kalerkantho


ম্যাক্স কোলায় অনন্ত-বর্ষা

ম্যাক্স কোলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হলেন অনন্ত জলিল ও আফিয়া নুসরাত বর্ষা। এবারই একসঙ্গে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে জুটি বাঁধলেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা ও বিজ্ঞাপনের গল্প জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

অন্যান্য   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ম্যাক্স কোলায় অনন্ত-বর্ষা

গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনটির সংলাপ—‘অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ’ বাংলাদেশের অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েও জানে। ম্যাক্স কোলার বিজ্ঞাপনেও আমরা এ রকম জনপ্রিয়তা পাব বলে আশা করছি

এর আগে পাঁচটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন অনন্ত জলিল—গ্রামীণফোন, জেলটা মোবাইল, পেগাসাস মোটরবাইক, আপ এন টপ ফ্যাব্রিকস অ্যান্ড টেইলার্স, ইফাদ ওয়েভি চিপস। অন্যদিকে বর্ষাও সমানতালে টেক্কা দিয়েছেন স্বামীকে।

তাঁর ক্যারিয়ারে ছয়টি বিজ্ঞাপন—ইফাদ ওয়েভি চিপস, তিব্বত লাক্সারি সাবান, চাকা ওয়াশিং পাউডার, কেয়া নারিকেল তেল, গ্রামীণফোন ও মেরিল স্প্ল্যাশ বিউটি সোপ। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে তা ছিল আলাদাভাবে। এবারই প্রথম একসঙ্গে শুভেচ্ছাদূতের খাতায় নাম লেখালেন এ জুটি। ম্যাক্স কোলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন কয়েক দিন আগে।

অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই মিডিয়ায় কাজ করছি। বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছি। সেটাও দুই বছরের বেশি হয়ে গেছে। ইফাদ ওয়েভি চিপস বিজ্ঞাপনে দুজন একসঙ্গে মডেলিং করেছিলাম।

তবে একই সঙ্গে কোনো পণ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়া এবারই প্রথম। ’

ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়ায় এখন থেকে তাঁরা পণ্যটির বিজ্ঞাপনে নিয়মিত মডেল হবেন। এক বছরের এই চুক্তিতে ম্যাক্স কোলার সব রকম প্রমোশনেও থাকবেন তাঁরা। ম্যাক্স কোলার হেড অব মার্কেটিং কর্মকর্তা অরুণাংসু ঘোষ বলেন, ‘এক বছরে দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশ নেবেন অনন্ত-বর্ষা’।

অনন্ত-বর্ষাকে একসঙ্গে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করার বিষয়ে ম্যাক্স কোলার চিফ অপারেটিং অফিসার ওয়ারেসুল হাবিব বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী কোমল পানীয়ের মতো পণ্যের বিজ্ঞাপনগুলোতে সাধারণত জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকাদেরই মডেল করা হয়। এত দিন আমরা ম্যাক্স কোলা নিয়ে বড় কোনো প্রমোশনে যাইনি। আমরা বাজার সার্ভে করছিলাম। ছোট ছোট প্রমোশন করে পণ্যটির প্রতি মানুষের আগ্রহের ব্যাপারে খবর নিচ্ছিলাম। তাতে ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছি বলেই বড় ক্যাম্পেইনে যাচ্ছি। অনন্ত-বর্ষা দুজনই জনপ্রিয়। মডেল হিসেবেও তাঁদের খ্যাতি অনেক। ’

অনন্ত জলিল বলেন, “চলচ্চিত্র করে পরিচিতি পাওয়ার পরই বিজ্ঞাপনে মডেলিংয়ে নাম লেখাই। আমার প্রথম বিজ্ঞাপন গ্রামীণফোন দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পাই। গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনটির সংলাপ—‘অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ’ বাংলাদেশের অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েও জানে। ম্যাক্স কোলার বিজ্ঞাপনেও আমরা এ রকম জনপ্রিয়তা পাব বলে আশা করছি। ’’

বর্ষা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে শুভেচ্ছাদূত হলাম। এটা দুজনের ক্যারিয়ারে নতুন অর্জন। এখন তো কেবল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছি। বিজ্ঞাপনের শুটিং এবং অন-এয়ারের পরই বলতে পারব পণ্যটাকে কতটা হাইলাইট করতে পারলাম। আশা করি ভালো কিছুই হবে। ’

অনন্ত প্রথম ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হন গ্রামীণফোনের। মজার ব্যাপার এই বিজ্ঞাপনে তাঁকে মডেল হওয়ার জন্য গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার অ্যালেন বোনকে তাঁর অফিসে আসেন। অনন্তকে বলেন, ‘আপনার সিনেমা আমি দেখেছি। বিজ্ঞাপনের গল্পটা আপনাকে ঘিরেই তৈরি করা। আমাদের বিজ্ঞাপনের থিম হচ্ছে—নাথিং ইজ ইমপসিবল। ’ এর পর বিজ্ঞাপনটিতে অনন্তর মুখে ‘অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ’ দারুণ আলোচিত হয়।

অনন্তর দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন পেগাসাস মোটরবাইক। এই বিজ্ঞাপনে ৪৫ জন বিদেশি মডেলিং করেন। এতে মাফিয়াদের দ্বারা অপহূত শিশু মডেলের চরিত্রে হাজির হয় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের মেয়ে অ্যালেক্স। এই বিজ্ঞাপনে চলন্ত মোটরসাইকেলের ওপর দাঁড়াতে গিয়ে কয়েকবার পড়ে গিয়ে আহত হয় সে। বিজ্ঞাপনের ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে অনন্ত কোনো স্ট্যান্টম্যানের সহায়তাও নেননি। দুই ভবনের সংযুক্ত কাচের ব্রিজের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে শুট করতে গিয়ে বড় একটি কাচ ভেঙে যায়। এতে অবশ্য আহত হননি।

অনন্তর কয়েকটি বিজ্ঞাপনে তাঁকে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে। ব্যতিক্রমও আছে। আপ এন টপ বিজ্ঞাপনেই তাঁকে দেখা গেছে একজন সফল করপোরেট মানুষ হিসেবে। প্রায় সমানসংখ্যক বিজ্ঞাপন নিয়ে বর্ষাও আছেন তাঁর পাশেই। বর্ষাকে চাকা ওয়াশিং পাউডারের বিজ্ঞাপনে ময়লার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামতে দেখা গেলেও অন্য সব বিজ্ঞাপনে হাজির হয়েছেন রোমান্টিক নায়িকা হিসেবেই।

ম্যাক্স কোলার বিজ্ঞাপনে কোন ভূমিকায় দেখা মিলবে অনন্ত-বর্ষার, তা এখনো জানা না গেলেও আগের বিজ্ঞাপনগুলোর চেয়ে ভালো কিছু হবে বলে মনে করেন অনন্ত। বলেন, ‘আগের বিজ্ঞাপনগুলোর চেয়ে এবার ম্যাক্স কোলার বিজ্ঞাপনেও ভালো একটি সংলাপ নিয়ে আসার চেষ্টা করব আমরা। যেটা অন্য সব বিজ্ঞাপনের সংলাপকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রাণ-আরএফএল অনেক বড় একটি কম্পানি। তাদের সঙ্গে আমাদের এই যাত্রায় পণ্যটির ইতিবাচক প্রসার ঘটবে এটাই প্রত্যাশা করি। ’  

 


মন্তব্য