kalerkantho


‘শব্দের জন্য সবসময় অপেক্ষা করে থাকি’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:০৯



‘শব্দের জন্য সবসময় অপেক্ষা করে থাকি’

ফরহাদ হোসেন খান। এবারের একুশের বইমেলায় ‘দাঁড়িকমা’ প্রকাশনী থেকে এসেছে—তার প্রথম কবিতার বই ‘ছায়াবীথি’।

  তার সাথে বই ও লেখালেখি বিষয়ে কথা বলেছেন নাজমুস সাকিব রহমান

এটা তো আপনার প্রথম বই। প্রথম বইয়ের পেছনে একটা স্বপ্ন থাকে, আপনারও কি ছিল?

তেমন কোনো স্বপ্ন ছিল না। আসলে না লিখে থাকতে পারি না। লেখালেখি ব্যাপারটা প্রতিদিনের আহার্যের মতো। তবে, মাস-দুয়েক আগে ভাবলাম বই আকারে ছাপালে কবিতাগুলো সব একসাথে থাকে, এই আর কি। এটা ছাড়া তেমন বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না। সাহিত্যচর্চা আমার নিয়মিত প্রার্থনার মত।

প্রার্থনার সঙ্গে কিন্তু পবিত্রতার একটা ব্যাপার থাকে। সাহিত্যচর্চার মধ্যেও কি আপনি এটা আলাদা করে ফিল করেন?

অবশ্যই ফিল করি।

আমি মনে করি সত্যিকার সাহিত্যচর্চা একজনকে মানুষকে আসল মানুষে পরিণত করে। প্রার্থনা যেমন একজন মানুষকে শুদ্ধ করে, শান্তি দেয়, বিদীর্ণ মনকে প্রশান্তি দেয়; সাহিত্যও আমাদের অন্ধকার মনকে আলোকিত করে। আমাদেরকে শুদ্ধ করে, আমাদের বিবেককে জাগ্রত করে। আসলে সাহিত্যের দান যে অসীম।

আপনার একটা কবিতায় লিখলেন, ‘চোখ ভিজিয়ে ভিজিয়ে সবসময় প্রার্থনা করি ওই কৃষক যেন আমার জমিটার সদ্ব্যবহার করে। ’ কাব্যের সদ্ব্যবহার কতটুকু করা হচ্ছে বলে মনে হয়?

আমার বিশ্বাস যতটুকু আমি থাকতে করতাম—ততটুকু ওই কৃষক করছে না। ভালোবাসার মানুষের প্রতি মানুষের মমতা অসীম। এটার তুলনা হয় না। দাম্পত্যজীবনের চাপে ভালোবাসা প্রায়সময়ই কম থাকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই হয়।

কবিতা লিখতে গিয়ে কখনও মনে হয়েছে, কলমের কন্ট্রোল আপনার হাতে নেই?

বহুবার মনে হয়েছে। অনেক সময় রাইটার্স ব্লকে ভুগি। এটা কেবল আমার না, প্রায় সবারই হয়।

আচ্ছা। আপনার বইটা নিয়ে কিছু বলেন। ধরেন, আপনাকে বললাম এটার মার্কেটিং করতে ...

ইতোমধ্যে তো মার্কেটিং করছি। এখন তো মার্কেটিং করার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া। আমার বিশ্বাস আমার কিছু কবিতা আছে যেগুলো আপনাকে ভাবাবে, আপনি মুগ্ধতায় ডুবে থাকতেও পারেন। আমার কবিতা পড়ে আপনি অনেক তথ্য পাবেন, কবিতার মাধ্যমে আমি মানুষকে নানা তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করি। অনুভূতির তথ্য, ইতিহাসের তথ্য, সাহিত্যের তথ্য। আমি চাই মানুষ আমার কবিতা পড়ে তথ্য পাক, ভাবুক।
আমি আমার বেশকিছু কবিতার নাম বলতে পারি যেগুলোতে ইতিহাসের তথ্য আছে। যেমন—‘এতটুকু চাইনি কখনো’,’আমাদের দেখা হবে সেই কখন’ ইত্যাদি।   আমার মনে হয় যে কবিতা মানুষের ভালো লাগে সেটা ক্ষণকালের, আর যে কবিতা মানুষকে ভাবায় সেই কবিতা চিরকালের।
মোটকথা, আমার কবিতা পড়ে আপনি অনেক কিছু জানতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

হ্যাঁ, এই দিকটা আছে। ‘চর্যাপদ থেকে চোখ মেলে আছি’ এরকম একটা কবিতা আমার দেখা হয়েছে। তা আপনি কবিতায় তথ্য রাখার ব্যাপারে আগ্রহী হলেন কেন?

ওই যে বললাম, মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া বা এগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে আমি খুব মজা পাই। ভেতরের মানুষটা আমাকে এসব করতে তাড়া দেয়। তাই এই ব্যাপারে এতটা আগ্রহী।

আচ্ছা, কবিতা আপনাকে ধরা দেয় না-কি আপনিই কবিতাকে ধরেন?

কবিতাই আমাকে ধরা দেয়, Nissim Ezekiel এর Poet, Lover, Birdwather নামে একটা কবিতা আছে। এই কবিতাই একটা লাইন আছে—The best poets wait for best words. আমিও উপযুক্ত শব্দের জন্য সবসময় অপেক্ষা করে বসে থাকি। যেভাবে গর্ভধারিণী অপেক্ষা করে অনাগত সন্তানের জন্যে।

সে ক্ষেত্রে এই অপেক্ষা কি মধুর মনে হয়?

যদি আমি চিরকালের কবিতার কথা ভাবি—তাহলে অবশ্যই মধুর অপেক্ষা। শুধু কবিতা কেন? সমস্ত মানবজন্মই তো অপেক্ষার গোলকে ঘুরছে।


মন্তব্য