kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রিগালের রাজকন্যা

ফেয়ার গ্লো ফেয়ারনেস সোপ, রিগাল ফার্নিচার, বাংলালিংকসহ বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের মডেল মারজানা। শখের বসে মডেলিং করলেও ইচ্ছা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রিগালের রাজকন্যা

মডেলিংয়ে আসবেন—এমন চিন্তাই ছিল না আয়েশা মারজানার। ব্যবসায়ী বাবাকে দেখে ছোটবেলা থেকেই হতে চেয়েছেন তাঁর মতো।

এ জন্য পড়াশোনাও করেছেন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে। মাঝপথে হঠাৎ করেই মডেলিংয়ে আগমন। কিভাবে? ২০১৪ সালের কথা। ফেসবুকে দেবেন বলে ফটোগ্রাফার বন্ধুকে দিয়ে বেশ কিছু ছবি তুললেন একদিন। সেই ছবি আপলোড করেন। গ্ল্যামারাস ছবি দেখে ফ্রেন্ড লিস্টের বন্ধুরা দিতে থাকে লাইক আর শেয়ার। বন্ধুতালিকায় থাকা একজন ছবি দেখে যোগাযোগ করেন আয়েশার সঙ্গে। তিনি একটি প্রোডাকশন হাউসের কাস্টিং ডিরেক্টর। বলেন, বিজ্ঞাপনের জন্য মডেল খুঁজছেন। আয়েশা  রাজি আছেন কি না। ফেসবুকের ছবি দেখে এমন প্রস্তাবে অবাক হয়েছিলেন প্রথমে। পরে নিজের ছবি নিজেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেন। মডেলের মতোই তো লাগে! বাসায় বললেন বিষয়টা। পরিবারের সবাই নিমরাজি। যাঁকে দিয়ে ফটোশুট করেছিলেন, সেই বন্ধুই উৎসাহ দেন—এমন সুযোগ হেলায় হারানো ঠিক হবে না। এর পরই সিদ্ধান্ত। কাস্টিং ডিরেক্টরকে জানিয়ে দেন, মডেলিংয়ে রাজি তিনি। প্রাণ চিয়ার্স বিজ্ঞাপনে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান।

প্রথম বিজ্ঞাপনটি করার পর কেমন অভিজ্ঞতা হলো? আয়েশা বলেন, ‘এত দিন টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেখে এসেছি। যখন সেই বিজ্ঞাপনে মডেলিং করলাম, তখন তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ভয়েও ছিলাম। কখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইনি। ইউনিটের সবাই অনেক সাহায্য করেছেন। সাহসও বেড়ে যায়। ’

প্রথম সব কিছু নিয়েই সবার মধ্যে বাড়তি আগ্রহ থাকে। আয়েশারও ছিল। টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর নিজে থেকে সবাইকে ফোন করেছেন দেখার জন্য। ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন। এরপর আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে সুযোগ। ফ্রেস আটা, হুয়াওয়ে, প্রাণ মিল্ক, প্রাণ অলটাইম বাটার বান, টেল প্লাস্টিক, রিগাল ফার্নিচার, ফেয়ার গ্লো ফেয়ারনেস সোপ, বাংলালিংকসহ আরো কয়েকটি বিজ্ঞাপনে সুযোগ জোটে।

রিগাল ফার্নিচারের বিজ্ঞাপন করতে কক্সবাজারে ইনানী বিচ সংলগ্ন সাদা গর্জনবনে গিয়েছিলেন। বনের মধ্যে শুটিং। আয়েশা রাজকন্যা আর নাহিদ রাজকুমার। বনের মধ্যে সেট। শুটিং করতে গিয়ে এক কষ্টের অভিজ্ঞতা। আয়েশা বলেন, ‘প্রত্যন্ত এলাকা। বিদ্যুৎ নেই। মানুষের বাড়িতে টেলিভিশন নেই। শুটিং জীবনেও দেখেননি তাঁরা। আশপাশের গ্রাম থেকে প্রচুর মানুষ এসে ভিড় জমিয়েছে। একপর্যায়ে সামনে কে দাঁড়াবে তা নিয়ে লেগে গেল ধুন্দুমার। ছুরি নিয়ে একজন আরেকজনের ওপর হামলে পড়ে। অল্পের জন্য আমি নিজেও ছুরির আঘাত থেকে রক্ষা পাই। সেদিন অনেক কষ্ট করে কাজ শেষ করতে হয়েছিল। ’

কষ্ট করলেই নাকি কেষ্ট মেলে। এই বিজ্ঞাপন প্রচারের পর দারুণ সাড়া পেয়েছেন আয়েশা। এর পর ফেয়ার গ্লো ফেয়ারনেস সোপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হন। নতুন বিজ্ঞাপনে পর্দায় হাজির হন গ্ল্যামারাস মারজানা। এটিও বেশ দর্শকনন্দিত হয়।

স্বপ্ন কী? আয়েশা মারজানার উত্তর—‘আমার স্বপ্ন একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়া। সেই লক্ষ্যেই পড়াশোনা করছি। মডেলিং করছি শখের বসে। চাকরির পাশাপাশি মডেলিংটাও চালিয়ে যাব। ’


মন্তব্য