kalerkantho


পেছনের গল্প

নতুন কিছু কি আছে

প্রচার হচ্ছে ক্র্যাকার্স কিং চিপসের নতুন বিজ্ঞাপন। হীরক রাজার দেশে ছবির একটি মজার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে গল্প। বানিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। পেছনের গল্প জানাচ্ছেন শোভন সাহা

৬ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন কিছু কি আছে

স্টেজে চলছে স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মন্ত্রিপরিষদ বর্গ নিয়ে সিংহাসনে বসে আছেন রাজা। তিনি নিয়মিত চিপস খান। কিন্তু প্রতিদিন একই চিপস রাজার মুখে ভালো লাগে না। মন্ত্রীদের উদ্দেশে রাজার আদেশ, নতুন কিছু চাই। মন্ত্রী জানায়, নতুন কিছু তো নেই মহারাজ। রাজা রেগে বলে, নেই মানে, গবেষক কই? ডাকো তারে। চোখে পুরু গ্লাসের চশমা আর কানে পেন্সিল লাগানো গবেষককে হাজির করা হয়। রাজা নতুন বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষক বলে, আছে বইকি, নইলে আর কই কী। এর পরই গবেষক রাজার হাতে তুলে দেয় নতুন এক চিপস—ক্র্যাকার্স কিং। রাজা বলে দেখতে তো ফ্যান্টাস্টিক। সব মন্ত্রী বলে, ঠিক ঠিক। ক্র্যাকার্স কিং চিপসের বিজ্ঞাপনটি হীরক রাজার দেশে ছবির একটি অংশের সঙ্গে মিল রেখে স্ক্রিপ্ট লিখেছেন বিজ্ঞাপনী এজেন্সি ওগিলভি অ্যান্ড ম্যাথারের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আতিক আনন।

 

কেন হীরক রাজার দেশের গল্প

আতিক আনন বলেন, ‘সত্যজিৎ রায় পরিচালিত হীরক রাজার দেশে ছবিতে রাজ দরবারে হাস্য রসের কথা মাথায় রেখে গল্প তৈরি হয়েছে। যেমন, ছন্দে ছন্দে কথা বলা। উত্পল দত্ত ও রবি ঘোষের হাস্য রসাত্মক অভিনয় বাচ্চাদের খুবই প্রিয়। চিপসের বিজ্ঞাপন হওয়ায় বাচ্চাদের কথা মাথায় রাখতে হয়েছে। চাচ্ছিলাম এমন একটা গল্প তৈরি করতে, যাতে বাচ্চারা সহজে বুঝতে পারে। তারা স্কুলে ছন্দে ছন্দে শেখে এবং সহজে মনে রাখতে পারে। হীরক রাজার দেশে ছবিতে আমাদের চাওয়ার সবটুকু ছিল। তাই বিজ্ঞাপনের গল্প বেছে নিতে কেউ আর দ্বিমত করেনি।’ 

মন্ত্রীর চরিত্রে মেয়ে

‘একটা মেয়েকে মন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার মূল কারণ আমরা ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করতে চেয়েছি। আমরা সব সময় দেখতে অভ্যস্ত যে ছেলেরাই সাধারণত মন্ত্রী হচ্ছে। কিন্তু একটা মেয়েও মন্ত্রী হতে পারে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। আর একটা কারণ পণ্যটার ভোক্তা শিশুরা। তাদের মনে ছেলেমেয়েরা সমান এটা ভাবতে শেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সরল মনে তারা যা দেখবে তাই শিখবে।’ বলেন নির্মাতা কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। 

গবেষকের চশমায় পেনসিল লাগানো

গবেষক ছেলেটার নাম রাহিল। চরিত্রটা নিয়ে আলাদা ভাবে প্রি-প্রডাকশন ডিজাইনে কাজ করা হয়। চরিত্রটিকে একটু মজা করে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন নির্মাতা। ‘গবেষক বলতে সাধারণত অনেক বুদ্ধিজ্ঞান আছে, এমন কাউকেই আমরা বুঝি। সে জন্যই গল্পের গবেষকের চশমার এক পাশে ডান্ডির জায়গায় পেনসিল লাগানো, যাতে গল্পের গবেষককেও অনেক বুদ্ধিমান মনে হয়।’ জানালেন কৃষ্ণেন্দু।

বাচ্চাদের বস

বাচ্চাদের নিয়ে কাজ। তাই শুটিংয়ের আগে দুই দিন তাদের সঙ্গে ভাব করতে হয়েছে কৃষ্ণেন্দুকে। তিনি বলেন, ‘আমরা গেম খেলেছি, আড্ডা দিয়েছি, গল্প করেছি, খাওয়াদাওয়া করার পাশাপাশি রিহার্সেল করেছি। আগে আমাকে ওদের বন্ধু হতে হয়েছে, যাতে ওরা আমার সব কথা শোনে। আমি ওদের এতই ভালো বন্ধু হয়ে যাই যে ওরা সবাই সেটে আমাকে বস বলে ডাকত। ওদের কিছু বললেই ইয়েস বস বলে সাড়া দিত।’

গ্লুকোজ খাইয়ে ঘুম তাড়ানো

কৃষ্ণেন্দু বলেন, ‘ভোর ছয়টায় শুটিং শুরু করি। প্রথম থেকেই ভয়ে ছিলাম বাচ্চারা সারা দিন এমন আবদ্ধ জায়গায় লাইটের মধ্যে কাজ করতে পারবে তো। কিন্তু তারা দক্ষ অভিনেতার মতোই কাজ করেছে। শুটিংয়ে তারা আলাদা আনন্দ খুঁজে পেয়েছিল। ভোর ছয়টা থেকে রাত পর্যন্ত শুটিং করেছি। এর মধ্যে তারা একটুও ঘুমায়নি। শেষের দিকে কারো ঘুম এলেও তাকে চিয়ার আপ করে, জুস ও গ্লুকোজ খাইয়ে চাঙ্গা করেছি।’

রাজার পোশাক

পোশাক ডিজাইনার অধরা চৌধুরী বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের গল্পে রাজদরবারের সবার পোশাক নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে হয়েছে। সব চরিত্রকে আমরা আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। সব চরিত্রই হীরক রাজার দেশে গল্পের পোশাকের সঙ্গে মিল রাখার চেষ্টা করেছি।’

লোকেশন ও সময়

৪০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের বিজ্ঞাপনটি ধানমণ্ডির নজরুল ইনস্টিটিউটে শুটিং করা হয়েছে। দৃশ্য ধারণে লেগেছে এক দিন। গত অক্টোবর মাসে শুটিং করা হয়।

কোন চরিত্রে কে

এতে রাজা হয়েছে ফারিস, গবেষক রাহিল, মন্ত্রী নমোনি, তাহমিদ ও পারপল। বাঘ সেজে ও রাজার পেছনে ছিল রনক, অন্তর, ধ্রুব ও লিমা।

আরো যারা

হেয়ার ও মেকআপ আরসেনা রহমান, গ্রাফিকস স্টুডিও স্কেচ, সাউন্ড ডিজাইন করেছেন রাশেদ শরীফ শোয়েব ও রিজভি রিজু, সেট ডিজাইন কাজী বারিন ও জয়। ভয়েসওভার দিয়েছেন দিলশাদ নাহার কণা, দৃশ্যধারণ করেছেন শেখ রাজিবুল ইসলাম। চিফ অ্যাড ইসমাদদোহা সোহাগ। এডিটিংয়ে ছিলেন রবিন খান।


মন্তব্য