kalerkantho


মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৪১টি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:১৪



মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৪১টি

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার ১৭তম দিন। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৪১টি এবং ৬৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আজ ছিল মেলায় শিশুপ্রহর।

অমর একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। বিচারক মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী ইয়াকুব আলী খান, আবু বকর সিদ্দিক এবং সাগরিকা জামালী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা ২০১৭'র আহ্বায়ক রহিমা আখতার কল্পনা। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া আজ শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফল ঘোষণা করা হয়। ক শাখায় অনুভা হালদার, মিনহাজ জামান শান এবং মানহা মারনিয়া জামান। খ শাখায় তাসনিম সুলতান মহীয়সী, ফারহাত লামিসা, অতন্দ্রীলা পদ্য দে।

গ শাখায় আর্ণিকা তাহসীন, নাহিয়ান মাইশা অয়মী এবং কানিজ ফাতেমা। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে  ১০টায় পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আশি'র দশকের কবিতা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি কুমার চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. মাসুদুল হক ও ড. আমিনুর রহমান সুলতান। সভাপতিত্ব করেন কবি রুবী রহমান।

কবি কুমার চক্রবর্তী বলেন, "আশির দশকের কবিদের হাতে এসব পরিবর্তন ভাবনার আবির্ভাব ঘটেছিল যা ছিল আগের কালপর্বের কবিতাচর্চার থেকে ভিন্ন, অভিনব ও মৌলিক একটি ঘটনা। কেননা তা বাতিল বা অবজ্ঞা করেছিল আগের কবিতাকরণ কৌশলকে এবং ভাবনাকেও; চেষ্টা করেছিল নিজস্ব ও নতুন প্রস্বর, প্রতীকায়ন এবং অভিপ্রায়কে আবিষ্কার করতে। বাংলাদেশের পঞ্চাশ, ষাট, সত্তরের কবিতায় পশ্চিমি আধুনিকবাদ, পরাবাসত্মববাদ ও ক্ষেত্রবিশেষে অস্তিত্ববাদী সঙ্করায়ণ ও অতিচর্চার যে অনুকরণসর্বস্ব প্রচেষ্টা ছিল, আশির দশক এসব পেন্ডোরাবাক্স থেকে বেরিয়ে এসে কবিতার নতুন পরিচয়সন্ধানে ছিল। সম্ভবত এ অন্বেষণটি এখনও স্বতশ্চল আমাদের কবিতার বদ্বীপে, কেননা এ ধারণা প্রজন্মান্তরে এখনও চর্চিত।

আলোচকরা বলেন, "আশির দশকের কবিরা স্বভাবগতভাবে, মননগতভাবে এবং চৈতন্য দিয়ে কাব্যগঠনের ধারাটিকে সত্তর দশক থেকে পৃথক করে তুলেছিলেন। সত্তরের কবিতার স্লোগানধর্মিতা আশির দশকে আর পাওয়া যায় না। বাংলার লোক অনুষঙ্গ ও নাগরিক জীবনযাত্রা একত্র করার প্রবণতা দেখা যায় এ সময়ের কবিতায়। প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে বেরিয়ে এসে ছোটকাগজকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের ভেতর দিয়ে পরিবর্তিত জীবনধারার সাথে সঙ্গতি রেখে আশির দশকের কবিরা তাদের নিজস্ব কবিসত্ত্বাকে প্রকাশ করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে কবি রুবী রহমান বলেন, "আমাদের ভাবনার জগতে রাজনীতির যে বিস্তার রয়েছে তার ছায়াপাত ঘটেছে আশির দশকের কবিতায়ও। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক পটভূমি তার সঙ্গে আশির দশকের কবিতা বিজড়িত। আশির দশকের কবিদের তৈরি পথ দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কবিরা বাংলা কবিতার ধারাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ফয়জুল আলম পাপ্পুর পরিচালনায় আবৃত্তি সংগঠন 'প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন'র আবৃত্তি পরিবেশনা এবং ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদ'র শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা।

আগামীকালের অনুষ্ঠান সূচি :

আগামীকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব :

সকাল ১০টায় অমর একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে শিশুকিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান, শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়ুয়া এবং বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন।  
বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে নব্বই দশকের কবিতা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি মোস্তাক আহমদ দীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ড. শহীদ ইকবাল ও ড. এ এম মাসুদুজ্জামান। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাজ্জাদ শরিফ। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 


মন্তব্য