kalerkantho


দেখা হলো স্টেশনে

প্রচার হচ্ছে কুল বডি স্প্রের নতুন বিজ্ঞাপন। নির্মাতা সাকিব ফাহাদের নির্দেশনায় এতে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন তাসনুভা তিশা। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন সাইমুম সাদ

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দেখা হলো স্টেশনে

প্রাণ ম্যাংগো বারের বিজ্ঞাপন দিয়ে বাজিমাত করেছিলেন তাসনুভা তিশা। ২০১৪ সালের সবচেয়ে আলোচিত বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে ছিল সেটি। এক বিজ্ঞাপনই ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিশার ভাষায়, ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। প্রেমিক-প্রেমিকা জুটির চেনা গল্পের চেনা রসায়নই মন ছুঁয়ে দেয় দর্শকদের। বাংলাদেশ ছাপিয়ে কলকাতার স্টার জলসা ও জি বাংলায়ও সিরিয়ালের বিরতিতে ভেসে উঠত তিশার মুখ। রাতারাতি আলোচনার টেবিলে নিজের আসনটা পোক্ত করে ফেলেন। একটার পর একটা নাটকের অফার পেতে থাকেন। তার পর থেকে নাটকেই থিতু হন। বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে কালেভদ্রে। সম্প্রতি মডেল হয়েছেন কুল বডি স্প্রের। এরই মধ্যে তুমুল আলোচিত বিজ্ঞাপনটি। নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিশা। বললেন, ‘প্রাণ ম্যাংগো বারের চেয়েও কুলের বিজ্ঞাপনটির রেসপন্স ভালো পাচ্ছি। ম্যাংগো বারের বিজ্ঞাপনটিই এত দিন সবচেয়ে বেশি পছন্দের ছিল। কুলের বিজ্ঞাপনটি সেই জায়গাটা দখল করে ফেলেছে। ’

বিজ্ঞাপন প্রচার শুরুর পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যেকোনো কাজ দেখেই বন্ধুরা খুব উচ্ছ্বসিত হতো; কিন্তু এখন নিয়মিত কাজ করায় বিষয়টা অনেকটাই ডালভাত হয়ে গেছে। তবে কুলের বিজ্ঞাপনটিতে একটু আলাদাভাবেই দেখছে বন্ধুরা। ফোনে শুভেচ্ছাও জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি রেসপন্স পেয়েছেন ফেসবুকে। বন্ধুদের পাশাপাশি ফ্যান-ফলোয়াররাও মেতেছে বিজ্ঞাপনটিতে। বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে যুক্ত হলেন কিভাবে? ‘প্রডাকশন হাউস রান আউটের কাজ এটা। আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রান আউটের সঙ্গে। বেশ কয়েকটি কাজ করেছি। কাস্টিং ডিরেক্টর ফোন দিয়েছিলেন। পরে স্ক্রিন টেস্ট দেওয়ার পরই ফাইনালি কাজটা শুরু করি’ বললেন তিশা।

বিজ্ঞাপনের শুটিং হয়েছে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে। শুটিংয়ের আগে স্টেশনের একটি অংশে সেট ফেলা হয়। শুটিং স্পটের চারপাশে ব্যারিকেড। কারণ আউটডোরে শুটিংয়ের সময় উত্সুক জনতার চাপ থাকে। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই পুরো শর্ট মাটি। ক্যামেরা অন হয় বিকেল ৫টা নাগাদ। দফায় দফায় চলে শুটিং। আগেভাগেই তিশা জেনে গিয়েছিলেন রাতভর চলবে শুটিং। আর এ চিন্তায় আগের রাতেও নাকি চোখের পাতা খুব বেশি সময় এক রাখতে পারেননি। ঘণ্টা তিনেক ঘুমিয়েছেন। তিন ঘণ্টার এনার্জি নিয়ে ঘুমের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে। শরীরটাও সায় দিচ্ছিল না খুব। তবে বিজ্ঞাপনের কো-আর্টিস্ট সিয়াম নাকি আড্ডায় সেট মাতিয়ে রেখেছিলেন। আর মাঝেমধ্যে তিশাসহ সেটের সবাইকে চা খাওয়াচ্ছিলেন। সিয়াম নিজেও প্রচুর চা পান করেছেন। ‘শুটিংয়ে সিয়াম অনেক সাপোর্ট করেছে,’ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে ভুললেন না তিশা।

বিজ্ঞাপনে যে ট্রেনটি দেখানো হয়েছে তাতে সিয়াম আর তিশা ছাড়া কোনো যাত্রীই ছিল না। পুরো ট্রেনটি শুধু বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্যই কাজে লাগানো হয়েছে। তবে বিপত্তি বাধে শটের সময়। একটা শট বারবার দিতে দিতে বেশ হাঁপিয়ে উঠেছেন তিশা। আবার রাতের মধ্যেই শুটিং শেষ করার তাড়া। স্ক্রিপ্টে পুরোটাই রাতের গল্প। ভোরের আলো ফুটলেই আর শুটিং সম্ভব না। পরদিন রাতে আবার শুটিং করতে হবে! নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ভোরের আগেই শেষ হয় শুটিং। ভাগ্যিস পরদিন আর তিশার কোনো শুটিং ছিল না। বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেন।

কুলের পর আরেকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন। বললেন, ‘বেঙ্গল আরাম চেয়ারের একটি কাজ করছি। নির্দেশনা দিচ্ছেন টিটু ভাই। শুটিং এরই মধ্যে হয়ে গেছে। ’

তিশার শোবিজে পথচলা বিজ্ঞাপনে মডেলিং দিয়েই। ২০১৩ সালের দিকে ভাটিকা হেয়ার অয়েলের বিজ্ঞাপনে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? ‘অনেক নার্ভাস ছিলাম। রেবেকা সুলতানা দিপার মতো সিনিয়র কো-আর্টিস্ট ছিলেন। আমি আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারের চরিত্র করেছিলাম। একদমই অ্যাক্টিং পারিনি! ওই টিভিসিটা এখন করলে অনেক ডেভেলপ করতে পারতাম!’ আফসোসের সুর তিশার মুখে। বিজ্ঞাপনটি দেখা যাবে এই লিংকে—   https://www.youtube.com/watch?v=Xhu_VXf5PT8


মন্তব্য