kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পেছনের গল্প

মা-মেয়ের সম্পর্কের গল্প

প্রচারিত হচ্ছে মা-মেয়ের সম্পর্কের গল্পে নির্মিত সেনোরা ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন। নির্মাণ করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। বিজ্ঞাপনটির পেছনের গল্প জানাচ্ছেন সাইমুম সাদ

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মা-মেয়ের সম্পর্কের গল্প

মা তাঁর মেয়ের সব চাহিদাই পূরণ করেছেন ছোটবেলা থেকে। কিন্তু মা জানতেন না মেয়ে পিরিয়ডকালীন সময় নিরাপদ কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করছে কি না? মা সনাতনী পদ্ধতিই বাতলে দিয়েছেন মেয়েকে।

মেয়ে যখন শহরে পড়তে গেছে তখন সে আবিষ্কার করে সেনোরা। মাকে একটি চিঠি দেয় আর সঙ্গে উপহার হিসেবে এক প্যাকেট সেনোরা। এমন গল্প নিয়েই নির্মিত সেনোরা ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন।

 

পরিকল্পনা

মিডিয়াকম থেকে বিজ্ঞাপনের স্ক্রিপ্ট হাতে পেয়ে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। তারপর আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন পরিকল্পনায়। কী ছিল প্ল্যানে? জানালেন, ‘কোনো কাজ যখন পাই তখন আমরা ভাবি, কী ধরনের চরিত্র দরকার। সে অনুযায়ী শিল্পী খুঁজতে থাকি। সেনোরা বিজ্ঞাপনটিতে আমরা এমন একজনকে খুঁজছিলাম, যে মেয়েটা একেবারেই নতুন। পর্দায় খুব বেশি দেখা যায়নি। বিজ্ঞাপনের গল্পটা যেহেতু মা-মেয়ের সম্পর্কের, তাই পরিচিত মুখ ভালো সাড়া ফেলবে না। ’

 

নতুন মুখের সন্ধানে

শুরু হলো নতুন মুখের খোঁজ। আদা-জল খেয়ে নামলেন কাস্টিং ডিরেক্টর। ছয়-সাতজনের মতো মেয়ের অডিশন হলো। টিকে গেলেন তাহিয়া। এর আগে টিভিতে খুব একটা দেখা যায়নি তাঁকে। টুকটাক ফটোশুট করেছেন। মায়ের চরিত্রে ঠিক করা হয় চিন্ময়ীকে। মা অবশ্য বেশ কিছু কাজ করেছেন ইতিমধ্যে।

 

শুটিং সেট

কাস্টিং ও প্রি-প্রোডাকশন শেষ। এবার শুটিংয়ের পালা। কোনো কৃত্রিম সেট সাজাতে নারাজ ছিলেন নির্মাতা। মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘কোনো শুটিং সেটে নয়, গাজীপুরের একটি বাসায় কিছু প্রপস আর ফার্নিচার করে সেট সাজিয়েছিলাম। স্যানিটারি ন্যাপকিনের টিভিসিগুলো অনেক বেশি কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়। আমি টিভিসিটা একেবারেই বাস্তব জায়গা থেকে দেখাতে চেয়েছি। বিষয়টি সুন্দর করে না দেখিয়ে সত্যিকারভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছি। ’

 

শুটিংয়ের সাতকাহন

নতুনদের জন্য ক্যামেরার সামনে প্রথম শট সব সময়ই ভীতিকর। কিন্তু তাহিয়া উতরে গেছেন সহজেই। পরিচালক জানালেন, আগে টুকটাক কাজ করলেও বিজ্ঞাপনে তাহিয়া প্রথম। তবে সে খুব ভালো অভিনয় করেছে। খুবই সিরিয়াস পারফরমার। অনেক দিন পর কোনো ভালো পারফরমার পেলাম। ’

শুটিংয়ে হাজারটা ঘটনা ঘটে। কিছু মজার কিছু বিড়ম্বনারও। একটি ঘটনা শেয়ার করলেন মেজবাউর রহমান সুমন। ‘মেয়েটা স্বভাবে খুব শান্ত। যখন ওকে বললাম, তুমি কিসে পড়ো? ও বারবার বলছে, ‘জি ভাইয়া, জি ভাইয়া। ’ আমি ধমক দিয়ে বললাম, বিজ্ঞাপনের চরিত্রটা কিন্তু তোমার মতো না। অনেক চঞ্চল। তুমি যদি এ রকম কথা বলো তাহলে কিন্তু হবে না। ও তখনো বলেই চলেছে, ‘জি ভাইয়া। ’ তখন আমি বললাম, ‘এই, জি ভাইয়া বলবা না। এটা বাদ দিয়ে কথা বলবা। খুবই বিনয়ী মেয়ে। চরিত্রটা যেহেতু চটপটে, তাই একটু ভয়ে ছিলাম। ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পারবে কি না। ’

বিজ্ঞাপনটির খেলার দৃশ্যের শুটিং হয়েছে বিকেএসপিতে। স্কেল দিয়ে মারামারি করার দৃশ্যটা শুটিংয়ের সময় ইউনিটের সবাই মিলে চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন, যাতে করে মডেলরা ফুর্তি পায়। সুমন বলেন, ‘তাহিয়া নিজেই খুব সিরিয়াস। আমাদের সবার উৎসাহ পেয়ে সেসহ অন্য মডেলরা সাবলীলভাবে দৃশ্যটা ওকে করে। আর যখন বাস্কেট বলের শুটিং ছিল, তার আগে টিমের সবাই মিলে ডেমো শট দিয়েছিলাম। পরে যখন শট শুরু হয়, তখন ওরা বুঝতেই পারেনি! ভেবেছে ডেমো শট হচ্ছে। কিন্তু ততক্ষণে আমরা সেই দৃশ্যটা ওকে করে ফেলেছি। বলা যায় অনেকটা ক্যাজুয়াল মুডে দৃশ্যগুলো ধারণ করেছি। ’

 

ক্যামেরার পেছনে যাঁরা

দৃশ্য কামেরায় ধারণ করেছেন কামরুল হাসান খসরু, সহকারী পরিচালক শিমুল চন্দ্র দাস, প্রোডিউসার তানভীর আলম শোভন, পোশাক ডিজাইন করেছেন আনিকা জাহীন, মেকআপ রবীন আহমেদ, মিউজিক ও সাউন্ড ডিজাইন রাশেদ শরীফ শোয়েব। আর্ট ডিরেকশন তারেক বাবলু। এজেন্সি মিডিয়াকম লিমিটেড। প্রোডাকশন হাউস ফেসকার্ড প্রোডাকশন।


মন্তব্য