kalerkantho


লাক্সের বিজ্ঞাপনে বলিউড তারকারা

বলিউড নায়িকা লীলা চিতনিস ১৯২৯ সালে লাক্সের প্রথম মডেল হন। সর্বশেষ মডেল দীপিকা পাড়ুকোন। মাঝখানে কারা ছড়িয়েছেন লাক্সের সুবাস? লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



লাক্সের বিজ্ঞাপনে বলিউড তারকারা

লাক্স শব্দটির সঙ্গে কে না পরিচিত। সৌন্দর্যের সঙ্গে ১০০ বছর ধরে জড়িয়ে আছে লাক্সের নাম।

এখনো বিশ্বব্যাপী এগিয়ে থাকা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম। লাক্স লাতিন শব্দ। এর মানে আলোকচ্ছটা, বিলাসিতার প্রতীক। এ জন্য ভারতসহ সারা বিশ্বেই লাক্সের ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে সিনেমার নায়িকাদের সৌন্দর্যের সাবান হিসেবে।

লিভার ব্রাদার্স ১৯২৯ সালে ভারতে লাক্স সাবান লঞ্চিং করে। তখন লাক্স সাবানের দাম ছিল দুই আনা। এ বছরই লাক্সের বিজ্ঞাপনের জন্য বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা লীলা চিতনিসকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করে লিভার ব্রাদার্স। বিজ্ঞাপনে লাক্সের স্লোগান হিসেবে প্রচার করা হয়—লাক্স, ফিল্মি সিতারোঁ কা সৌন্দর্য সাবান। অর্থাৎ সিনেমার নায়িকাদের সৌন্দর্যের সাবান।

প্রথম বিজ্ঞাপনে লাক্স সাবানের ব্যবহারবিধিও তুলে ধরা হয়। এরপর থেকে বলিউডের নামি তারকাদের দিয়ে ভারতে ব্যাপকভাবে শুরু হয় লাক্সের বিজ্ঞাপন। লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে একে একে যুক্ত হতে থাকে মধুবালা, সায়রা বানু, মীনা কুমারী, হেলেন, মালা সিনহা, সাধনা, ববিতা, আশা পারেখ, হেমা মালিনী, রেখা, জিনাত আমান, বিদ্যা সিনহা, শ্রীদেবী, জয়া প্রদা, মাধুরী দীক্ষিত, জুহি চাওলা, কারিশমা কাপুর, রানী মুখার্জি, আমিশা প্যাটেল, কারিনা কাপুর, টাবুর মতো তারকাদের নাম। তাঁরা সবাই লাক্সের সাবেক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর।

পঞ্চাশের দশক পর্যন্ত লাক্স ছিল সাদা রঙের। এ সময় লাক্সের মডেল হয়েছেন কামিনী কুশল, নার্গিস, মীনা কুমারী ও নিগার সুলতানা। ষাটের দশকে এসে লাক্স সাদা থেকে পিংক, ব্লু, গ্রিন ও ইয়োলোতে রূপান্তর হয়। আশা পারেখ পিংক, মালা সিনহা ব্লু, ওয়াহিদা রহমান গ্রিন, শর্মিলা ঠাকুর ইয়োলো লাক্সের বিজ্ঞাপনে হাজির হন।

১৯৬৯ সালে হিন্দুস্তান লিভার লাক্সকে সিমি গারওয়াল ও সোনিয়া সিনহার মাধ্যমে নতুনরূপে হাজির করে। ১৯৮৩ সালে এসে মিস ইন্ডিয়া মুকুট জয়ী হেমা মালিনী ‘ড্রিমস কাম ট্রু’ স্লোগানে লাক্সের মডেল হন। বিজ্ঞাপনে তিনি ঘোষণা করেন—আমি যা চাই, তা পেয়ে গেছি, থ্যাংকস লাক্স। লঞ্চিংয়ের পর থেকে এত দিন একচেটিয়া বাজার দখল করলেও ১৯৮৬ সালে এসে লাক্স প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সম্মুখীন হয়। উইপরো কনজ্যুমার কেয়ারের সান্তোর সাবান এ সময় লাক্সের একচেটিয়া মার্কেটে ভাগ বসায়। ফলে মিনাক্ষী শেষাদ্রি ও শ্রীদেবী, পুনম ধীলন ও জিনাত আমানকে দিয়ে নতুন করে লাক্সের লঞ্চিং করে হিন্দুস্তান লিভার লিমিটেড। এরপর দেবশ্রী, রেখা, শাবানা আজমী ও স্মিতা পাতিলকে দিয়ে সিরিজ বিজ্ঞাপন প্রচার করে লাক্স। মাধুরী দীক্ষিত, জুহি চাওলা, কারিশমা কাপুর, টাবু ও রাভিনা ট্যান্ডন ইন্টারন্যাশনাল লাক্সের বিজ্ঞাপন নিয়ে পর্দায় হাজির হন। লাক্স লঞ্চিংয়ের ৭৭ বছর পর ঐশ্বরিয়া রাই ও আমিশা প্যাটেল লাক্সের মডেল হন। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে বলিউডের তারকারা বিলবোর্ড, ম্যাগাজিন, পত্রপত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনে লাক্সের সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

লাক্স এখন ইউনিলিভারের পণ্য। ঐশ্বরিয়া রাই, ক্যাটরিনা কাইফ, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, অসিনের মতো বলিউডের নায়িকারা এখন লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর।

শুধু বলিউডের নায়িকারাই যে লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন তা নন, ব্যতিক্রমও আছে। বলিউডের কিং খান খ্যাত শাহরুখ খানেরও নাম রয়েছে লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরের তালিকায়। তিনিই প্রথম পুরুষ সেলিব্রেটি, যাকে লাক্স তাঁর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ঘোষণা করে। লাক্সের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শাহরুখ খান বাথটাবে। তাঁকে ঘিরে আছেন হেমা মালিনী, কারিনা কাপুর, জুহি চাওলা ও শ্রীদেবী। এই চার নায়িকার সঙ্গে শাহরুখের করা লাক্সের বিজ্ঞাপন বেশ ঝড় তোলে। শাহরুখের পর বলিউডের আরেক অভিনেতা অভিষেক বচ্চন লাক্সের ব্র্যান্ড মডেল হন স্ত্রী ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে জুটি হয়ে।

প্রায় সব খ্যাতনামা বলিউড অভিনেত্রীর নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাক্সের নাম। লাক্সের বিজ্ঞাপনে মডেল হতে আগ্রহ থাকে তারকাদেরও। কারণ লাক্সের বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং। লাক্সের বিজ্ঞাপন প্রচারের দিক থেকেও অনেক এগিয়ে থাকে। এটা তারকাদের পজিটিভ ইমেজ তৈরিতেও প্রভাব ফেলে। আর এ কারণেই লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর কিংবা মডেল হওয়ার জন্য উত্সুক হয়ে থাকেন বলিউডের তারকারাও।  

আবহিসেজডটকম ও পুজাস্লিব্রেরিওয়ার্ডপ্রেসডটকম অবলম্বনে।

 


মন্তব্য