kalerkantho


'কবিতা কখনো নষ্ট হয় না'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৫৮



'কবিতা কখনো নষ্ট হয় না'

নীলকণ্ঠ পদাতিক। এবারের একুশের বইমেলায় দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে ৩৫টি কবিতা নিয়ে বেরিয়েছে তার প্রথম কবিতার বই 'ডুব সাঁতারের কাব্য'।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ফকির আল মামুন। তার সাথে কথা বলেছেন নাজমুস সাকিব রহমান

আপনি কবিতা লিখতে গিয়ে ছদ্মনাম বেছে নিলেন কেন?
হা হা হা। প্রথমেই এই প্রশ্নটা আশা করিনি। লেখালেখির শুরুটা হয়েছিল হাই স্কুলে। তখন ছড়া লিখতাম। ঠিক-ঠাক হতোও না। বেনামে লেখার প্রবণতাটা তখনই শুরু। বায়স, সারস, হুতুম ইত্যাদি নামে স্কুলের ম্যাগাজিনে লিখতাম। কিন্তু এই 'নীলকন্ঠ পদাতিক' নামটাকে ঠিক ছদ্মনাম বলা চলে না। এখানে দু'টো প্রতীক ব্যবহার করেছি। যা আমার জীবনকে নির্দেশ করে।

তা প্রতীক ব্যবহারে আগ্রহী হওয়ার কারণ?
আমি কিছুটা কৌতুহলী মানুষ। রূপক-প্রতীকের প্রতি একধরনের আকর্ষণ রয়েছে বলতে পারেন। তবে মূল কথাটা হলো, দিস্তা দিস্তা কাগজে লিখেও আপনি যা বোঝাতে পারলেন না- এমন একটা দু'টো শব্দে হয়ত তার থেকেও বেশি কিছু প্রকাশ করা সম্ভব।

সে ক্ষেত্রে আপনি ছড়া থেকে কবিতায় আসলেন কেন?
বিষয়বস্তু সরল না হলে ছড়া'র প্রাঞ্জলতা নষ্ট হয়। কথাটা কলেজে পড়াকালীন আমাদের বাংলার অধ্যাপক বলেছিলেন। তিনিই আমাকে কবিতার দিকে টেনে আনেন।

মানে আপনি নিজে আসেননি?
আমি তো আগে থেকেই ছিলাম! শুধু প্রকরণটা বদলেছে। ছড়া থেকেই কবিতার জন্ম, সেটা নিশ্চয়ই জানেন।

তাহলে কবিতার প্রাঞ্জলতা কীসের কারণে নষ্ট হয়?
অহেতুক দুর্বোধ্য শব্দ, আর শিষ্টাচারবর্জিত যৌনতার প্রদর্শন ছাড়া কবিতার প্রাঞ্জলতা আর কিসে নষ্ট হয়- আমার ঠিক জানা নেই। তবে কবিতা কখনো নষ্ট হয় না।

কবিতা যে নষ্ট হয় না, এটা কি আপনার বিশ্বাস?
হ্যাঁ। এবং তা অগাধ।

রবীন্দ্রনাথের কবিতার সংখ্যা পনের শ'র মতো। তার মধ্যে অনেকগুলো কবিতা এই সময়ে এসে ম্লান হয়ে গেছে। এ কথা সুনীল বলেছেন, এখনও অনেকে বলছেন। সে ক্ষেত্রে কবিতাগুলো কি নষ্ট হয়েছে?


পরীক্ষা কিংবা গবেষণার প্রয়োজন ছাড়া প্যারীচাঁদের গদ্যও আজ আর কেউ পড়েন বলে মনে হয় না। কিন্তু তার এই লেখাগুলি বাদ দিলে আজকের সাহিত্যের শিকড়ের কি থাকে বলুন তো?

নিজের সময়ে রবিঠাকুরকে অনেক গঞ্জনা সইতে হয়েছে। তবে, শুরুর কথা বিবেচনায় আনলে যোগ্যতার মাপকাঠি অনেকের মাথাতেই পড়বে। আমি আপনার এ প্রশ্নটা এড়িয়েই যেতে চাই।

ঠিক আছে। আপনি লিখেছেন, 'অবিশ্রান্ত বর্ষণের ফলে পেতে পারো শুধু কদমের উষ্ণ উচ্ছ্বাসটুকু। এক উঠোন বৃষ্টির জলে কোনোদিন পদ্ম ফোটে না। ' কি ভেবে এই ভাবনাটা এলো?

আমার একজন বন্ধু সব কিছুতেই সফল হতে চায়। কিন্তু সে বড় আলসে প্রকৃতির। জীবনও খুব বড় কিছু দেয়নি তাকে। তাকে উদ্দেশ্য করেই কবিতাটা লেখা। জীবন আসলে কি কিছু দেবে আমাদের?

আমাদেরই উচিত তাকে কিছু দেওয়া। অর্জনের ফর্দটা লম্বা হবে কেবল তখনই- যখন প্রাপ্তির পথে আমাদের যাত্রায় পা'টাও পড়বে বেশ লম্বাভাবেই। অর্থাৎ, পদ্মই যদি কারো কামনা হয়ে থাকে, অন্তত দীঘি পর্যন্ত তাকে যেতেই হবে। নিয়তিকে জাপটে ধরে বাঁচা যায়। জীবন চলে না।

বাস্তবতা বুঝতে হবে?
হ্যাঁ।

আপনার কবিতার সমালোচনা করুন।
প্রথমত, নিজেকে কখনো কবি আমি বলি না। কখনো আমার জীবনের গল্পগুলো, কখনো চোখে দেখা ঘটনা, ইত্যাদি অভিজ্ঞতাগুলো বাস্তবতা আর কল্পনার মিশেলে কবিতা হয়ে ওঠে। আশাই জীবন, হয়ত আমার কবিতাগুলো ততটা আশাজাগানিয়া নয়। কারণটা প্রথম দুই লাইন পড়লেই বুঝতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, ছড়াতেই আমার হাতেখড়ি। বলেছি আপনাকে। ছড়াকারের একটা স্বাধীন জগৎ থাকে। সেখানে ব্যাকরণের বাছ-বিচার ততটা নেই। আমার কবিতাগুলোতেও এই ব্যাপারটা আছে। ছন্দ আর মাত্রাকে আমি কবিতার পায়ে শেকল বলে জ্ঞান করি। কখনো কখনো কোনো কবিতার পুরোটায় মাত্রা-ছন্দ ঠিক রেখে শেষ লাইনে এসে তা ছেড়ে দিয়েছি। যেমন- চাতকের স্বপ্ন-সুখ।

আপনি বায়স, সারস, হুতুম ইত্যাদি নামে লিখেছেন। এখন নীলকণ্ঠ পদাতিক নামে লিখছেন। ভবিষ্যতে অন্য কোনো নামে লেখার সম্ভাবনা আছে?
আপনার শেষ প্রশ্নের জবাবটা হয়তো আমি নিজেই। 'নীলকন্ঠ পদাতিক' শব্দ দু'টো এখন আর শুধু কলম কিংবা কালিতে লেখা নাম নয়। আমিই নীলকণ্ঠ পদাতিক।

 


মন্তব্য