kalerkantho


'প্রেমিক চরিত্রের দ্বিমুখিতা,অসঙ্গতি তুলে ধরেছি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:৫২



'প্রেমিক চরিত্রের দ্বিমুখিতা,অসঙ্গতি তুলে ধরেছি'

একজন বহুগামী পুরুষের ভণ্ডামি নিয়ে এই উপন্যাস! নিজের তৃতীয় উপন্যাসের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এমনটিই জানালেন ঔপন্যাসিক রোকেয়া লিটা। এবারের বইমেলায়  প্রকাশিত এই উপন্যাসটির নাম 'পুরুষ।

'   এর আগে, ডুমুরের ফুল ও সমকামিতা নামে দুটি উপন্যাস প্রকাশ করে বেশ আলোচনায় আসেন এই লেখিকা। তার লেখার সবচে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি গতানুগতিক কোনো বিষয় নিয়ে লেখেন না। সবসময়ই ব্যতিক্রমধর্মী কোনো বিষয় উঠে আসে তার উপন্যাসে। কথা হলো তার সাথে-

আপনার আগের দুটি উপন্যাসের মতো 'পুরুষ' উপন্যাসটিও কি বিতর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে লেখা?

আসলে বিতর্কিত শব্দটি আমি ব্যবহার করতে চাই না। আমি বলবো,  এবারের উপন্যাসটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা।   তবে, এমন নয় যে, এসব ঘটনার সাথে আমরা পরিচিত নই। আসলে, এসব ঘটনা আমাদের সমাজেই ঘটছে, কিন্তু কেউ প্রকাশ করে না।

উপন্যাসের বিষয়বস্তু যদি একটু সংক্ষেপে বলেন?

উপন্যাসের নায়কের নাম কার্তিক। দেবতার নাম তার পছন্দ নয়, তারপরও লোকে তাকে কার্তিক বলে ডাকে।

ধর্ম তার কাছে এক ধরণের আফিম, সবাইকে সে এই আফিম থেকে দূরে থাকতে বলে। সারা জীবনে সে যতগুলো মেয়ের সাথে প্রেম করেছে, তারা সবাই ছিলো মুসলমান। জীবনে কখনই নাকি কোনো হিন্দু মেয়েকে পছন্দ হয়নি তার (স্ত্রী ব্যতীত)। এই হলো কার্তিক সাহা।

তারপর?

প্রেমের কারণে মানুষ পরিবার থেকে পালিয়ে যায়, পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, এমনকি তাজমহলও বানায়। কিন্তু কার্তিক সাহা একেবারেই উল্টো। কার্তিকের প্রেমে পড়ে এক মেয়ে আত্মহত্যা করলেও সে থেমে থাকে না। একের পর এক মেয়েদের সাথে প্রেম করেই যায় সে। বরং, তার মৃত প্রেমিকাকে পুঁজি করেই সে মেয়েদের পটায়। উপন্যাসের নায়িকা 'মৃদুলা' তেমনি একটি মেয়ে, যে কি না কার্তিকের ফাঁদে পা দেয় এবং তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে জীবনের চরম মূল্য দেয়।

কার্তিক কি প্রেমিক?

নানা নানা ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কার্তিক-মৃদুলার প্রেম। একসময় চরম একটি সত্য মৃদুলার সামনে এসে দাঁড়ায়। কার্তিক নাস্তিকও নয়, কার্তিক প্রেমিকও নয়। সে একজন কট্টর মৌলবাদী হিন্দু। সারা জীবন মুসলমান মেয়েদেরকে তার প্রেমের ফাঁদে ফেলাই ছিলো তার মৌলবাদের হাতিয়ার।

এই উপন্যাসটি  কি সত্যিকারের কোনো ঘটনা অবলম্বনে লেখা হয়েছে, নাকি কাল্পনিক?

উপন্যাসের চরিত্রগুলো কিছুটা কাল্পনিক আর কিছু কিছু চরিত্র পুরোপুরি বাস্তব। তবে, উপন্যাসে চরিত্রগুলোর প্রকৃত নাম ব্যবহার করা হয়নি।

কার্তিক চরিত্রটি কি বাস্তব?

হ্যা, কার্তিক চরিত্রটি বাস্তব।

বোঝাই যাচ্ছে, এবারও বেশ ভিন্নধর্মী একটি উপন্যাস লিখেছেন আপনি। আচ্ছা, এই যে আপনি সবসময়ই ভিন্ন ধরণের কোনো বিষয় নিয়ে লেখেন, কারণ কী?

আসলে প্রতিবছরই বই মেলায় প্রচুর বই প্রকাশিত হয়। আমি কোনো উপন্যাস লেখার আগে সবসময় নিজেকেই প্রশ্ন করি, এতো এতো লেখকের ভীড়ে পাঠক আমার বইটিই কেন বেছে নেবে? আর তাছাড়া একজন লেখকের চিন্তার ভিন্নতা,বা ভিন্ন কোনো দৃষ্টিভঙ্গিই  কিন্তু তাকে বা তার লেখাকে আর দশজনের কাছ থেকে আলাদা করে তোলে।

আপনার 'ডুমুরের ফুল' উপন্যাসটি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি অংশ বেশ ক্ষেপে গিয়েছিল।   কেন বলুন তো?

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। তারা যে শুধু ক্ষেপে গিয়েছিল, তা নয়। কেউ কেউ আমাকে ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছিল। আসলে উপন্যাসটির একটি অংশ পাহাড়িদের প্রথাগত বিচার ব্যবস্থার ধর্ষণের শাস্তিস্বরুপ শুকর জরিমানা দেয়ার প্রসঙ্গ এসেছিল, যা তারা পছন্দ করেনি। আসলে আমি শুরু থেকেই বলেছি যে, আমি একটি ফিকশন লিখেছি। একটা ফিকশন নিয়ে কেন তারা এমন আচরণ করলো, আমি ভেবেই পাচ্ছি না। আর তাছাড়া, পাহাড়িদের মধ্যে ধর্ষণের শাস্তিস্বরুপ পশু  বা এই জাতীয় কিছু জরিমানা দেয়ার প্রচলন তো নতুন কিছু নয়। আপনি ইন্দোনেশিয়ান ট্রাইবদের কথাই ধরুন না, ইন্দোনেশিয়ান ট্রাইবদের মধ্যে কেউু ধর্ষণ করলে গোত্রভেদে শুকর বা হাতির দাঁত জরিমানা দেয়ার বিধান রয়েছে। কাজেই এমন নয় যে, আমি কোনো অলীক বিষয় নিয়ে লিখে কারো সম্মানের হানী ঘটিয়েছি। বরং, আমি বলবো পার্বত্য চট্টগ্রামের ওই অংশটি সবসময় নিজেদের স্বাধানতার কথা বলে, অথচ সামাণ্য একজন লেখককে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে রাজী নয় তারা। এর অর্থ হচ্ছে, তারা যা বলবে একজন লেখককে তাই লিখতে হবে, লেখকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের কোনো দাম নেই তাদের কাছে।

আপনার নতুন উপন্যাস 'পুরুষ' বইমেলায়  কোন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে?

'পুরুষ' উপন্যাসটি পাওয়া যাবে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৫৭-৩৫৮-৩৫৯ নম্বর স্টলে, বইটি প্রকাশিত হয়েছে শব্দশৈলী প্রকাশনী থেকে।

ধন্যবাদ আপনাকে

আপনাকেও ধন্যবাদ


মন্তব্য