kalerkantho


মৎস্যকন্যা সূচনা

নাট গুরু বিজ্ঞাপনে মৎস্যকন্যার ভূমিকায় মডেলিং করেছেন সূচনা আজাদ। কেমন ছিল সূচনার মৎস্যকন্যা সাজার অভিজ্ঞতা। লিখেছেন ফরহাদ হোসেন

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মৎস্যকন্যা সূচনা

পুরো নাম সূচনা আজাদ। দিনাজপুরের মেয়ে সূচনা কাজের সূত্রে ঢাকায় থাকেন।

পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে। পাশাপাশি মডেলিং করছেন। এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। হেঁটেছেন র্যাম্পেও। বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। ব্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কাজ করছেন সায়মন বিচ হোটেল, মধুমতি ব্যাংক ও ডায়মন্ড জুয়েলার্সে।

২০১৫ সালে সায়মন বিচ হোটেলের বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু সূচনার। প্রথম মডেলিংয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক বন্ধুর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান আইচ কিউ প্রডাকশন হাউসে ছবি জমা দিই। এর কিছুদিন পর তারা অফার দেয় বিজ্ঞাপনে কাজ করার।

এমনিতেই প্রথম কাজ। তার ওপর স্ক্রিপ্ট পড়ার পর আগ্রহটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ব্যস, শুরু হয়ে গেল প্রথম টিভিসির কাজ। ’ জানালেন প্রথম বিজ্ঞাপনে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনাও। জানুয়ারি মাস। প্রচণ্ড শীত তখন। কক্সবাজারের সায়মন বিচ হোটেলের সুইমিংপুলে হিম শীতল পানির মধ্যে শুটিং। ঠাণ্ডা বাতাসে সবার জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। এই অবস্থায় শুট হবে সারা দিন। সূচনা বলেন, ‘আমি সুইমিংপুলে ঠাণ্ডা পানির মধ্যে ভাসছি। শীতে থরথর করে কাঁপছি। ওদিকে ক্যামেরা আমার দিকে তাক করা। আমি খুব আয়েশ করে পুলের পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছি—এমন শট দিতে হবে। আমার জন্য সেটা যে কী ভয়ংকর অবস্থা, বলে বোঝানো যাবে না। এখনো শীতে কোনো শুটের কথা বললেই মনে ভেসে ওঠে ঘটনাটা। ’

সাইমন সি বিচের শুটিংয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়লেও মধুমতি ব্যাংকের বিজ্ঞাপনে ঘটে অন্য রকম ঘটনা। সূচনা বলেন, ‘বিষয়টা এমন যে আমি একজন ব্যাংকার। চরিত্রের প্রয়োজনে অফিসের ফ্লোরে হাঁটছি। হাঁটছি তো হাঁটছিই, থামার লক্ষণ নেই। পায়ে হাই হিল পরা। কিন্তু হাই হিলের নিচের একটা অংশ কখন যে ভেঙে গেছে টেরই পাইনি। ফলাফল যা হওয়ার তা-ই। একসময় ধপাস করে পড়ে গেলাম ফ্লোরের ওপর। ঘটনাটা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়। ’

সূচনার করা উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে বেঙ্গল ফার্নিচার, ডিজিটাল ভোটার আইডি কার্ড, মধুমতি ব্যাংক, এখনই ডটকম, ফান কেক বিস্কুট, একমি ল্যাবরেটরিজ, আরএফএল সোফা, ডায়মন্ড জুয়েলার্স, নাট গুরু।

বর্তমানে প্রচার হওয়া নাট গুরু বিজ্ঞাপনটি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এতে মৎস্যকন্যা সেজে মডেলিং করেছেন সূচনা। তেজগাঁওয়ের কোক স্টুডিওতে শুটিং হয় বিজ্ঞাপনটির। গল্পটা এমন যে হঠাৎ পানি থেকে উঠে এসে এক মৎস্যকন্যা রেস্টুরেন্টে বসে প্রাণ নাট গুরু খাচ্ছে। মৎস্যকন্যাকে পাশে পেয়ে এক যুবক মনের আনন্দে তার পাশে বসে নাট গুরু খেতে শুরু করে। এমন ভিন্নধর্মী চরিত্রের জন্যই সবার নজরে পড়ছেন সূচনা। মৎস্যকন্যারূপী সূচনাকে টেলিভিশনে দেখতে কেমন লাগে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু কাজে বেশ মজা হয়। বিজ্ঞাপনের স্ক্রিপ্টটাই অনেক মজার। শুটিং করতে গিয়েও অনেক মজা করেছি। আমার জন্য আলাদা করে মৎস্যকন্যার আদলে কস্টিউম ডিজাইন করা হয়। মৎস্যকন্যার পোশাক পরে নিজেকে দেখেই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আর ছোটবেলা থেকেই আমাদের সবার সঙ্গে রূপকথার মৎস্যকন্যার পরিচয়। তাকে নিয়ে আলাদা আগ্রহ। এবার নিজেই সেই মৎস্যকন্যা সেজে পর্দায় হাজির হলাম! অনেকে তো আমাকে এখন মৎস্যকন্যা বলেই ডাকে। ’

সূচনার হাতে রয়েছে আরো তিনটি বিজ্ঞাপনের কাজ। জানালেন, খুব শিগগিরই এগুলোর শুটিং শুরু হবে। বিজ্ঞাপনের সুবাদে টেলিভিশন, বিলবোর্ডে হরহামেশাই নিজের মুখোমুখি হতে হয়। কেমন লাগে তখন? ‘নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। ভাবি, এটা কি সত্যি আমি! পরক্ষণেই ডুবে যাই মেয়েটার সমালোচনায়। কাজটিতে কোনো খুঁত আছে কি না, ভুল হলো কি না। যাতে পরেরবার কাজের সময় শুধরে নিতে পারি। ’ বলেন সূচনা।

এই তারকার আগামীর স্বপ্ন চলচ্চিত্রে আসন গেড়ে বসা। একই সঙ্গে মৌয়ের মতো জনপ্রিয় মডেল হওয়ার স্বপ্নে ভাসেন তিনি।


মন্তব্য