kalerkantho

সপ্তাহজুড়ে পর্দায়

সততার গল্প

বাস্তবজীবনে সততার গল্পে তৈরি ফ্রুটিকার নতুন বিজ্ঞাপন। নির্মাণ করেছেন আবুল খায়ের চাঁদ। তিনি শোনালেন বিজ্ঞাপনটি নির্মাণের পেছনের গল্প। লিখেছেন শোভন সাহা

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সততার গল্প

স্কুটার ও হেলমেটে শিকল দিয়ে তালা আটকানো। বাবা শিকলমুক্ত করে হেলমেট পরে স্কুটার চালু করলেন। উদ্দেশ্য, ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া। এদিকে ছেলে রাস্তায় দানবাক্সে তালা দেখে জানতে চায়, দানবাক্সে তালা কেন? বাবা জানান, পরে চাবি দিয়ে সময়মতো টাকা তুলে নেওয়ার জন্য। ছেলে বলে, তাহলে তালা মারার দরকার কী? উত্তরে বাবা বলেন, তুই অত সব বুঝবি না। স্কুলের সামনে পৌঁছে স্কুটারটি গাছের সঙ্গে দুটি শিকল দিয়ে তালা মেরে দেন বাবা। ছেলেকে টিফিনের টাকা দেবেন। মানিব্যাগেও শিকল পরানো। ছেলের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে কি চোর-বাটপাড়ের অভাব আছে। তখন একটা মেয়ে বলে, সবাই এক না। দেশে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা এখনো সৎ।

ছেলেটার বাবা জানতে চাইলে মেয়েটা একটা স্কুলের বাচ্চাদের সততার গল্প বলে। যেখানে বাচ্চারা দোকান থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনে। দোকানে কোনো বিক্রেতা নেই। প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্য দেখে টাকা ড্রয়ারে রেখে আসে। এই গল্পই তুলে ধরা হয়েছে ফ্রুটিকার বিজ্ঞাপনে। মডেল হয়েছেন মুকিত জাকারিয়া, শরিফুল ইসলাম ও সানজিদা তন্বী।

 

গল্প নয়, বাস্তবতা

বিজ্ঞাপনে দেখানো স্কুলটি রাজবাড়ী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলের শিশুদের গল্প এটা। স্কুলে ‘সততা স্টোর’ নামে একটি দোকান আছে। শিশুরা দোকান থেকে খাতা, কলম, পেনসিল, খাবার ইত্যাদি নিয়ে দাম দেখে নির্দিষ্ট ড্রয়ারে টাকা দিয়ে দেয়। দোকানে নেই কোনো বিক্রয়কর্মী। দোকানটির মালিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এমন আরেকটি দোকান আছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী স্টেশনে। নাম ‘ভিন্ন রকম স্টোর’। মালিক শিপন। মানুষের সততার ওপর বিশ্বাস করে প্রতিদিন ভোরে তিনি দোকানটি খুলে রেখে যান। রাতে এসে বন্ধ করেন। নির্মাতা আবুল খায়ের চাঁদ বলেন, ‘গল্প দুটি পত্রিকায় ছাপা হলে ফ্রুটিকা এটা তাদের বিজ্ঞাপনের গল্প হিসেবে বেছে নেয়। সততার গুণে মানুষকে উদ্বুব্ধ করতেই এই বিজ্ঞাপন। ’

 

বিজ্ঞাপনে ইসলামপুর স্কুল

এতে সত্যিকারের গল্পটি তুলে ধরতে রাজবাড়ী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শুটিং করা হয়েছে। স্কুলের ছেলে-মেয়েরা অংশ নিয়েছে শুটিংয়ে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সততা স্টোরের উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সততা স্টোরের বয়স এখন আড়াই বছর। শুরুতে দোকানটিতে যখন কোনো বিক্রেতা ছিল না, তখন বাচ্চারা নিজেদের দরকারি জিনিস টাকা না দিয়েই নিয়ে যেত। এরপর দু-তিনবার ক্লাসে গিয়ে তাদের সততা সম্পর্কে বলি। চুরি করলে এখন কেউ না দেখলেও আল্লাহ সব দেখছেন। এরপর খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টা বুঝতে পারে তারা। এখন স্কুলে ৪৯৫ জন শিক্ষার্থী। তারা প্রত্যেকে সৎ। সততা স্টোরে এখন আর কোনো দিন টাকার গরমিল হয় না। বরং আস্তে আস্তে লাভের মুখ দেখছে। লাভের টাকা স্কুলের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হয়। ’

 

কৃপণতা দেখাতে স্কুটার!

চাঁদ বলেন, আমরা মুকিত ভাইয়ের চরিত্র নিয়ে বেশি কাজ করেছি। তাঁর কৃপণতা দেখাতে স্কুটার ব্যবহার করা হয়েছে। অতি সাবধানতা দেখাতে মানিব্যাগেও শিকল পরানো হয়েছে।

 

যত বিড়ম্বনা

‘চরিত্রটাকে প্রাণবন্ত করতে মুকিত ভাইকে স্কুটার চালাতে হবে। কিন্তু তিনি স্কুটার চালানো দূরের কথা, চালুই করতে পারেন না। সে জন্য স্কুটার চালানোর দৃশ্যে ডামি ব্যবহার করতে হয়েছে। শুধু স্কুটার ধরে দাঁড়ানো ও তালা দেওয়ার ক্লোজ শট মুকিত ভাই দেবেন। তাতেও বিড়ম্বনা। ট্রলিতে স্কুটার উঠিয়ে দড়ি দিয়ে টান দিলেই স্কুটারে বসা মুকিত ভাইয়ের মুখ ভয়ে গম্ভীর হয়ে যায়। ’ বললেন চাঁদ।

 

লোকেশন ও সময়

বিজ্ঞাপনটির শুটিং করা হয়েছে ঢাকা ও রাজবাড়ীর ইসলামপুরে। প্রথম দৃশ্য ঢাকার আজিমপুর অফিসার্স কলোনির, দানবাক্সের দৃশ্য পুরান ঢাকার আর স্কুটার থেকে নেমে স্কুলে যাওয়ার দৃশ্য খিলগাঁও পূর্ণিমা স্কুলের।

 

পেছনে যারা

ক্লায়েন্ট আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। এজেন্সি মিডিয়াকম লিমিটেড। প্রডাকশন হাউস টিনসেল টাউন ফিল্ম। ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করেছেন বরকত হোসেন পলাশ।


মন্তব্য