kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

নতুন বউ হিরা

রুখসানা আলী হিরা। র‍্যাম্পের পরিচিত মুখ। মিডিয়ায় শুরুটা বিজ্ঞাপন দিয়ে। মাঝে বিরতির পর ওয়ালটন দিয়ে ফিরেছেন। লিখেছেন মাসিদ রণ

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নতুন বউ হিরা

টিভি দেখছেন। শুরু হলো বিজ্ঞাপন—ঝলমলে নতুন বউয়ের মুখ।

ভারী ডিজাইনের লাল লেহেঙ্গা পরনে, হাতে মেহেদি, পায়ে আলতা। বধূ নিজেই ফোন করে খোঁজ নিচ্ছেন বিয়ের শপিং, নিজের সাজগোজ ঠিক আছে কি না। এমনকি বর ঠিকমতো তৈরি হলেন কি না, বরযাত্রী সময়মতো রওনা করল কি না সব কিছু। মেয়েটি এর সবই করছে ওয়ালটন মোবাইল দিয়ে। গ্ল্যামারের ঝলকে তাক লাগানো এই মেয়েটি হচ্ছেন মডেল হিরা।

এর আগে রয়েল ফ্রিজের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। তবে কি হিরা বিজ্ঞাপনেই বেশি ঝুঁকছেন। হিরা বললেন, ‘র‍্যাম্প আমাকে আজকের হিরা বানিয়েছে। ফ্যাশন জগতের মানুষ আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এখন বিজ্ঞাপনে বেশি দেখা গেলেও কয়েক সপ্তাহ র‍্যাম্পে হাঁটতে না পারলে মন খুব খারাপ হয়ে যায়। ’

একটু পর শোনালেন একেবারেই নতুন এক গল্প। র‍্যাম্প নয়, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দিয়েই মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন এই গ্ল্যামার গার্ল। শুরুটাও ছিল চমকপ্রদ। ২০০৬ সালে প্রথমে বাংলালিংকের বিলবোর্ড দিয়ে শুরু হয় তাঁর ক্যারিয়ার। বিলবোর্ডে তাঁকে দেখে চিনে নেন অভিনেতা-নির্মাতা তারিক আনাম খান। তাঁর নির্দেশনায় ‘ভার্জিন কোল্ড ড্রিংস’-এ মডেলিং করেন হিরা। এতে ওয়েস্টার্ন পোশাক পরা এক তরুণীর সাজে হাজির হন। তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞাপনটি দারুণ সাড়া ফেলে।

এরপর হিরার ক্যারিয়ারে নতুন সংযোজন ২০০৮ সালের ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে খুব একটা জানতেন না। তার পরও টিকে যান সেরা ১০ সুন্দরীর তালিকায়। হিরা বললেন, ‘আমি তখন নিজের যোগ্যতার সঠিক পরিচয় দিতে পারিনি। বয়স অল্প ছিল। বড়দের সঙ্গে সেরা তিনে টিকে থাকতে পারিনি। তবে এখন আফসোস নেই। আমার সময়ে যাঁরা সেরা হয়েছেন, তাঁদের থেকে আমাকে অনেক বেশি লোক চেনেন, ভালোবাসেন। এটাই আমার মেধার পরিচয় বহন করে। ’

লাক্স থেকে বেরিয়ে হিরা অভিনয়ে মন দেননি। মডেলিং টানত বেশি। এ সময় অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও গাজী শুভ্রর নির্দেশনায় বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন করেন। এর মধ্যে ফারুকীর নির্দেশনায় একটেল খুব হিট হয়। অমিতাভ রেজার পরিচালনায় অভিনেতা নাসিমের সঙ্গে করেন ‘হেয়ার কোড হারবাল হেয়ার ডাই’। তবে তাঁর রূপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় গাজী শুভ্রর বানানো ‘মেরিল সোপ’ টিভিসিতে। এতে হিরা দীর্ঘকেশী এক রূপকথার রাজকন্যা। যার চুল বেয়ে প্রাচীর পাড়ি দেয় প্রেমিক পুরুষ। দৃশ্যটি তখন বেশ আলোচিত হয়। ‘এই টিভিসির শুটিং হয় সাভারে অভিনেতা ডিপজলের শুটিং বাড়িতে। অল্প একটু জায়গায় গুহা তৈরি করা হয়। আমাকে শুটিং করতে হয় ওই ছোট্ট গুহায়। একে তো তীব্র গরম, তার ওপর আমার ভারী ঘাগরা পরা, লম্বা চুল। সব মিলিয়ে গরমে মরে যাওয়ার দশা হয়েছিল। ’

এমন ঘটনা ঘটেছে ওয়ালটনেও। এটা করার জন্য সময় পান দুই দিন। নির্মাতা আরো ভালো করতে আরো এক দিন শুটিং করেন। এ জন্য সারা রাত হিরাকে জেগে থেকে শুটিং করতে হয়। ‘কাজটি নিয়ে খুবই প্রশংসা পাচ্ছি। কষ্টের কথা এখন আর মনে নেই। কাজের জন্য আমি যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। তবে তা হতে হবে ভালো পণ্য, গল্প, বাজেট, নির্দেশক ও মানসম্মত পারিশ্রমিকের। ’ বললেন হিরা।


মন্তব্য