kalerkantho


একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন ৩১টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৫৪



একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন ৩১টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

আজ ৩০ মাঘ ১৪২৩/১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২তম দিন। গ্রন্থমেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। আজ মেলায় নতুন বই এসেছে ৯৬টি এবং এদিন ৩১টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।  

আজ বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে দীনেশচন্দ্র সেনের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. মাহবুবুল হক এবং ড. এম আবদুল আলীম। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম।  

প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গবেষণা, বাংলা সাহিত্যকে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যায়নের উপযোগী করে গ্রন্থ-প্রণয়নে এবং সকল সংকলন সম্পাদনার মাধ্যমে পূর্ববাংলার উন্নত লোকসাহিত্যকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে স্মরণীয় হয়ে আছেন দীনেশচন্দ্র সেন। ১৯ শতকের শেষার্ধে বাঙালির জাতীয় মানসে উপনিবেশবাদী চিন্তার বিপরীতে যে স্বাজাত্যবোধের জাগরণ ও সমৃদ্ধ অতীতের গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রবল স্পৃহা সৃষ্টি হয় তা থেকেই পরিপুষ্ট লাভ করে দীনেশচন্দ্র সেনের জীবনবোধ। অপরিসীম সাহিত্যানুরাগী ও দেশকল্যাণব্রতী দীনেশচন্দ্র সেন জীবনজিজ্ঞাসা ও শিল্পদৃষ্টির ক্ষেত্রে ছিলেন আধুনিক ও আবেগময়, জাতীয়তাবোধ ও বিশ্বাত্মবোধপুষ্ট এবং আভিজাত্যের গৌরববিযুক্ত নিম্নবর্গমুখী ও সদর্থক জীবনচেতনার উদ্দীপ্ত।

সাহিত্যচর্চায় তাঁর সাধকোচিত নিষ্ঠাই তাঁকে জাতীয় ঐতিহ্য আবিষ্কার ও ইতিহাসের সত্য-উন্মোচনে সার্থক করে তুলেছে।  

আলোচকদ্বয় বলেন, গীতিকা সাহিত্য সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনায় দীনেশচন্দ্র সেন যে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তা অনন্য। সেই সাথে গীতিকা সমূহের শিল্পগুণ মূল্যায়নেও তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর আমরা পাই। উদার, অসাম্প্রদায়িক ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিভার বলেই তিনি জাতীয় সীমারেখা অতিক্রম করে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি পেয়েছেন।  

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম বলেন, ড. দীনেশচন্দ্র সেন একজন বরেণ্য মনীষী, যিনি আজীবন সাহিত্য গবেষণা, লোকসাহিত্যের উপাদান সংগ্রহ এবং তা বিশ্লেষণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর অসাধারণ সাহিত্য ও শিল্পদৃষ্টি স্বদেশ ও বিদেশে তাঁকে বিশিষ্ট মর্যাদার আসন দান করেছে।  

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রেজিনা ওয়ালী লীনা, মো. রফিকুল ইসলাম এবং এস এম মাহিদুল ইসলাম এবং শাহাদাৎ হোসেন নিপু। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী স্বপ্না রায়, চন্দনা মজুমদার, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চৌধুরী, মো. নূরুল ইসলাম এবং রহিমা খাতুন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রাজু চৌধুরী (তবলা), মো. মামুনুর রশিদ (বাঁশি), রতন কুমার রায় (দোতারা) এবং মো. শুভ (বাংলা ঢোল)।


মন্তব্য