অনেক মধুর লাগে।

মোস্তফা কামাল কখনো উপন্যাস লিখেছেন, কখনো রম্য, কখনো সায়েন্স ফিকশন। সাহিত্যের নানা শাখায় আড়াই দশক ধরে তাঁর বিচরণ।   এবারের বইমেলায় অগ্নিকন্যাসহ চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ আলোচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'অগ্নিকন্যা। '


মন্তব্য