kalerkantho


‘আমাকে বোকা পেয়েছ!’

গ্রামীণফোনের স্বপ্ন যাবে বাড়ি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে আলোচনায় আসেন ইফফাত তৃষা। এরপর করেছেন আরো কয়েকটি বিজ্ঞাপন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘আমাকে বোকা পেয়েছ!’

ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী মেয়ে হিসেবে পরিচিত। অন্যায় দেখলে তার প্রতিবাদ করা চাই।

নিজের করা প্রথম বিজ্ঞাপনের গল্পটাও সে রকমই জুটে গেল। সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন। সন্ত্রাসে ছেয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের সবখানেই সন্ত্রাসীদের পদচারণা। সাংস্কৃতিক একটা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। একটা মেয়ে রুখে দাঁড়ায়—না, আমরা থামব না। বখাটেরা ব্যঙ্গ করে বলে—আমাদের শক্তির সামনে তোমরা রুখে দাঁড়াতে পারবে? তোমাদের সঙ্গে কে আছে? এত শক্তি আছে তোমাদের? মেয়েটি জবাব দেয়—‘আমার পেছনে সারা বাংলাদেশ’। এ সময় বাকি সবাই এক হয়ে তার পেছনে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপনটি করতে গিয়ে মজার একটা ঘটনাও ঘটেছে।

শুটিং স্পটে অনেক লোকের সমাগম। অনেক শিক্ষার্থীর চরিত্র দেখানো হবে। খুব সকালে গিয়ে বসে আছেন তৃষা। দুপুর গড়িয়ে গেল। কেউ ডাকছে না তাঁকে। কয়েকজন এসে বলল—আপু, আপনার মনে হয় শুট হবে না। আজকে চলে যান। আপনি বোধ হয় বাদ পড়েছেন। তৃষা হাসিমুখে উত্তর দেন, আচ্ছা, দেখি। এর কিছুক্ষণ পর তাদের সামনেই কস্টিউম ডিজাইনার এসে তাঁকে নিয়ে যান। ‘আমি ছিলাম বিজ্ঞাপনটির অন্যতম মডেল। আমাকে ঘিরেই গল্প। এতক্ষণ যারা বলছিল যে আমার শুট হবে না, তারা তখন অবাক হয়ে চেয়ে রইল। ’ বললেন তৃষা।

তৃষার করা উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে প্রাণ আচার, আরএফএল প্লাস্টিক, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, উজালা পেইন্ট, স্যামসাং, সিম্ফোনি, প্রাণ মিস্টার নুডলস, সুপার বাইট বিস্কুট, রিয়া মানি ট্রান্সফার।

ক্যারিয়ারের ঝুলিতে বেশ কিছু জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন জমা হলেও পছন্দের শীর্ষে রাখলেন গত ঈদে প্রচারিত গ্রামীণফোনের ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ বিজ্ঞাপনটি। ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বিজ্ঞাপনটি করে। পুরান ঢাকা, গোপালগঞ্জ হাইওয়ে ও পদ্মা নদীতে শুটিং হয়েছে এর দৃশ্যগুলোর। এর মধ্যে মাওয়া ঘাটে শুটিং করতে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়েন। পানিকে প্রচণ্ড ভয় পান তৃষা। একটা দৃশ্যে স্পিড বোটের মাথায় দাঁড়িয়ে টাইটানিক স্টাইলে হাত মেলে দিতে হবে। চলন্ত অবস্থায় স্পিড বোট দুলছিল খুব। তৃষা কোনোভাবেই সাহস পাচ্ছেন না। পরিচালক তাঁকে বলেন, এটা করতেই হবে। যেকোনো উপায়ে। তিনি কিছু টেকনিকও শিখিয়ে দিলেন। এবার কিছুটা সাহস পান। ভয় ভেঙে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন দুই হাত। দৃশ্য তো ওকে, কিন্তু পানি থেকে কূলে উঠেই রীতিমতো কাঁপতে শুরু করেন তৃষা।

তবে এর চেয়েও নাকি কঠিন লেগেছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির বিজ্ঞাপন। সব সময় হাসিখুশি মেয়ে তৃষা। কিন্তু বিজ্ঞাপনে কাঁদতে হবে। ‘এটা কি সম্ভব! নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগছিল। তবে অ্যাকশন বলার পর সত্যি সত্যি কেঁদেছিলাম। কোনো রকম গ্লিসারিন ছাড়াই। ’ বলেন তৃষা। গল্পে তিনি একজন তরুণ পোশাক ডিজাইনার। নিজের প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর জন্য লোনের আবেদন করেন। কিন্তু সবখান থেকেই না শুনতে হয়। ভেঙে পড়েন একসময়। কিন্তু না, পরক্ষণেই উঠে দাঁড়ান। হাল না ছেড়ে নতুন উদ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যান।

তৃষার করা প্রাণ গুঁড়া মরিচের বিজ্ঞাপনটি এখন প্রচার হচ্ছে। এতে তাঁর সংলাপ—‘আমাকে বোকা পেয়েছ! বেশি লাল রং মেশালে হয়। পাকা মরিচ কি সবুজ হয়?’ বেশ আলোচিত। প্রচার হচ্ছে মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলি ও স্যামসাং গ্যালাক্সির আরো দুটি বিজ্ঞাপন।

বিজ্ঞাপনে হরেক চরিত্রে নিজেকে সাজাতে হয়। সাজতে খুব পছন্দ করেন তৃষা। সাজার সময় লিপস্টিক তাঁর ফেভারিট। ছোটবেলা থেকে সবার কাছে একটাই আবদার ছিল তাঁর—লিপস্টিক কিনে দাও। তখন তো তাঁর স্বপ্নের কথা কেউ বুঝত না। অগোচরে ছিল নিজেরও। ২০১২ সালের আগে ছিল সাদামাটা জীবন। আর পাঁচটা মেয়ের মতো স্কুল-কলেজ-বাসা। শখের বসে নাম লেখান লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। বাসা থেকে প্রথমে কেউ রাজি হয়নি। অডিশনের ফোন পেয়ে তবেই বাসা থেকে কিছুটা প্রশ্রয় পান। প্রতিযোগিতায় দৌড়টা খুব বেশি লম্বা হয় না। তাই বলে কি স্বপ্ন থেকে ছিটকে পড়বেন? না, তা হয়নি তাঁর বেলায়। নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুললেন। স্বপ্ন ধরা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। আছেন নাটকেও। দেখা গেছে আয়নাবাজি চলচ্চিত্রেও।

বিজ্ঞাপনের নতুন কোনো খবর? ‘হ্যাঁ, সামনে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হবে। প্রচারের আগেই তা বলতে চাই না। এটুকু বলতে পারি, সবগুলো ভালো গল্পের। ’ জানান তৃষা।


মন্তব্য