kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

খুদে মডেল

আমি গাছ খাব!

খুদে মডেল ফারিস ইলাহি। বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে দেখা মিলেছে তার। ফারিসের গল্প শোনাচ্ছেন শোভন সাহা

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আমি গাছ খাব!

ফারিসের বয়স তখন সাড়ে তিন বছর। একদিন বাবার সঙ্গে ধানমণ্ডির মীনাবাজারে যাচ্ছিল।

পথে ফারিসকে দেখতে পান প্রোডাকশন হাউস রান আউটের কাস্টিং ডিরেক্টর ওয়াহিদা। একটি বিজ্ঞাপনের জন্য খুব পছন্দ হয় তাঁর। প্রথমে বাবা তারপর প্রস্তাব যায় মায়ের কাছে। রাজি হন তাঁরা। পরের দিন স্ক্রিন টেস্ট। এক মাসের মাথায় এপেক্স ঈদ ফ্যাশনের বিজ্ঞাপনে কাজের সুযোগ পেয়ে যায় গালভরা হাসিমুখের ফারিস। বিজ্ঞাপনটির স্লোগান ‘সু চেঞ্জ তো লুক চেঞ্জ’। গল্পে এপেক্সের জুতা ব্যবহারের মাধ্যমে লুক চেঞ্জের গল্প তুলে ধরা হবে। ফারিস মডেল নিতুকে আম্মু বলে ডাকবে; এতটুকুই। তবে এখানেই বাধে যত বিপত্তি। সহজ কাজটা ফারিসকে দিয়ে করাতে ইউনিটের সবাইকেই বেগ পেতে হয়। কারণ অন্য কাউকে সে আম্মু বলে ডাকবে না। পুরো ইউনিটই কৌশলে তাকে দিয়ে আম্মু ডাক আদায় করে নেয়! গুলশানের একটি ফ্যাশন হাউসে শুটিং হয়। পরিচালক আদনান আল রাজীব। শুট হয় এক দিন। বিজ্ঞাপনে আরো ছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার শাহরুখ আর মায়ের ভূমিকায় লাক্স তারকা নিতু। পরের বছর এপেক্সের ঈদ ফ্যাশন বিজ্ঞাপনে আবার মডেল হয় ফারিস। বিজ্ঞাপনটিতে এপেক্সের জুতা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকার অভিনয় করে। এরপর থেকেই নিয়মিত মডেলিং করছে সে। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের সংখ্যা ২৫টির বেশি। এর মধ্যে সিটি ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ম্যাগি লুডুলস, মিস্টার নুুডুলস, ফ্রুটো, প্রাণ চকো চকো, প্রাণ ফুটবল গাম, বাংলালিংক, হরলিকস বিস্কুট, গুডলাক বলপেন, এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড সিমেন্ট, ম্যাজিক টিউবওয়েল অন্যতম। ফারিসকে মূলত জনপ্রিয়তা এনে দেয় প্রাণ চকো চকোর বিজ্ঞাপন দুটি। প্রথম বিজ্ঞাপনের গল্পে ফারিস সহমডেল রুসার সঙ্গে বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যায়। বান্ধবী অবনী কী খাবেন জানতে চাইলে রুসা বলে—কাল তো মেঘ খাইয়েছিলেন আজ বরং সূর্য খাই। এ সময় ফারিস কমেডি ভঙ্গিতে বলে—আমি গাছ খাব! রুসা বলে, ‘তুমি চুপ করে বসো, আচ্ছা সারা দিন এত খাই খাই করো কেন? এরপর অবনী প্রাণ চকো চকো দিয়ে গাছ আর সূর্য তৈরি করে আনলে ফারিস আবার অদ্ভুত ভঙ্গিতে বলে, ‘এত কিছু!’ ফারিসের এমন সংলাপে অল্প সময়েই বিজ্ঞাপনটি ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। প্রাণ চকো চকোর দ্বিতীয় বিজ্ঞাপনেও সুযোগ পায় সে। বিজ্ঞাপন দুটির স্লোগান—যা ইচ্ছা খাও।

ফারিস ধানমণ্ডির ইউরোপিয়ান স্কুলের স্ট্যান্ডার্ড ওয়ানে পড়ে। স্কুলের সবাই তাকে হিরো বলে ডাকে। পরিবারে ছোট ভাই আরিল তার সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। বড় হয়ে কী হতে চাও—জানতে চাইলে এক কথার উত্তর—পাইলট। মডেলিং ফান ও পিকনিকের মতো মনে হয় তার কাছে। প্রিয় তারকা তাহসান। তাঁর সঙ্গে একটি নাটকেও অভিনয় করেছে। নাটকে তাকে গল্টু বলে ডাকা হয়। নামটা খুব মজা লাগে তার।


মন্তব্য