kalerkantho


সপ্তাহজুড়ে পর্দায়

শাপলা ফুটবে বলে...

ইতালিয়ানো মেলামাইনের বিজ্ঞাপনে শাপলা ফুলের দৃশ্য লাগবে। এ জন্য রাত ৩টা পর্যন্ত টিম নিয়ে জেগে ছিলেন নির্মাতা হাসান তৌফিক অঙ্কুর। হঠাৎ বৃষ্টি। তার মধ্যেই ক্যামেরা নিয়ে নেমে পড়েন। এর পরের গল্প জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

২০ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শাপলা ফুটবে বলে...

বিজ্ঞাপনটির তিনটি পর্ব। ঈদ, বিজয় দিবস ও পহেলা বৈশাখ।

প্রতিটি উত্সবের বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ইতালিয়ানো মেলামাইনের বিজ্ঞাপন। ঈদের সময় একে অন্যের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, সেমাই-পায়েসের অ্যাপায়ন, নতুন পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানো। অন্যদিকে বিজয় দিবসে মুখে পতাকা, মাথায় লাল-সবুজের ব্যান্ড, পরনে লাল-সবুজ শাড়ি কিংবা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেন অনেকেই। আর পহেলা বৈশাখে দেখা মেলে রঙের খেলা। সঙ্গে চিরায়ত বাঙালির বিভিন্ন ঐতিহ্যের লালন। এমন চিত্রের দৃশ্যায়ন নিয়েই ইতালিয়ানোর নতুন বিজ্ঞাপন।

 

তিন উৎসব

‘বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় উত্সব এখন ঈদ, বিজয় দিবস ও পহেলা বৈশাখ। এই তিন উত্সবে সবাই আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। তিনটি উত্সবেরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।

প্রতিটি উত্সবের সঙ্গেই রং মিশে আছে। রং দেখেই বলে দেওয়া যায় কোনটা কী উত্সব। ইতালিয়ানো মেলামাইন অনেক রঙের তৈজসপত্র নিয়ে এসেছে। উত্সবের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন রঙের মেলামাইনের সেট যাতে গৃহিণীরা সহজেই খুঁজে পায়, তার জন্যই এমন বিজ্ঞাপন। এ কারণেই এই তিন উত্সবকে বেছে নেওয়া’ বলে জানালেন হাসান তৌফিক অঙ্কুর।

 

গলফ ক্লাবে বিজয়ের উৎসব

সাভারের গলফ ক্লাব মাঠে বিশাল সেট ফেলা হয় ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষের বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠার দৃশ্য ধারণের জন্য। লোকেশন ভাড়া নিয়ে সেখানে সেট ফেলেন আর্ট ডিরেক্টর অপু ও ফারুক। শিশুদের ঝুলন্ত দোলনা, মানুষের আনন্দচিত্তে ঘুরে বেড়ানো, গাছে গাছে ঘুড়ি, শিশুর মুখে পতাকা আকার চিত্রকরসহ খোলা মাঠে বাহারি সব আয়োজন। এখানেই পহেলা বৈশাখে বাঙালির উত্সবকেন্দ্রিক নানা রকম পিঠার দৃশ্যটিও শুটিং করা হয়।

 

গাজীপুরের রিসোর্টে ঈদ উৎসব

পহেলা বৈশাখ ও ঈদে বাড়িতে বেড়াতে আসা মেহমানদের অ্যাপায়নের দৃশ্য ধারণ করা হয় গাজীপুরের একটি রিসোর্টে। উত্সব উপলক্ষে বাড়ির চারপাশ রঙিন বাতি দিয়ে সাজানো হয়। বাড়ির পাশের গাছে বড় বড় রঙিন বাতি লাগান অঙ্কুর। কিন্তু পরে সেটা ক্যামেরায় দেখতে ভালো না হওয়ায় খুলে ছোট ছোট বাতি লাগিয়ে দেন।

 

পরিশ্রম করেছেন প্রডাকশন ডিজাইনার

এতে দেখা গ্রাম-বাংলার বাহারি সব পিঠা, মোয়া, আস্ত ইলিশ মাছ ভাজা, রঙিন ঘুড়ি, নৌকা জোগাড় করতে বেশ কষ্ট হয়েছে আর্ট ডিরেক্টর তানভীর রশিদ অপু, ওমর ফারুক ও প্রডাকশন ডিজাইনার জুনায়েদ মুস্তাফাকে। উদ্যানের লেকে নৌকা জোগাড় করেছেন লোকেশন ম্যানেজার স্বপন।

 

শাপলার জন্য অপেক্ষা

শেষ দৃশ্যে রংটাকে আরো একটু ফুটিয়ে তুলতে শাপলা ফুল ফুটে আছে—এমন দৃশ্য দেখাতে চেয়েছেন অঙ্কুর। এ জন্য বেছে নেন গাজীপুর জাতীয় উদ্যান। কিন্তু সেখানে শাপলা ফোটে রাত ৩টায়। ভোর হওয়ার আগেই তা মিইয়ে যায়। টিম নিয়ে তাই রাতেই হাজির হন। গাড়িতে বসে সবাই ৩টা বাজার অপেক্ষা করছেন। ৩টা বাজল ঠিকই, কিন্তু তখনই মুষলধারে বৃষ্টি। উপায় না পেয়ে বৃষ্টির মধ্যে ক্যামেরা নিয়ে নেমে পড়েন সবাই। মডেলদের অনেক কষ্ট করে নৌকায় তুলে দেন। এরপর বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং করেন দৃশ্যটি।

 

আরো যাঁরা

হেড অব মার্কেটিং মুর্শেদ মুনেম, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফাহিম হোসেন, এজেন্সি গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং বাংলাদেশ, প্রডাকশন হাউস আইডা মোশন, ক্যামেরাম্যান জোগেন্দ্র পান্ডা, প্রডাকশন ডিজাইনার জুনায়েদ মুস্তাফা, আর্ট ডিরেক্টর কাজী তানভীর রশিদ অপু ও ওমর ফারুক, হেয়ার ও মেকআপ মানিক রহমান।


মন্তব্য